নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মান্দায় চকউলী বহুমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাময়িক বরখাস্ত অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতার প্রেক্ষিতে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের চকউলী বহুমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ছাত্র, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ বিক্ষোভ সমাবেশ পালিত হয়।
সমাবেশে স্থানীয়দের মধ্যে রোস্তম আলী, এমদাদুল হক, দেলোয়ার হোসেন, ময়েজ উদ্দিন, মামুনুর রশিদ, গিয়াস উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেনসহ ছাত্র-অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও নিয়োগ বাণিজ্যের তীব্র অভিযোগ তুলে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁকে অবিলম্বে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জোর দাবি জানানো হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্ত প্রতিবেদনে বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূত নিয়োগ, তথ্য গোপন করে এমপিও সুবিধা গ্রহণ, নিয়োগের নামে অর্থ আদায় এবং প্রতিষ্ঠানের তহবিলের টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি আবদুল মান্নানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষা পরিদর্শক মকবুলার রহমান ও অডিটর সিরাজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি এই প্রতিবেদন জমা দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০২ সালের ১ আগস্ট বিধিবহির্ভূতভাবে সহকারী শিক্ষক ও পরে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নেন নজরুল ইসলাম। এমপিওভুক্তির তথ্য গোপন করে ওই সময় থেকে সরকারি বেতন-ভাতা হিসেবে তিনি ৫৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫১ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া আরও ১ লাখ ২০ হাজার ৮০৭ টাকা ফেরতযোগ্য বলে মত দিয়েছে কমিটি। শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের নামে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ‘ডোনেশন’ নেওয়া এবং চারজন শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা নিয়েও তিনজনের টাকা ফেরত না দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফি, সেশন চার্জ, বেতন ও কোচিং ফি বাবদ সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে গভর্নিং বডির অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন তহবিল থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানের পুকুর ইজারা, পুরোনো আসবাবপত্র এবং আম ও গাছ বিক্রি বাবদ প্রাপ্ত ১০ লাখ ৯৫ হাজার টাকাও তহবিলে জমা দেওয়া হয়নি। এসব অনিয়মের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও সরকারি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
গত ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম। তবে অভিযোগ উঠেছে, কলেজে না গিয়েও তিনি ইএফটি’র (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা তুলে নিচ্ছেন। একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়মিত কলেজে না এসেও এভাবে বেতন তোলায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এদিকে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি ও সন্তোষজনক ফলাফল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান এডহক কমিটির শিক্ষানুরাগী সভাপতি আব্দুল মান্নান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম, শিক্ষক প্রতিনিধি আজাহারুল ইসলাম কাজল এবং অভিভাবক সদস্য দেলোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাওয়ায় স্থানীয়রা তাঁদের সাধুবাদ জানিয়েছেন। ২৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী ও প্রায় চার শ শিক্ষার্থীর এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ধরে রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক হওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।