মোঃ কামরুজ্জামান,বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
অবশেষে বাগেরহাট মোড়েলগঞ্জের সেই ১৯ নং ভাটখালি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছকাটার ৯৮ দিন পরে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন বিলম্বে হলেও গত বৃহস্পতিবার বিকালে বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দাখিল করেছে। রবিবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য গত ১৯ আগষ্ট সরকারী ছুটির দিন থাকায় সকালে ১৯ নং ভাটখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ এমদাদুল হক ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করেই বিদ্যালয়ের লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে বিক্রির সময় এলাকাবাসী দেখে শিক্ষাঅফিস ও সাংবাদিকদের বিষয়টি জানায়। এ সময় সাংবাদিকদের দেখে গাছ রেখে কমিটির সভাপতি গা ঢাকা দেয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসা কাটা গাছ গুলো নিলামে বিক্রী করে। এবিষয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় খবর প্রকাশ হলে উপায় অন্তর না পেয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জালাল উদ্দিন খান অবশেষে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার রিপন চন্দ্র মন্ডল কে আহŸবায়ক ও অসিত কুমার ব¤র্œণ কে সদস্য করে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দশ কর্ম দিবসের মধ্যে তাদের রির্পোট দাখিলের নির্দেশনা দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে তদন্ত কমিটি তদন্ত রিপোর্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর দাখিল করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলা শিক্ষা অফিসার জালাল উদ্দিন খান সেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নানএর কাছ থেকে অনৈতিক সুযোগ গ্রহন করার কারনে তার বিরুদ্বে কোন রিপোর্ট উদ্ধোতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করনেনি। সূত্রটি জানায়, জালাল উদ্দিন আহম্মেদ ডিসেম্বরের ৩য় সপ্তাহে এলপিয়ারে যাবেন তাই এ সুযোগ টুকু নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান এর কাছ থেকে।
এবিষয়ে তদন্ত কমিটির আহবায়ক রিপন চন্দ্র মন্ডল বলেন, তদন্তকালে গাছ কাটার প্রমান পেয়েছি, প্রধান শিক্ষক উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অবগতি ছাড়াই এস এমসির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরিত রেজুলেশন করে গাছ কর্তন করেছে। তিনি আরো জানান , উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এসএমসির রেজুলেশনের মাধ্যমে গাছ কর্তনের সিদ্ধান্তবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং আইন লংঘন হয়েছে ।
গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা শিক্ষা অফিসার জালাল উদ্দিন খান জানান, আমার হাতে ইতোমধ্যে তদন্ত রিপোর্ট এসেছে আমি আজ বৃহস্পতিবার জেলা অফিসে পাঠিয়ে দিব। ৬৪ দিন পর কেন এ রিপোর্ট আজ পাঠাবেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন রিপোটে তারিখ ঠিক থাকলেও তদন্ত কমিটি অল্প কিছুদিন আগে আমার দপ্তরে জমা দিয়েছেন। ওনাদের ত অনেক কাজ থাকে তার পর ও পুঁজা ছিল তাই তারা দেরী করেছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে প্রতিবেদন রিপোর্ট পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য আজ (রবিবার) উদ্ধোতন কর্তৃকক্ষের বরাবর প্রেরন করবো। #