অ্যাডভোকেট মোঃ এনামুল হক
বাকস্বাধীনতার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, চরিত্রহনন এবং পরিকল্পিত অপপ্রচার বেড়েই চলেছে। একটি প্রশিক্ষিত গোষ্টি এ কাজটি পরিকল্পিতভাবে শুরু করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। ভিন্নমতকে যুক্তি দিয়ে মোকাবিলা না করে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, বিকৃত উপস্থাপন বা গুজব তৈরির পথ। ফলে একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তে তৈরি হচ্ছে বিভাজন, অবিশ্বাস ও ঘৃণার পরিবেশ।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যা-ই প্রকাশ করা হোক না কেন, তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। অনলাইনেও আইন প্রযোজ্য, এবং অপতথ্য ছড়ানোর জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
হাইপ তুলতে প্রশিক্ষিত ব্যক্তিগুলোর ফেসবুক পোস্টগুলো দেখে মনে হয়, প্রশিক্ষিত ওই কর্মীরা মানসিকভাবে প্রচন্ড অসুস্থ। রাজনৈতিক যত নোংরা গুনাবলী আছে তার সবই এদের ফেসবুক পোস্টে স্থান পেয়েছে/পায়। ফ্যাক্টচেক ছাড়া কোনো তথ্য শেয়ার করা এখন শুধু অনৈতিকই নয়, অনেক ক্ষেত্রে তা আইনগত অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। একটি ভুয়া পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়ে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। এমনকি সামাজিক অস্থিরতাও তৈরি হতে পারে। এক্ষেত্রে আইন বসে থাকতে পারে না। ব্যবহারকারীদের বুঝতে হবে-বাকস্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই বলার অধিকার নয়; বরং তা সত্য, দায়িত্বশীল এবং যুক্তিনির্ভর মতপ্রকাশের সুযোগ। অন্যের সম্মান ও অধিকার ক্ষুণ্ন করে কোনো স্বাধীনতাই টেকসই হতে পারে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সুস্থ ও ইতিবাচক রাখতে হলে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। ডিজিটাল যুগে বাকস্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি অপব্যবহার রোধ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায়, এই স্বাধীনতাই আমাদের সমাজকে বিষাক্ত করে তুলবে-যার ক্ষতি শেষ পর্যন্ত সবারই। সমালোচনার ভাষা এবং প্রচারণার তথ্য সম্পর্কে দায়িত্বশীল না হলে, তাদের জন্য কোন কিছুই স্বাধীন ভাবে ভোগ বা উপভোগ্য নয়।
আইনের শাসন প্রতিষ্টায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল-কে এই জায়গায় আরো বেশি তৎপর হতে হবে ।