• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।। সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৫ প্রবাসীর মরদেহ দাফন নওগাঁর মান্দায় ভালাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের ব্যাপক গণসংযোগ রাজশাহীতে ডিবির অভিযানে পালিয়েছে কুখ্যাত মাদক কারবারী মাসুম ভারতীয় সিরাপসহ প্রাইভেট কার জব্দ, গ্রেপ্তার ১২ রাজশাহীতে পথকুকুরের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন কাজল রেখা রাজশাহীতে ৫২ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারী গ্রেপ্তার বাঘায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২২ বছরের নারীকে কিশোরী দেখিয়ে থানা থেকে ছাড়ার দাবি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে মেয়েরা, ৩৯ কলেজে কেউ পাস করেনি নওগাঁর মান্দায় এমপির সঙ্গে প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়

একই রাস্তায় পৃথক দুটি প্রকল্পের কাজ দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

দিনকাল বিডি / ২০৯ Time View
প্রকাশঃ সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২২

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলা ভিতরবন্দ ইউনিয়নে চলছে তুঘলকি কারবার। অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসুচির (৪০দিনের কর্মসৃজন মাটির কাজ) শ্রমিক দিয়ে রাস্তা সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কাবিটা’র (কাজের বিনিময়ে টাকা) কাজ। এ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বানিয়ার ভিটা ওয়াহেদ পুলিশের বাড়ি থেকে ভুটামারী পর্যন্ত রাস্তার সংস্কার কাজে এ পুকুর চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভুয়া প্রকল্পের নামে এখান থেকে তিন লাখ ২৮ হাজার টাকা লোপাটের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন চেয়ারম্যান শফিউল আলম ও প্যানেল চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম।

সরেজমিনে দেখা যায়, বানিয়ার ভিটা মাটির রাস্তায় চলাচলের উপযোগি। কিন্তু সেখানে ৪০দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচির শ্রমিকরা কাজ করছেন। শ্রমিকরা সেই প্রকল্পের আওতায় মজুরী পাবেন। অথচ এটিকে দেখানো হয়েছে কাবিটার কাজ। এক রাস্তা সংস্কারে পৃথক দুই প্রকল্প দেখানোর ঘটনায় চাঞ্ছল্য সৃষ্টি হয়েছে। ভিতরবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফির বিরুদ্ধে উঠেছে সীমাহীন দূর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার,পেশি শক্তির দাপট, ভিজিএফ ও ভিজিডির মাল আত্মসাৎসহ বিস্তর অভিযোগ। মৃত: ব্যক্তির নামে ভিজিএফের চাল আত্মসাৎ করার চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। ইউপি সদস্যদের অনাস্থা’র অভিযোগের পেক্ষিতে নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ভোটাভুটির আয়োজন হয় ইতিপূর্বে।

চেয়ারম্যানসহ অপর ১২জন ইউপি সদস্য ভোট প্রদান করে। ভোট গণনা করে ১১ এবং ২ ভোটে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হয়। নাগেশ্বরী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন এ ফলাফল ঘোষণা করেন। জেলা প্রশাসক চিঠির মাধ্যমে গৃহীত অনাস্থা প্রস্তাবের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রালয়ে প্রায় ৩মাস আগে পত্র প্রেরণ করলেও অদৃশ্য কারণে আজও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক মজিবর রহমান, নুর হোসেন, মানিক, আবেদ আলী ও কাঞ্চন বলেন, আমরা সবাই কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিক হিসাবে কাজ পেয়েছি চেয়ারম্যানকে ৫শত টাকা উৎকোচ দিয়ে। এ্যালা শুনি এই মাটি কাটার রাস্তায় ফির নাকি কাবিটার কাজ হবে।

নাগেশ্বরী উপজেলার ৯নং ভিতরবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ পুরনো। নতুন করে ৪০দিনের কর্মসৃজন কর্মসুচিতে আপন ভাই, আত্মীয়,অবস্থা সম্পন্ন স্বচ্ছল ব্যক্তিদের তালিকা ভুক্ত করেছেন। এক নং ওয়ার্ডে আপন ভাই রফিকুল ইসলাম কার্ড নং ১৭৭৯। তিনি প্রায় ৮ বিঘা জমির মালিক এবং নিজস্ব গভীর নলকূপ আছে। চেয়ারম্যানের ভাই বউ খোদেজা বেগম কার্ড নং ১৭৯৩, চাচাতো ভাই ফকরুল ইসলাম কার্ড নং ১৭৯৬ধারী হলেও তিনিও চাকুরীজীবী, ভাতিজি রুজিনা খাতুন। এছাড়াও আত্মীয় ফাতেমা বেগম কার্ড নং ১৮০৫, শরিফা বেগম কার্ড নং ১৮০২, ইব্রাহীম আলী কার্ড নং ১৭৮৩, মানিক মিয়া কার্ড নং ১৭৮২ এবং আক্কাছ আলী কার্ড নং ১৭৮৫। একই ভাবে অনিয়মে জড়িছেন ইউপি সদস্যরাও।

সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য ফাতেমা বেগম তার স্বামী গোলাম রসুলকে তালিকা ভুক্ত করেছেন। তার কার্ড নং ১৮১৫। ৬নং ওয়ার্ড সদস্য ফেরদৌস আলী তার স্ত্রী নুরনাহার বেগমকে তালিকা ভুক্ত করেছেন। নুরনাহার বেগমের কার্ড নং ১৯৭৪। এরকম সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সরকারের দেয়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচিতে চেয়ারম্যান কয়েকজন ইউপি সদস্যকে নিয়ে বীর দর্পে চালিয়ে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগী অসহায় মানুষরা বারবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিচ্ছেন,সাক্ষ্য দিচ্ছেন,অভিযোগ প্রমাণিত হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করাও হতাশ ভুক্তভোগীরা।

এই প্রকল্প এলাকার হতদরিদ্র আব্দুর রহমান, মাইদুল, মকছেদ আলী ও আব্দুল গফুর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগে বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে চেয়ারম্যান শফিউল আলম তাদেরকে ৪০দিনের কর্মসৃজন কাজের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। ফলে তারা কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অন্যদিকে এ কাজে তালিকা ভুক্ত করা হয়েছে নিজের পরিবারের, আত্মীয়স্বজন এবং স্বচ্ছল অবস্থা সম্পন্ন ব্যক্তিদের। তারা আরও বলেন,একটি ভালো রাস্তায় নামমাত্র মাটি ফেলে সংস্কার দেখিয়ে সরকারের লক্ষ-লক্ষ টাকা অপচয় করা হচ্ছে।

রাস্তার কাবিটা প্রকল্পের প্রকল্প চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, কাবিটার কাজ এখনও শুরু হয়নি। তবে ঐ রাস্তায় ৪০দিনের কর্মসৃজন কাজের আওতায় মাটির কাজ করা হচ্ছে। একই স্থানে দুই ধরণের প্রকল্পের কাজ কি ভাবে হয় জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
১ নং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য ফাতেমা বেগম বলেন, ১৮১৫ নং কার্ডধারী আমার স্বামী। গরিব জন্য শ্রমিক হিসাবে তালিকা ভুক্ত করেছি।
৬নং ওয়ার্ড সদস্য ফেরদৌস আলী স্বীকার করেন,১৯৭৪ নং কার্ডধারী নারী শ্রমিক তার স্ত্রী নুরনাহার বেগম। স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামের বেতনের টাকা যোগাতে এ নাম দেয়া হয়েছে।

ভিতরবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল আলম বলেন, সকল নিয়ম মেনেই ৪০দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে। এখন দ্বিতীয় দফায় কাজ চলছে। প্রতিজন শ্রমিক প্রতিদিন ৪শত টাকা করে পাবেন। শ্রমিকদের কাছ থেকে উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। এছাড়া অন্যান্য অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যে ও বানোয়াট। একটি পক্ষ আমাকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণের জন্য দীর্ঘদিন থেকে ষড়যন্ত্র করে আসছে। ব্যর্থ হয়ে আবারও অভিযোগ করেছে। তদন্ত করলেই প্রকৃত সত্য বেড়িয়ে আসবে। ৬০বছরের উর্ধ্বে যাদের বয়স তাদের শ্রমিক হিসাবে তালিকা ভুক্ত করার সুযোগ নেই। এ কারণে অভিযোগকারীরা তালিকা ভুক্ত হতে পারেনি। যাদেরকে আমার আত্মীয় বলা হয়েছে তারা সবাই গরীব।

কুড়িগ্রাম স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক মিনহাজুল ইসলাম(উপ-সচিব) অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, রোববার নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও)কে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও তিনি আরও বলেন,ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আলম এর বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের রিপোর্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।

উল্লেখ্য,ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল আলমের বিরুদ্ধে গত ঈদুল আজহা ঈদে তালিকা ভুক্ত দু’সহস্রাধিক দু:স্থ মানুষকে ভিজিএফের চাল না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। সেই তালিকায় মৃত: ব্যক্তির নামে ভিজিএফ এর চাল বরাদ্দ, একই ব্যক্তির নাম,একই পরিবারে একাধিক ব্যক্তিকে কার্ড প্রদানসহ স্বচ্ছল ব্যক্তিদের ভিজিএফ বরাদ্দ দেয়া হয়। ট্যাক্সের টাকা আত্মসাৎ,বিধি বহির্ভূত ভাবে হাট ইজারা প্রদান করা, গেজেট ছাড়াই ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন। ছেলের দখলে ইউনিয়ন পরিষদের ২টি রুম নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা। ইউপি সদস্যদের বসার রুমে অবৈধ ট্যাক্স আদায়কারীদের আবাসনের ব্যবস্থা করাসহ নানান অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিবাদে ইউনিয়নের ১১জন ইউপি সদস্য লিখিত অভিযোগে অনাস্থা প্রস্তাব আনে।
এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ অভিযোগপত্র পেয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের প্রতিশ্রুতি দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category