• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য: কৃষিমন্ত্রী রাজশাহীতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সেবার মান বাড়াতে কমিশনারের নির্দেশনা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় নওগাঁর মান্দায় কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত নওগাঁ জেলা জামায়াতের নেতৃত্বে পরিবর্তন, নতুন আমির মাহফুজুর রহমান নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য হলেন প্রভাষক আবু সাঈদ কুষ্টিয়ায় মৃত চেয়ারম্যানের নামে ১০৭ বস্তা চাল বরাদ্দ ফুলবাড়ী উপজেলার মাদিলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাণীনগরে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু কৃষকের ঘরে আসছে নতুন সোনালী ফসল রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।।

“একটি দিন নয়,প্রতিদিনই হোক বাবা দিবস”

দিনকাল বিডি ২৪ / ১৮২ Time View
প্রকাশঃ রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫

বিজয় কুমার,বিশেষ প্রতিনিধি :

“বাবা” একটি ক্ষুদ্র শব্দ তবু এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক মহাকাব্য। বাবা মানে বটবৃক্ষের মতো—অটল ছায়া, অসীম দায়িত্ব, নিরব ভালোবাসা আর অকৃত্রিম ত্যাগের গল্প। বাবা দিবস আসে বছরে একবার, কিন্তু বাবার ভালোবাসা কি শুধুই একটি দিনের জন্য? তিনি তো আমৃত্যু আমাদের পাশে থাকেন—অদৃশ্য ছায়ার মতো, নিঃশব্দে সবকিছু সামলে নিয়ে।যখন আমরা বাবা দিবস পালন করি, তখন কি কেবলই একটি আনুষ্ঠানিকতা পালন করি, নাকি সত্যিকার অর্থেই বাবার ত্যাগের মূল্য বুঝতে পারি? সত্যি কথা বলতে, বাবা দিবস হওয়া উচিত প্রতিদিনের অনুভূতি। কারণ, যে মানুষটি আমাদের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ছায়ার মতো সঙ্গ দেন, তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কি নির্দিষ্ট দিনের প্রয়োজন হয়?
বছরের নির্দিষ্ট একটি দিনে বাবাকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানো নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।কিন্তু প্রশ্ন থাকে—এই ভালোবাসা ও সম্মান কি শুধু একটি দিনের জন্যই সংরক্ষিত? আমাদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে, প্রতিটি বাঁকে যে মানুষটি নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকেন ছায়ার মতো, যিনি নিজের স্বপ্নগুলো বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যতের পথ তৈরি করেন, সেই বাবার জন্য কি শুধু একটি দিন যথেষ্ট? বাবা দিবস উদযাপন হোক আমাদের চেতনায় প্রতিদিনের বিষয়—এই হোক আমাদের চিন্তা ও চর্চা।
বাবা দিবসের ইতিহাস শুধু একটি ছুটির গল্প নয়—এটি মানবিক সম্পর্কের গভীরতা, ভালোবাসার স্বীকৃতি এবং পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্বের প্রতীক। ১৯০৮ সালে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার একটি গির্জায় প্রথম বাবা দিবসের প্রস্তাব করা হয়। এটি ছিল একটি খনি দুর্ঘটনায় নিহত ৩৬২ জন শ্রমিকের স্মরণে, যাদের অনেকেই ছিলেন বাবা।
১৯০৯ সালে ওয়াশিংটনের সোনোরা স্মার্ট ডড নামে এক নারী আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবসের ধারণা প্রচার করেন। তার বাবা উইলিয়াম জ্যাকসন স্মার্ট একজন গৃহযুদ্ধের ভেটেরান ও একক অভিভাবক ছিলেন, যিনি ছয় সন্তানকে একাই লালন-পালন করেছিলেন। সোনোরা চেয়েছিলেন মা দিবসের মতোই বাবারাও যেন তাদের অবদানের স্বীকৃতি পান।এবং ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো “Father’s Day” উদযাপন করেন ওয়াশিংটনের স্পোকেন শহরে। ১৯৭২ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এটি প্রতি বছরের জুন মাসের তৃতীয় রবিবার “বাবা দিবস” হিসেবে ঘোষণা করেন।
বাবা দিবস যেন শুধুমাত্র একটি প্রতীকী দিনেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং প্রতিদিনের জীবনে বাবার অবদান ও ভালোবাসাকে মনে রাখা হোক, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হোক।আমরা যেভাবে মা’কে প্রতিনিয়ত অনুভব করি, ঠিক তেমনভাবেই বাবাও আমাদের জীবনের প্রতিটি ধাপে পাশে থাকেন। তিনি অনেক সময় আবেগ লুকিয়ে রাখেন, ভালোবাসা প্রকাশ করেন না মুখে, কিন্তু তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত, পরিশ্রম ও আত্মত্যাগ সন্তানের ভবিষ্যতের ভিত গড়ে তোলে।
শুধু বছরে একদিন “বাবা দিবস” বলে ছবি পোস্ট বা উপহার দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং আমাদের উচিত, জীবনের প্রতিটি দিনই বাবার প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার মনোভাব রাখা। যেমনটি আমরা তার ত্যাগে, সহযোগিতায় ও সাহচর্যে প্রতিনিয়ত ঋণী হয়ে থাকি।
পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি সন্তানের জীবনে “বাবা” একটি অবিচ্ছেদ্য শক্তির নাম। তিনি নিঃশব্দে, অব্যক্তভাবে, নিজের স্বপ্নগুলো পেছনে ফেলে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে দিনরাত পরিশ্রম করেন। বাবার এই আত্মত্যাগ ও ভালোবাসার ঋণ কোনোদিন শোধ করা সম্ভব নয়। তবুও সন্তানেরা বাবার প্রতি কিছু ন্যূনতম দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে তাঁর ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারে।
বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অনেক সময় আমরা বাবার ত্যাগকে স্বাভাবিক ধরে নেই, কিন্তু তা কখনোই উপেক্ষা করার মতো নয়। প্রতিদিন ছোট ছোট কথায়, কাজে বা আচরণে তাঁকে সম্মান জানানো উচিত। বাবারা দিনের বড় একটা সময় আমাদের জন্য কাজ করে কাটান। তাঁদের চাওয়া খুবই সামান্য—কিছুটা সময়, একটু মনোযোগ। আমরা যদি একটু সময় দিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলি, তাঁর গল্প শুনি, তাঁর অনুভূতির মূল্য দিই—তবে তা তাঁর জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি হয়ে ওঠে।
বাবা একা জীবনের সব ভার বহন করেন—সন্তান হিসেবে আমাদেরও উচিত সংসারের কিছু দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া। অর্থনৈতিকভাবে, মানসিকভাবে বা পারিবারিক সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ করেও আমরা তাঁর পাশে দাঁড়াতে পারি।বাবা আমাদের লালন-পালন করতে গিয়ে নিজের সঞ্চয় বা সুখ বিসর্জন দেন। তাই তাঁর বাকি জীবন যেন স্বাচ্ছন্দ্যে কাটে, তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাবারা দুর্বল হন—তাঁদের শরীর আর আগের মতো থাকে না। আমাদের উচিত তাঁদের নিয়মিত চিকিৎসা, বিশ্রাম ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করা। সময়মতো ওষুধ খাওয়ানো, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া—এই ছোট কাজগুলো অনেক বড় অর্থ বহন করে।
বাবার প্রয়োজন মেটানো ,তাঁর সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করা (যেমন: পরিবারের সিদ্ধান্তে তাঁর মতামত নেওয়া) এবং তাঁর ইচ্ছা ও স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করা।বাবা শুধু রুটি-কাপড়ই দেন না, তিনি নৈতিকতা, সততা ও পরিশ্রমের শিক্ষাও দেন। তাঁর এই শিক্ষাকে জীবনে বাস্তবায়ন করাই তাঁর প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা।
বাবারা হয়তো খুব বেশি আবেগ দেখান না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে সন্তানের ভালোবাসার জন্য আকুল থাকেন। তাঁর পাশে দাঁড়ানো, তাঁকে জড়িয়ে ধরা, কিংবা একসাথে বসে চা খাওয়াও হতে পারে তাঁর জীবনের আনন্দময় মুহূর্ত।
বাবা আমাদের জীবনের ছায়া, ভরসা ও নির্ভরতার প্রতীক। তিনি যতটা আমাদের জন্য করেছেন, আমরা কখনোই তার পুরোটা ফিরিয়ে দিতে পারব না। কিন্তু তাঁর প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে, প্রতিদিন তাঁকে ভালোবাসা দিয়ে অন্তত আমরা তাঁর মুখে একটু প্রশান্তির হাসি এনে দিতে পারি। সেটিই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য, এবং তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় উপহার।
বাবা সেই মানুষ, যিনি নিজের চাওয়া-পাওয়াকে বিসর্জন দিয়ে সন্তানের হাসিতে জীবনের সুখ খুঁজে পান।বাবা দিবস একটি প্রতীকী দিন—আমাদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য, যে আমরা কারও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও পরিশ্রমের ঋণী।কিন্তু এই স্মরণ যেন একদিনেই শেষ না হয়। বরং আমাদের প্রতিদিনের আচরণ, ব্যবহার, ও আন্তরিকতায় প্রতিফলিত হোক বাবার প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ। বাবা দিবসের আসল বার্তা শুধু ফুল, কার্ড আর ছবি পর্যন্ত না রেখে, বাস্তব জীবনে বয়ে নিয়ে যাই। বাবার পাশে থাকি, তাঁর কথা শুনি, তাঁর অবদানকে মূল্য দিই। বাবাদের একটু ভালো রাখার চেষ্টা করি।এই হোক আজকের বাবা দিবসে সকল সন্তানদের প্রতি আমাদের চাওয়া।
লেখক: বিজয় কুমার
সাবেক শিক্ষার্থী
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category