মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: রাজশাহী নগরীর মতিহার থানাধীন ভাল্লুক পুকুর গ্রামে প্রায় ২০ বিঘা আয়তনের তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন করছেন মোঃ মুন্টু নামের এক ব্যক্তি। পুকুর খনন ঠেকাতে গত ১মাস যাবত স্থানীয়রা বিভিন্ন কর্মকর্তা ও নেতাদের দারস্থ হচ্ছেন। কারন বর্ষা মৌসুমে গ্রামের রাস্তায় পানি উঠবে এবং তারা বিপদে থাকবেন। গত অনুমানিক ১৫দিন পূর্বে ইউএনও পবার নেতৃত্বে পুকুর খনন বন্ধে অভিযান পরিচালনা হয়। ওই সময় ভাংচুর করা হয় ভেকু মেশিন। এরপর প্রায় ৭দিনের মতো পুকুর খনন কার্যক্রম বন্ধ ছিলো। গত অনুমানিত ১৫দিন যাবত রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত ২/৩ টি ভেকু মেশিন দিয়ে পুকুর খনন করা হচ্ছে। সেই ফসলি জমির মাটি ৩৫/৪০টি ট্রাক্টরে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটায়। প্রকাশ্যে অবৈধ ভাবে এই কার্যক্রম চললেও অজ্ঞাত কারনে প্রশাসনিক কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। এ নিয়ে স্থানীয়রদের মধ্যে ব্যপক গুঞ্জন ও ক্ষেভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় যুবক রাকিব জানায়, আমাদের বাড়ির রাস্তায় বর্ষার সময় পানি কাঁদা জমে। চলা-ফেরা করা যায় না। তাই কয়েক বাড়ির সদস্যরা একত্রে হয়ে ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা খরচ করে রাস্তা তৈরী করেছি। সেই রাস্তা দিয়ে চলছে মাটি বাহি ট্রাক্টর। ইতিমধ্যেই পুরো রাস্তা ধ্বংস হয়ে গেছে। ট্রাক্টর চলাচলে বাড়ি ঘর ফেটে যাচ্ছে। পুকুর খননের কারনে বর্ষা মৌসুমে এলাকায় পানি উঠে যাবে। তার দাবি, টাকা খেয়ে অন্যায় কাজে সহযোগীতা করছেন কর্তা ব্যক্তিরা। কষ্টে থাকবো আমরা। তিনি আরও বলেন, পুকুর মালিক মুন্টু প্রকাশ্যে ৩০/৪০জন গুন্ডা বাহীনি প্রহরায় রেখে ৩টি ভেকু মেশিন দিয়ে পুকুর খনন করছেন। ৩৫/৪০টি ট্রাক্টরে মাটি বহন করে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটায়। পুকুর খননকারী প্রকাশ্যে বলছেন, ইউএনও পবা এবং মতিহার থানার ওসিকে টাকা দিয়ে পুকুর কাটছি। কারও কথা শোনার টাইম নাই। তার সামনে মুখ খুলবে গ্রামে এইরকম কোন ব্যক্তিও নেই।
একধিক স্থানীয়রা জানায়, সোমবার সকাল থেকে পুকুর খনন কার্যক্রম শুরু করে মুন্টু। সকাল ১১টার দিকে মতিহার থানার একভ্যান পুলিশ আসে। মুন্টুর সাথে আড়ালে কথা বলে চলে যায়। ওই সময় পুকুর খনন বন্ধের জন্য আমরা এসআইকে অনুরোধ করি। তিনি বলেন, আমার ক্ষমতা নাই। তার মানে আইনের চেয়ে অন্যায়কারী বেশি শক্তিশালি। তারা আরও বলেন, ইউএনও পবা স্যারকে একাধীক বার ফোন দিয়েছি, তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন বলছেন। কি ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন দেখার জন্য অপেক্ষা করছি সকাল ১১টা থেকে এখন সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। বাস্তবতা হলো দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা এখনও গ্রহণ করেন নি তিনি।
পুকুর খননের জন্য অনুমোদন নিয়েছেন কি না মুঠো ফোনে জানতে চাইলে, পুকুর খননকারী মোঃ মুন্টু জানায়, টাকা থাকলে অনুমোদন নেয়া লাগেনা। থানা আর জায়গা মতো টাকা দিলেই হয়। আসেন দেখা করে খরচ নিয়ে যান।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে, মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, ইউএনও স্যার চাইলে আমি পুলিশ ফোর্স দিয়ে সহযোগীতা করবো। তাছাড়া আমি সেখানে পুলিশ পাঠাবো না।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও (পবা) লসমী চাকমা জানান, স্থানীয়দের দেয়া ফোনে বিষয়টি জেনেছি। ব্যবস্থা নিচ্ছি।
পুকুর খননের ব্যপারে মুঠো ফোনে রাজশাহী জেলা প্রশাসক মোঃ শামীম আহমেদকে অবগত করা হলে, তিনি বলেন, ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
উল্লেখ্য, ফসলি জমির শ্রেণী পরিবর্তন করা যাবেনা। তিন ফসলি জমিতে পুকুর বা প্রজেক্ট নয়। বার বার সরকার এমন নির্দেশ দিলেও তা মানছে না অসাধু ব্যক্তিরা। এরই মধ্যে হাজার, লাখ বিঘা ফসলি জমি বিলিন হয়েছে। মাটি গিলেছে ইটভাটায়। রাজশাহীর গ্রামঞ্চলের দিকে তাকালে দেখা যাবে, ফসলি জমিতে পুকুর আর পুকুর। এ সকল অন্যায়কারীরা নিজ নিজ এলাকার পাতি নেতা ও পাতি গুন্ডা। তাদের সহযোগী কিছু উচুঁ পর্যায়ের নেতা ও প্রশাসনের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত।