কালাই প্রতিনিধি মোঃ ফারুক হোসেন:
সারাদেশে চলছে তাপপ্রবাহ এর কমতি নেই জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায়। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় যেন আতঙ্কিত মানুষ। তারা সারাদিনের কাজ সকালে করার চেষ্টা করছে। বেলা যইত গড়তে থাকে ততই মাঠ, রাস্তা, পথ-ঘাটে মানুষ জনকে তেমন চোখে পরেনা। আর দুপুর-বিকাল এ সময়ের মধ্যে খুব প্রয়োজন ছাড়া কাউকে চোখে পরেনা। তাপরও অতি মাত্রায় তাপপ্রবাহের কারনে প্রতিনিয়ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়ছে জ্বর, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
মঙ্গলবার সকালে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে কোন শয্যা ফাঁকা নেই। ওয়ার্ডগুলোতে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। জরুরি বিভাগ ও বহিঃ বিভাগে অনেক ভিড়। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন।
কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানা যায়, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। বেশির ভাগই শিশু ও বয়স্ক রোগী। গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে শিশু, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে ৪৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে এবং বর্তমানে হাসপাতালে ৮৪ জন রোগী ভর্তি আছে। যাদের বেশির ভাগই ডায়রিয়া, জ্বর, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত। এছাড়াও বহিঃবিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন।
উপজেলার মোসলেমগঞ্জ এলাকার আনোয়ার হোসেন পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি তিনি জানান পেটের সমস্যা ও গরমে ডায়রিয়া লক্ষণ মনে করে আজকে সকালে ভর্তি হয়েছেন।
কালিমহর মহল্লার শাহিনুর ইসলাম জানান শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি তার বারো মাস বয়সী শিশু। জ্বর ও বমি নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। গরমে শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে, কিছু খেতে পারছেন না।
আওড়া মহল্লার রবিউল ইসলাম জানান সতেরো মাস বয়সী তার শিশু একদিন আগে জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। এখনো ভালো হচ্ছে না। তীব্র গরমের কারনে বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পরেছে।
কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমেেপ্লক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রেজাউল করিম বলেন, হাসপাতালে গরমজনিত রোগ নিয়েই ভর্তি হচ্ছেন বেশির ভাগ রোগী। তীব্র গরমের কারনে রোগীর চাপ বেড়েছে। ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া জনিত আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। প্রতিদিন ৬০/৭০ জন করে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।