এম, এ কাশেম, পাঁচথুরী কুমিল্লা থেকে ফিরে :: কুমিল্লায় গভীর রাতে বাড়ি থেকে যৌথ বাহিনীর হাতে আটক এক যুবদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। অমানবিক নির্যাতনের কারণে মোঃ তৌহিদুল ইসলাম (৪২) নামের ওই যুবদল নেতা মারা গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
নিহতের শরীরে নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন থাকার কথা ও জানিয়েছেন চিকিৎসক ও তার স্বজনরা।
মৃত্যু বরণকারী যুবদল নেতা তৌহিদুল ইসলাম কুমিল্লা সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক এর দায়িত্ব রত: ছিলেন। এবং তিনি একই ইউনিয়নের ইটাল্লা গ্রামের বাসিন্দা।
তৌহিদুল চট্টগ্রাম বন্দরে একটি শিপিং এজেন্টে চাকরি করতেন। গত রোববার তার বাবা মোখলেছুর রহমানের মৃত্যুর খবরে তিনি বাড়ি আসেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার তার বাবার কুলখানি হওয়ার কথা ছিলো। তৌহিদুলের মা প্রায় ২০ বছর আগে মারা গেছেন। সংসারে তার স্ত্রী ও চার কন্যা সন্তান রয়েছে।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে থানা পুলিশকে বলা হয়, যৌথ বাহিনীর হাতে আটককৃত তৌহিদুল ইসলামকে নেয়ার জন্য। যখন পুলিশের কাছে তৌহিদুলকে হস্তান্তর করা হয়, তখন তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাকে কেনো আটক করা হয়েছিলো বা কী ভাবে তিনি মারা গেছেন, সে’টি এখনো পরিস্কার নয়।
বিষয়টি বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এর ভিত্তিতে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। তবে, প্রাথমিক ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মারা যাওয়া যুবদল নেতা তৌহিদুলের বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তৌহিদুল ইসলামের ভাই সাদেকুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তারা বাবার কুলখানির আয়োজন নিয়ে কাজ করছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা বাড়িতে আসেন। তাদের সাথে পুলিশের পোশাক পরা কাউকে দেখেননি, তবে, সাদা পোশাকে ৫ জন যুবক ছিলো। বাড়িতে প্রবেশ করেই তারা তৌহিদুলকে আটক করেন। এর পর সবার কাছ থেকে মুঠোফোন কেড়ে নেন। ঘরে ব্যাপক তল্লাশি ও চালান তারা।
তবে, তাতে কিছু-ই পায়নি তারা। তৌহিদুলকে আটকের কারণ জিজ্ঞস করলে ও তারা কোনো উত্তর দেননি। এক পর্যায়ে তাকে গাড়িতে করে নিয়ে যান। তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা তো দূরের কথা, থানায় একটি জিডিও নেই।
তাঁ কোমর থেকে পায়ের নিচ পর্যন্ত এমন ভাবে পিটিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে যে কালো ফোলা জখমের চিহ্ন রয়েছে। পেট, বুক, পিঠ, পা, গলা সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে শুধুই নির্যাতনের চিহ্ন। স্থানীয় যুবদলের নেতারা দাবি করেন, তৌহিদুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইলেকট্রিক শক ও দেয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নামে আসলে কারা তাকে আটকের নামে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেলো এবং তাকে কেনো-ই বা নির্যাতন করে প্রাণে মেরে ফেলা হলো তার সঠিক রহস্য উদ্ঘাটন করে জনসম্মুখে প্রকাশ করা এখন বিএনপি’র হাই কমান্ড, জেলা উপজেলা নের্তৃবৃন্দের ওপর বর্তাবে। এর সত্যতা তুলে ধরতে না পারলে দলীয় নের্তৃবৃন্দের দায় এড়ানোর ও সুযোগ থাকবে না বলে মনে করেন দলের সাধারণ নেতা-কর্মী সহ এলাকার বিভিন্ন লোকজন
খবর আমাদের এ প্রতিবেদক ঘটনাস্থল তার বাড়ি এলাকাঢয় গিয়ে দেখতে পান এলাকার একজন মানুষের এমন ধরনের মৃত্যুতে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। পুরো গ্রামের মানুষ যেনো শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছে।
তার রেখে যাওয়া স্ত্রী ও চার কন্যা সন্তানের কান্না-আহাজারী এবং তার পরিবারের অন্যান্যদের ও ক্রন্দন-বিলাপে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
আলাপ কালে একবাক্যে সবাই এমন জঘন্য তম: মৃত্যু ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানান।