শাহীন আলম লিটন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি !!!
কুষ্টিয়া–৪ (কুমারখালী–খোকসা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর পরাজয়কে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলনের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারী ) দুপুরে কুমারখালী হলবাজার সংলগ্ন উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং যুবদলের ব্যানারে পৃথক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমান। এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল উদ্দিন বাবুসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে যুবদলের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ওবাইদুল ইসলাম রিপন। এ সময় যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম ও ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে লুৎফর রহমান বলেন, ২২ ফেব্রুয়ারী কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ আমজাদ আলী যে অভিযোগ তুলেছেন, তা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, মনোনয়নবঞ্চিতদের কারণে নয়; বরং অদক্ষ ও অসাংগঠনিকভাবে নির্বাচন পরিচালনার কারণে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।
নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী মো. আফজাল হোসেন এক লাখ ৪৮ হাজার ২০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী পান এক লাখ ৩৯ হাজার ৬০৩ ভোট। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিকও ছিলেন।
লুৎফর রহমান বলেন, তিনজন মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্তে মেহেদী আহমেদ রুমীকে মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং সবাই তার পক্ষে কাজ করেছেন। তবে অভিযোগ করেন, প্রার্থী ত্যাগী ও সাংগঠনিক নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে কুমারখালী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আইনজীবী শাতিল মাহমুদ ও সাবেক জ্যেষ্ঠ আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চুর মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করেন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন না; ফলে সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ মুখ ফিরিয়ে নেয়।
অন্যদিকে যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ওবাইদুল ইসলাম রিপন বলেন, যুবদলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। আহ্বায়ক জাকারিয়া আনছার মিলনের নেতৃত্বে তারা সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। এ বিষয়ে ছবি ও ভিডিও প্রমাণ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক বলেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অদক্ষতা ও ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে প্রার্থী অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়েন। ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এখন পরাজয়ের দায় এড়াতে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রার্থীসহ মনোনয়ন বঞ্চিতদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে সমর্থনের আশ্বাস দেওয়া হলেও ভেতরে ভেতরে কেউ কেউ প্রতিপক্ষের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। দলীয় কিছু নেতাকর্মীর ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ কারণেই ধানের শীষ পরাজিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা কমিটিকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।