এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম :: চট্টগ্রামের পটিয়ায় উপজেলা নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থী কে ভোট দিয়ে বের হয়ে আসার পর ওই ভোটারের মাথা ফাটিয়ে দেন প্রতিপক্ষের লোকজন। মাথা ফাটিয়ে যাওয়ার পক্ষিয়রা এ সময় সড়কে অবরোধ করে। আজ বুধবার সকাল ১০টায় পটিয়ার পূর্ব পিঙ্গলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। সূত্র জানায়, পটিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দিন স্থগিত হওয়া পূর্ব পিঙ্গলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ চলাকালে আজ বুধবার সকাল ১০টায় সড়ক অবরোধ করা হয়েছিলো। পাশাপাশি ভোট দিয়ে বের হওয়ার পর এক ভোটারের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন প্রতিপক্ষের লোকজন।
আহত ব্যক্তির নাম সিদ্দিক আহমদ ওরফে ফারুক। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আহত ব্যক্তি জানান, ভোট দিয়ে বের হওয়ার সময় কেন্দ্রের মুখে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সালেহ মোঃ শাহরিয়ারের লোকজন তাকে মারধর করেন। সিদ্দিকের বাড়ি পিঙ্গলা ১ নং ওয়ার্ডে।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন বলেন, মনে হয় দুই প্রার্থীর লোকজনের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এদিকে, সকাল ১০টার দিকে ভোট কেন্দ্রের অদূরে পিঙ্গলার টেক এলাকায় একজন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর অনুসারীরা গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করেন।
তাদের বুকেৎও ছিলো উড়োজাহাজ প্রতীকের ব্যাজ। এ সময় তারা ভোটার এবং সাধারণ লোকজনকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেন। এর আগে তারা পুলিশের সাথে ও সংঘর্ষে জড়ান। পুলিশ ধাওয়া দিলে শুরুতে সড়ক অবরোধকারীরা সরে গেলেও পরে তারা ফিরে এসে বড় বড় গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় ছবি তোলার চেষ্টা করলে সাংবাদিকদের হুমকি দেয় সড়ক অবরোধকারীরা।
ঘটনার বিষয়ে পটিয়া থানার ওসি জসীম উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। সড়ক অবরোধ সরানো হয়েছে। এখন কোনো বাধা নেই। কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হচ্ছে।
আজ সকালে এই কেন্দ্রে শতো শতো মানুষ লাইনে দাঁড়ান ভোট দেয়ার জন্য। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মানুষ স্বাভাবিকভাবে ভোট দিচ্ছিলেন৷ ১০টি বুথের সামনেই ভোটারের লাইন ছিলো। সড়ক অবরোধের পর কেন্দ্রে ভোটার কমে যায়। পরে ১১টার মধ্যে পুরো কেন্দ্র খালি হয়ে যায়।
অবরোধের পর ভোট কেন্দ্র থেকে ভোটাররা চলে যান, ফাঁকা হয়ে পড়ে কেন্দ্রটি।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মে তৃতীয় ধাপে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের পূর্ব পিঙ্গলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রবেশ করেন দুই শতাধিক বহিরাগত। তারা ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, সিল, কালি সহ ভোটের সরঞ্জাম নিয়ে চলে যান।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করেন। ২৯ মে গভীর রাতে স্থগিত কেন্দ্রটি বাদে পটিয়া উপজেলা পরিষদের ১২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৭টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হয়।
পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে আবু ছালেহ মোহাম্মদ শাহরিয়ার (উড়োজাহাজ) ২৩ হাজার ৮৫০ ভোট এবং নিকটতম এমদাদুল হাসান (বই) ২৩ হাজার ৭৩ ভোট পান। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মাজেদা বেগম শিরু (কলস) ২৪ হাজার ৮৯৪ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। তার নিকটতম: সাজেদা বেগম (প্রজাপতি) ২৪ হাজার ৭৩১ ভোট পেয়েছেন। এতে দুই ভাইস চেয়ারম্যান পদেই জয়-পরাজয় ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। স্থগিত হওয়া পূর্ব পিঙ্গলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৬১৫।