এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম থেকে : দেশের প্রধান বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সর্বোত্র তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বহমান: রয়েছে। এমতাবস্থায় অনেক মানুষ ঘর/বাসা-বাড়িতে এক প্রকার বন্দী হয়ে পড়েছে। যে সব মানুষ দিন এনে দিন খায় তাদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে।
গত সপ্তাহান্তের তীব্র হাড় কাঁপানো শীত সর্ব শ্রেণী ও পেশার মানুষ কে একেবারেই কাহিলাবস্থায় ফেলে দিয়েছে। যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো তাদের জন্য তেমন একটা দুর্ভোগ চোখে না আট কালেও নিতান্তই দরীদ্র শ্রেণীর মানুষ দুর্ভোগ একেবারেই সীমা ছাড়িয়ে গেছে। চট্টগ্রাম শহরের অবস্থা কিছু টা ভালো হলে ও গ্রামাঞ্চলের মানুষের দুঃখ- দুর্দশা চোখে পড়ার মতো।
এমন অবস্থাতে বিত্তবান মানবিক মনের মানুষের দেখা পাওয়া ভার হয়ে পড়েছে। তবে, কোথাও কোথাও বিএনপির পক্ষ থেকে এবং কোনো কোনো সামাজিক সংগঠন গুলোর পক্ষ থেকে যৎ সামান্য হলে ও শীতার্ত মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণের সংবাদ পাওয়া গেছে।
এ রিপোর্ট লেখার পূর্ব মুহুর্ত্ব (রবিবার ২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২ টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলেনি। একদিকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ অন্যদিকে ঘনকুয়াশা ও হিমেল হাওয়া মানুষের জীবন কেড়ে নেয়ার অবস্থা। এমন শৈত্যপ্রবাহ অতিতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে বলে অনেক মুরব্বী (প্রবীণ মানুষ) শ্রেণীর মানুষের মুখ থেকে শোনা যায়। অনেকেই বলছেন-আল্লাহ্ কি ‘গজব’ নাযিল করে দিয়েছেন এই দেশে (?) তা কেবল তিনি-ই বলতে পারেন। অতিতের সকল ইতিহাস’র রেকর্ড ভঙ্গ করা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ মানুষের জীবন কেড়ে নেয়ার অবস্থার সৃষ্টি! আর জীবিকা নির্বাহ তো রিতি মতো দায় হয়ে পড়েছে।
কর্মজীবি মানুষরা তীব্র শীত’র ধকল সইতে না পেরে ঘর/বাসা-বাড়িতে আটকে পড়ে থাকার কারণে তারা পরিবার-পরিজনের আহার জোগান দিতে না পারায় অনেক কে খেয়ে-না খেয়ে জীবন কাটানোর অবস্থার দিকে ধাবিত হতে হচ্ছে।
এমতাবস্থায় বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার বিত্তবানরা এগিয়ে না আসলে অভাবী-দরীদ্র পরিবারগুলোর কি অবস্থা হবে তা বলাই বাহুল্য।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা গুলোর বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে খবর নিয়ে জানা গেছে, সরকারি ভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার থেকে শুরু করে সরকার দলীয় কোনো নেতা-নেত্রীরা এখনো স্ব স্ব এলাকার কোনো কোনো গ্রাম, পাড়া-মহল্লায় গিয়ে শীতবস্ত্র সহ কোনো ধরনের আর্থিক সাহায্য প্রদান করার নিমিত্তে কোনো অভাবী-দরীদ্র পরিবারগুলোর পাশে গিয়ে দাড়িয়েছে এমন খবর পাওয়া যায়নি।
তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে ব্যস্ততম: বিভিন্ন সড়ক ও বাজার ঘাট একেবারেই ফাঁকা অবস্থায় পড়ে থাকার দৃশ্য পরিলক্ষিত হচ্ছে।