এম, এ কাশেম চট্টগ্রাম, থেকে :: সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসে থামতেই ছোঁ মেরে এক যাত্রীর ব্যাগ-ব্যাগেজ নিয়ে গেলেন এক লোক। তার পিছু পিছু ছুটলেন ওই যাত্রী। নাগাল পেতেই বাকবিতণ্ডা শুরু দুজনের। কুমিল্লা যেতে ওই যাত্রী টিকিট কাটবেন তিশার। কিন্ত ওই লোক অনেকটা জোর-জবরদস্তি করে মানানোর চেষ্টা করছেন আরেক গাড়ির টিকিট কাটতে।
শুক্রবার (১৪ জুন) চট্টগ্রাম নগরের একে খান মোড় এলাকার বেসরকারি কর্মজীবী মিজানুর রহমানের সঙ্গেই ঘটেছে এমন ঘটনা। শুধু তিনি নন, শহরের ওই পয়েন্টে যাত্রার শুরুতেই যাত্রীর মন ক্ষিপ্ত করছে বাসের কমিশন ভিত্তিতে কর্মরত এজেন্ট নামে দালালচক্র।
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে নাড়ির টানে শহর ছাড়ছে মানুষ। চট্টগ্রামের কাছাকাছি জেলাগুলোতে যাত্রীর চাপ বেশি। নগর থেকে দূরপাল্লার বাস ছাড়ার স্টেশনগুলোতে দালালচক্রের নানা তৎপরতা এখন চরমে। সাধারণ বাসযাত্রীরা সীমাহীন অতিষ্ট। এজেন্ট নামে এসব দালাল ‘ফিটফাট’ গাড়ির টাকা নিয়ে জোর করে যাত্রীদের তুলে দেয় ‘লক্করঝক্কর’ মার্কা বাসে। এতে বাসকর্মচারীর সঙ্গে যাত্রীদের কথা কাটাকাটি-ধাক্কাধাক্কি-মারামারি লেগেই আছে।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত নগরের অলংকার ও একে খান মোড় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীরা গণপরিবহন কিংবা ব্যক্তিগত পরিবহন থেকে এসব এলাকায় নামামাত্র তাদের বাসে তোলার জন্য রীতিমতো টানাটানি করছে বাসের কথিত এজেন্টরা। কমিশনের ভিত্তিতে কাজ করা এজেন্টদের জোরাজোরিতে নিজেদের পছন্দের বা যাচাই-বাছাই করে বাসে ওঠার সুযোগ পাচ্ছেন না যাত্রীরা। তাই বাসে ওঠার পর যাত্রীরা বাদ-বিবাদে জড়াচ্ছেন এজেন্ট অথবা বাস হেলপারদের সঙ্গে।
রহমান নামে কুমিল্লার ওই যাত্রী বলেন, ‘আমি অন্য গাড়িতে দেখে শুনে যেতাম। পরিবারসহ একে খান মোড়ে সিএনজি (অটোরিকশা) থেকে নামতেই ওরা (এজেন্ট) আমাকে এই বাসে তুলে দিয়েছে। বাসটির সিটগুলো ঠিক নাই। তবু বসেছি। কিন্তু আধ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে, এখনও গাড়ি ছাড়ছে না।’
বাসটির চালক লোকমান বলেন, ‘কিছুক্ষণ পরেই ছেড়ে দিবো। এখানেই যা জ্যাম (যানজট)। ফৌজদারহাট পার হলেই রাস্তা ফাঁকা। মানুষ অযথা ঝামেলা করছে।’
শ্যামলী বাস কাউন্টারের বিক্রয়কর্মী উদয়ন আচার্য বলেন, ‘এবার যাত্রীর চাপ কম। বেশিরভাগ মানুষ রমজানের ছুটিতে ঘুরে এসেছে। কোরবানির ছুটি একসাথে শুরু হয় একসাথে শেষ হবে। তাও বেশি না। তাই হয়তো যাত্রীরা কম যাচ্ছে। তবে নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লার যাত্রীর চাপ দেখা যাচ্ছে।’
নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিতে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় আন্তঃজিলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন।
সংবাদ মাধ্যম কে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই নিরাপদভাবে আনন্দদায়ক ভ্রমণের মাধ্যমে সকলে ঈদের ছুটি কাটিয়ে আবার একইভাবে ফিরে আসুক। এজন্য যাত্রীদের একটু সচেতন হতে হবে। যাত্রার টিকিট কেটে গাড়ি নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ে যাত্রীর পছন্দের গাড়িতে উঠুক। কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে যাত্রীদের সচেতনতা বেশি জরুরি। এরপরও আমরা আমাদের মতো করে সার্বিকভাবে যাত্রা নিরাপদ ও কাউন্টারগুলোর সুন্দর আচরণ নিশ্চিত করছি।’