এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম থেকে :
দেশের বৃহত্তম: বিভাগীয় জেলা শহর ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সর্বোত্র গরমের তীব্রতায় নানা: রকম শারীরিক অসুস্থ্যতা নিয়ে হাসপাতালের ধাবমান রয়েছে নানা: শ্রেণী ও পেশার নারী-পুরুষ। তবে, এতে শিশুদের সংখ্যা অধিকহারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে পাওয়া খবরে প্রকাশ। জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং মহানগরীর প্রায় সব হাসপাতাল গুলোতে অধিক হারে বেড়ে চলেছে রোগীরদের চাপ।
গরমের এমন ধকল এর সর্বোচ্চ শিকার হতে হচ্ছে শিশুদের কে। চট্টগ্রাম শিশু হাসপাতালের কোথাও কোনো বেড খালি নেই বলতে গেলে। শুধু ওই হাসপাতাল-ই নয় অন্যান্য প্রায় হাসপাতাল গুলো তে ও বেড়ে চলেছে রোগীর হার ।
মোবাইল অ্যাপে তাপমাত্রা গত ১ সাপ্তাহে ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি দেখালে ও তাপমাত্রা অনুভূতি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৫ ডিগ্রি পর্যন্ত। গত ১৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম’র বোয়ালখালী উপজেলায় সাফা নামের মাত্র ৬ মাস বয়সী এক কন্যা শিশুর মৃত্যু ঘটে। সে পশ্চিম শাকপুরা ২নং ওয়ার্ডস্থ আনজিরমারটেক সৈয়দ আলমের নতুন বাড়ির মোঃ নিজাম উদ্দীনের কন্যা বলে জানা গেছে। চিকিৎসকরা ধারণা করছেন সে হিটস্ট্রোকে মারা গেছে। একই দিন হিটস্ট্রোকে শাহজাদা ছালেহ আহমদ শাহ (৭৬) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর পরুয়াপাড়া এলাকার হজরত আহমদ হাসানের পুত্র ছিলেন।
২১ এপ্রিল পটিয়া উপজেলার হাঈদগাঁও ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইব্রাহিম তালুকদারের বড় পুত্র জয়নুল আবেদীন দিদার (৫৮) হিটস্ট্রোকে মারা গেছেন । একই ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সামশুল আলম (৭৩) হিট স্ট্রোকে মারা যান। তিনি ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন।
২২ এপ্রিল শহরের কর্নেলহাট শ্যামলী বাস কাউন্টারের সামনে হিটস্ট্রোকে শুক্কুর আলী নামের এক যুবক টেম্পোর মধ্যে মারা গেছেন। সে লক্ষ্মীপুর জেলার দালান বাজারের হাজীবাড়ির মৃত মানিক মিস্ত্রির পুত্র ছিলেন। তিনি সীতাকুণ্ড উপজেলার জলিলের সিডিএ এলাকার বুলু মেম্বারের ভাড়া ঘরে থাকতেন।
২৫ এপ্রিল চট্টগ্রামের আনোয়ারায় রোশনিয়া জেবিন (১৭) নামের এক স্কুলছাত্রীর হিট স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে। অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেয়ার পর সে মারা যায়। হিট স্ট্রোকে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারকে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সে বটতলী এলাকার মনির আহমদ চেয়ারম্যান বাড়ির ফরিদ আহমেদের মেয়ে ছিলো।
২৬ এপ্রিল পটিয়ায় হিট স্ট্রোকে মোজাম্মেল হক (৭৭) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড মাঝির ঘাটার বাসিন্দা ছিলেন।
২৮ এপ্রিল সকালে মীরসরাই উপজেলার ১১ নং মঘাদিয়া ইউনিয়নে প্রচণ্ড গরমে মাথা ঘুরে পড়ে জাহাঙ্গীর আলম (৫৬) নামে এক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মারা গেছেন। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি ও হিট স্ট্রোকে মারা গেছেন। জাহাঙ্গীর আলম মঘাদিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের জাফরাবাদ গ্রামের কামাল চেয়ারম্যান বাড়ির দেলোয়ার হোসেনের পুত্র ছিলেন।
২৮ এপ্রিল শহরের কালুরঘাট ফেরিতে মোঃ মোস্তাক আহমেদ কুতুবী আলকাদেরী নামে মাদ্রাসার এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বোয়ালখালীর খিতাপচর আজিজিয়া মাবুদিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। চিকিৎসকদের ধারণা, হিট স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে।
এইদিকে তিব্র গরমে স্কুল-কলেজে চলছে শ্রেণী কার্যক্রম। সহনীয় মাত্রায় না কমলে স্কুল বন্ধ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন অভিভাবকদের এক অংশ।
সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী বলেন, এখন যে তাপপ্রবাহ এই সময়ে ১ থেকে ৭ বছরের শিশুদের কোনো ভাবেই ঘরের বাইরে বের হতে দেয়া ঠিক হবে না। সেই সাথে সব বয়সিদের জন্যই দিনের বেলায় বাইরে বের হতে হলে শেড (ছায়া) ব্যবহার করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা পরামর্শ দিয়ে যাই, তাপপ্রবাহের এই সময়ে বিশেষ করে দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ঘরের মধ্যে অবস্থান করতে পারলে ভালো। একই সাথে প্রচুর পরিমাণে পানি সহ তরল খাবার খেতে হবে।’
শারীরিক কোনো সমস্যা দেখা দেয়া মাত্রই দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা ও বললেন সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী।