খালিদ হাসান বিন শহীদ, ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুরুত্বপূর্ণ বেশির ভাগ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। ১৯ জন চিকিৎসকের বিপরীতে আছেন মাত্র সাতজন। সাতজনের মধ্যে আবার দুজন আছেন ডেপুটেশনে। কর্মরত চিকিৎসক আছেন মাত্র পাঁচজন। এরই মধ্যে দুজন কনসালট্যান্টের বদলির আদেশ হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য সহকারীর বেশির ভাগ পদ শূন্য। এত সংকটের মধ্যেও প্রতিদিন গড়ে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন ৬০০ রোগী। ফলে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরা রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালের ডেন্টাল সার্জন রয়েছেন একজন। নার্সের ৩২টি পদের মধ্যে রয়েছেন ২৮ জন। মেডিকেল টেকনোলজিস্টের আটটি পদের মধ্যে রয়েছেন পাঁচজন। ফিল্ড স্টাফের ১৮টি পদে কর্মরত আছেন আটজন। এ ছাড়া ফার্মাসিস্ট, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কার্ডিওগ্রাফার, ড্রাইভার, কম্পিউটার অপারেটর, টিএলসি, কুক, অফিস সহায়ক, প্রধান সহকারী, ক্যাশিয়ার, পরিসংখ্যানবিদ, স্টোর কিপার, কম্পাউন্ডার, নিরাপত্তা প্রহরী, জুনিয়র মেকানিক, মালী, আয়া, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ওয়ার্ডবয়সহ মোট ৪৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২১ জন। শূন্য রয়েছে ২৪টি পদ।
এসব পদে জনবল না থাকায় রোগীদের অনেক সময় চিকিৎসা না নিয়ে চলে যেতে হয়। অনেক সময় আউটডোরে টিকিট কেটে দুই তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে রোগীরা ডাক্তার দেখাতে পারেন না। প্যাথলজি বিভাগে জনবল না থাকায় পরীক্ষার জন্য রোগীদের যেতে হয় বাইরের ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
জানা যায়, পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা গঠিত। এখানে দেড় লাখের বেশি মানুষের বসবাস। ভৌগোলিক দিক দিয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি পাঁচটি উপজেলার মাঝে অবস্থিত। যশোরের চৌগাছা, ঝিনাইদহের সদর, মহেশপুর, কালীগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গা সদরের অনেকে এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে রোগীর চাপ থাকে সব সময়। বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রতিদিন গড় বহির্বিভাগে চিকিৎসক দেখাতে আসেন ৬০০ আর ভর্তি থাকেন ৬৫ রোগী। এই বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে ৫০ শয্যার হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে, প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
হাসপাতালের বহির্বিভাগের ৬টি কক্ষে প্রতিদিন রোগী দেখা হয়। ১০১ নম্বর কক্ষে জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ও ডেঙ্গু রোগী, ১০৩ নম্বরে গাইনি সেবা, ১০৮ নম্বরে প্রসূতিসেবা, ১০৪ নম্বর কক্ষে শিশু রোগীদের সেবা, ১০৯ নম্বর কক্ষে অসংক্রামক রোগ এবং ১০৫ নম্বর কক্ষে টেলিফোনে রোগীর চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসক সংকটের কারণে এ নিয়ম মানা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন সকালে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের কক্ষ ভাগ করে দেওয়া হয়। তাঁরা যখন যে রোগী পান, তাঁকেই ব্যবস্থাপত্র দেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ মামুন জানান, তিনি কয়েক মাস আগে এখানে যোগদান করেছেন হাসপাতালটি ৫০ শয্যার হলেও ব্যাপক জনবল সংকট রয়েছে, হাসপাতালের চিকিৎসক, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পর্যাপ্ত জনবল নেই। অপ্রতুল সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। জরুরি ভিত্তিতে শূণ্য পদের জনবল পূরণ না করলে চিকিৎসা সেবা দেওয়া আমাদের জন্য অত্যান্ত কঠিন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে অনেক পদই শূন্য রয়েছে। যে কারণে আমরা প্রয়োজনীয় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি। ইতোমধে