• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
রাণীনগরে বাসার সামনে থেকে চোখের পলকের মধ্যে মোটরসাইকেল চুরি রাণীনগরে অসহায় নারীর ৬০ শতাংশ জমির ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে রাজশাহী ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়নের সৌজন্য সাক্ষাৎ মান্দায় ২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার নওগাঁয় স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর অভিযোগ ‘মিথ্যা ও সাজানো’: সন্তানদের মুখে মায়ের নির্যাতনের বর্ণনা নেত্রকোণায় বোরো সংগ্রহ শুরু, কৃষকের ধানে মিলবে ন্যায্য মূল্য: প্রতিমন্ত্রী নওগাঁর মান্দায় ধানী জমির মাটি কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দীর্ঘ আট বছর পর নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা শেরপুর সীমান্তে বিজিবির জালে মানব পাচার চক্রের ‘গডফাদার’ ফারুক আটক শেরপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

নওগাঁয় স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর অভিযোগ ‘মিথ্যা ও সাজানো’: সন্তানদের মুখে মায়ের নির্যাতনের বর্ণনা

দিনকাল বিডি ২৪ / ২৭ Time View
প্রকাশঃ রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁ ন্যাশনাল মডেল স্কুলের পরিচালক মো. শহীদ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী শারমিন আক্তারের আনা অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অর্থ-স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন তার পরিবার ও নিজ সন্তানরা। গত ৩০ এপ্রিল শারমিন আক্তারের করা সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে পাল্টা বক্তব্যে তারা এই দাবি জানান।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রকৃত অর্থে শারমিন আক্তারই তার স্বামী ও সন্তানদের ওপর দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন শারমিন আক্তারের নিজ সন্তানরা। বড় মেয়ে সানজিদা সাবিহা শিফা অশ্রুুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “মা ছোটবেলা থেকেই বাবার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন। বাবার প্রতি রাগ মেটাতে তিনি আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তেন। মায়ের মারধরের কারণে আমার একটি দাঁত উপড়ে গিয়েছিল এবং ছোট ভাই শ্রেষ্ঠর চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
শিফা আরও যোগ করেন, “আমি দেখেছি বাবা আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করতেন। কিন্তু পরিস্থিতি যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং নানার বাড়ির লোকজন বাবাকে ডিভোর্সের হুমকি দিচ্ছিল, তখন আমি নিজেই বাবাকে বলি এই প্রতিদিনের অশান্তি আর অত্যাচারের চেয়ে একবারে আলাদা হয়ে যাওয়া ভালো। বাবার এই অসহ্য যন্ত্রণাময় জীবন থেকে মুক্তি নিশ্চিত করতেই আমি তাকে ডিভোর্সের পরামর্শ দিয়েছি।”
ভুক্তভোগী স্বামী মো. শহীদ প্রামাণিক জানান, ২০০৮ সালে বিয়ের পর থেকেই শারমিন আক্তার ও তার পরিবার তার সহায়-সম্পত্তির ওপর নজর দেয়। নওগাঁ শহরের বাড়ি এবং গ্রামের পৈত্রিক সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য শারমিন তাকে প্রতিনিয়ত চাপ দিতেন। এতে ব্যর্থ হয়েই তিনি একের পর এক মিথ্যা নাটক সাজাচ্ছেন।
শহীদ প্রামাণিক বলেন, “গত ২৫ মার্চ আমি তাকে আইনগতভাবে তালাক প্রদান করি। এর প্রতিশোধ নিতেই তিনি ৫ লক্ষ টাকার ভুয়া যৌতুক মামলা এবং সংবাদ সম্মেলন করে আমার মানহানি করছেন। অথচ বিয়ের সময় আমি তাকে মোহরানা পরিশোধ করে ঘরে তুলেছিলাম। তারা আমাকে কোনো টাকা বা ২০ ভরি গয়না দেয়নি; বরং শারমিন নিজেই বাড়ি থেকে গয়না নিয়ে চলে গেছেন।” তিনি প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
শহীদ প্রামাণিকের মা শহীদা বেগম জানান, শারমিনের অস্বাভাবিক আচরণের কারণে পরিবারের সম্মতিতে ২০১৩ সালে তার ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপরও শারমিনকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতো। কিন্তু শারমিনের মূল লক্ষ্য ছিল সম্পত্তি আত্মসাৎ করা।
এদিকে, স্থানীয় ন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষক এবং এলাকাবাসীরা শহীদ প্রামাণিককে একজন শান্ত ও ভদ্র মানুষ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, কোনো সাধারণ মানুষ হলে শারমিনের এই দীর্ঘকালীন নির্যাতন সহ্য করতে পারতেন না।

বর্তমানে ৫ লক্ষ টাকার কথিত যৌতুক মামলাটি চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে। তবে নিজ সন্তানদের সাহসী ও সত্য সাক্ষ্য পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট পাল্টে দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category