নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মান্দায় দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্রসহ বেপরোয়া কিশোর গ্যাংয়ের দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী ও গ্যাং লিডারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই অভিযান সফলভাবে পরিচালনা ও অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় জেলার ৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে বিশেষ সম্মাননা উপহার দিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
সম্মাননাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন— মান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাওন, জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ইনচার্জ হাসিবুল্লাহ হাবিব এবং মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলম।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক আয়োজনের মাধ্যমে তাদের হাতে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কসব ইউনিয়নের তুরুকবাড়িয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তুলে বেপরোয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল চিহ্নিত সন্ত্রাসী সুলতান ও পারভেজ। এই ক্লাবে যোগ না দিলে স্থানীয় কিশোরদের বেধড়ক মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হতো। গত ২৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে তুরুকবাড়িয়া এলাকায় সাফিয়াল জাবের নীরব নামে এক তরুণকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়ে এই সন্ত্রাসী জুটি। পরে ২৬ আগস্ট রাতেও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ফের ফাঁকা গুলি ছোড়ে তারা। এসব ঘটনায় মান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পরপরই নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সরাসরি দিকনির্দেশনায় মান্দা সার্কেলের এএসপি শাওনের নেতৃত্বে মান্দা থানা, রাণীনগর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি চৌকস দল গঠিত হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায় আসামিরা ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ৩১ আগস্ট রাতে বগুড়ার শেরপুর এলাকার ‘ফুড ভিলেজ’-এর সামনে থেকে ঢাকাগামী একতা পরিবহনের একটি বাসে অভিযান চালিয়ে সুলতান ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে সুলতানের বাড়ির চালের কার্নিশ থেকে ১টি দেশীয় ওয়ান শুটার গান, ১টি ধারালো ডেগার, ১টি খেলনা পিস্তল, ১টি সুইচ গিয়ার ঈগল চাকু, ৩টি পুরনো চাকু, ৩টি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৬ হাজার ৮৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আলোচিত চৌকিদারের ছেলের হত্যা মামলা ও সাইবার সুরক্ষা আইনসহ অন্তত ৪টি মামলা রয়েছে। তারা পূর্বেও একটি হত্যা মামলায় ৮ মাস জেল খেটেছিল।
মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, জেলায় যেকোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। জনস্বার্থে অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। এদিকে শীর্ষ দুই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের খবরে স্বস্তি ফিরে এসেছে এলাকাবাসীর মধ্যে।