জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার মোহাম্মাদপুর ইউনিয়নের বিধবা খাদিজা বেগমকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গাভী উপহার দেয়া হয়েছে। সোমবার বিধবার বাড়িতে এ উপহার প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্হিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জয়পুরহাট জেলা আমীর ও জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রাথী ফজলুর রহমান সাঈদ, পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের আমীর সুজাউল করিম, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাও. ইমরান হোসেনসহ অন্যান্যরা।
ডা. ফজলুর রহমান সাইদ বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ জীব ও অনেকগুলো সামাজিক কর্তব্য নির্ধারণ করে সৃষ্টি করেছেন। পরস্পরের সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তার জন্য ইসলাম মানুষকে সামাজিকতা, দয়া-মায়া ও ভালোবাসা, হৃদ্যতা এবং সৌহার্দ্যতার অনুশীলনে উদ্বুদ্ধ করেছেন। আমরা যে অর্থ-সম্পদের মালিক দাবি করি, এ অর্থের মালিক আমরা নই, বরং প্রকৃত মালিক আল্লাহ।
আল্লাহ তায়ালা সামাজিক বিধি-বিধানকে গুরুত্ব দিয়ে নামাযের পরেই যাকাতের কথা বলেছেন। তুমি যে সম্পত্তি পছন্দ কর, সে সম্পদ ব্যয় কর তোমার নিকটাত্মীয়দের মধ্যে গরীব যারা। এছাড়া ফকির, মুসাফির, দুস্থ, অসহায় মানুষদের জন্য ব্যয় করতে বলা হয়েছে। ইসলাম একদিকে ব্যক্তিগতভাবে দান খয়রাত ও পারস্পরিক সহযোগিতা করতে বলেছেন। আবার রাষ্ট্রকে দায়িত্ব দিয়েছে, স্বচ্ছলদের কাছ থেকে যাকাত আদায় করে অস্বচ্ছলদের ঘরে পৌঁছিয়ে দিতে।
তিনি আরো বলেন, মানুষের তৈরী মতবাদ, অসৎ ও অযোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে জাতির ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না। আমাদের মহান স্বাধীনতার যে মূলমন্ত্র বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত সমাজ। সৎ যোগ্য আদর্শ মানুষের নেতৃত্বে সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনে নামতে হবে। জামায়াত সামর্থ্যরে আলোকে ক্ষতিগ্রস্থদের সহযেগিতা করছে। পাশাপাশি আমরা সমাজের বিত্তবানদের আহ্বান জানাই; ‘আসুন, রমযান মাসে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যাকাতভিত্তিক অর্থনীতির প্রচলন করি। যাকাত আদায় ও প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শোষণমুক্ত ইনসাফপূর্ণ একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হই। সে লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী কাজ করছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে উপহার পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে খাদিজা জানান,আমার অভাবের এ সংসারে জামায়াতে ইসলামী গাভী উপহার দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তা প্রকাশ করার ভাষা আমার নেই।