• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।। সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৫ প্রবাসীর মরদেহ দাফন নওগাঁর মান্দায় ভালাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের ব্যাপক গণসংযোগ রাজশাহীতে ডিবির অভিযানে পালিয়েছে কুখ্যাত মাদক কারবারী মাসুম ভারতীয় সিরাপসহ প্রাইভেট কার জব্দ, গ্রেপ্তার ১২ রাজশাহীতে পথকুকুরের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন কাজল রেখা রাজশাহীতে ৫২ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারী গ্রেপ্তার বাঘায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২২ বছরের নারীকে কিশোরী দেখিয়ে থানা থেকে ছাড়ার দাবি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে মেয়েরা, ৩৯ কলেজে কেউ পাস করেনি নওগাঁর মান্দায় এমপির সঙ্গে প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়

প্রভাব খাটিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা ডাঃ মারুফার… তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনিশ্চিত চিতলমারীতে ২০ দিনেও ব্যবস্থা হয়নি সিলগালা করা সেই মিমি ক্লিনিকের চলছে চিকিৎসা

দিনকাল বিডি / ১০১ Time View
প্রকাশঃ সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫

মোঃ কামরুজ্জামান, বাগেরহাট প্রতিনিধি ॥

বাগেরহাটের চিতলমারীতে সিলগালা থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে সিজার অপারেশন করার ঘটনায় ২০ দিন পার হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও ১২ দিন অতিবাহিত হলেও রিপোর্ট দাখিল করতে পারেনি। এতে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

গত ৭ অক্টোবর দুপুরে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিউটিরত চিকিৎসক ডা. মারুফা নাসরিন সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় রোগী মুর্শিদা বেগমকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করলেও, দালালের মাধ্যমে নিয়ে যান সিলগালা অবস্থায় থাকা মিম সার্জিক্যাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানে তিনি এ্নেস্থিসিয়া ডাক্তার ছাড়া নিজেই সিজার অপারেশন পরিচালনা করেন।

অভিযোগ রয়েছে, অপারেশনের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান ওই চিকিৎসক। পরে গুরুতর অবস্থায় মুর্শিদা বেগমকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

রোগীর স্বামী রজ্জাক শেখ জানান, সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার মারুফা আমাদের খুলনা নিতে বলেছিলেন। পরে তিনি নিজেই বলেন মিম ক্লিনিকে কম খরচে অপারেশন করে দেবেন। আমরা তার কথায় বিশ্বাস করি। কিন্তু অপারেশনের পর আমার স্ত্রীর অবস্থা খারাপ হলে তিনি পালিয়ে যান। এখন আমার স্ত্রী আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আমরা গরিব মানুষ, এর সঠিক বিচার চাই।

এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ স্থানীয়দের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, ডা. মারুফা অন্যায় করেও বলছেন, ‘আমার কিছুই হবে না। প্রয়োজনে ১০ লক্ষ টাকা ব্যয় করব, কিন্তু কেউ কিছু করতে পারবে না। তিনি নানাভাবে প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত রিপোর্ট নরমাল করার চেষ্টা করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ডা. মারুফার স্বামীও সাংবাদিকদের প্রলোভন দেওয়ার চেষ্টা করেন যাতে বিষয়টি গণমাধ্যমে না আসে। এমনকি তিনি স্বীকারও করেন যে সিভিল সার্জন অফিসের এক কর্মকর্তা তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা দাবি করেছেন তদন্ত রিপোর্ট নরমাল রাখার আশ্বাসে।

বাগেরহাট ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ডা. মারুফার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বেশিরভাগই তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তিনি ভুল স্বীকার করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল আর করবেন না বলে জানিয়েছেন। তবে সিলগালা ক্লিনিকের তালা ভাঙার বিষয়েও তদন্ত চলছে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাগেরহাট সিভিল সার্জন ডা. আ. স. মো. মাহাবুবুল আলম জানান, তদন্ত রিপোর্ট এখনো হাতে পাইনি। তবে শুনেছি ডা. মারুফা কমিটির কাছে দোষ স্বীকার করেছেন এবং ক্ষমাও চেয়েছেন। তিনি গুরুতর অন্যায় করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। রিপোর্ট হাতে এলে বিস্তারিত বলা যাবে।

স্থানীয়রা বলছেন, সিলগালা থাকা ক্লিনিকে চিকিৎসা কার্যক্রম চলা প্রশাসনের ব্যর্থতা প্রকাশ করছে।

তাদের দাবি, তদন্ত কমিটির বিলম্ব ইচ্ছাকৃত এবং প্রভাবিত। প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

অন্যদিকে, সচেতন মহল মনে করছে সরকারি দায়িত্বে থেকে বেসরকারি ক্লিনিকে অপারেশন করা শুধু নিয়ম ভঙ্গ নয়, বরং এটি অপরাধ। এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে।##


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category