শরিফুল আলম
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের হিসাব-নিকাশ অনেক পুরোনো। বৈশ্বিক ফুটবলে অভিষেকের বছর ছয়েক পরই আফগানদের সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল বাংলাদেশের।
১৯৭৯ সালে এশিয়ান কাপ ফুটবলের বাছাই পর্বে ২ নম্বর গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে ছিল আফগানিস্তান ও কাতার। এই গ্রুপের খেলা হয়েছিল ঢাকায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে।
গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে বাংলাদেশ উঠেছিল এশিয়ান কাপে। চার ম্যাচে ৭টি গোল করেছিল বাংলাদেশ। যার তিনটি করেছিলেন ঈশ্বরগঞ্জের কৃতী সন্তান মো: আবদুল হালিম, দুটি কাজী মো. সালাউদ্দিন এবং একটি করে গোল ছিল মো. মহসীন ও আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নুর।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের প্রথমটি ড্র হয়েছিল ২-২ গোলে। দুটি গোলই করেছিলেন মো. আবদুল হালিম। ওই ড্রয়ের পরের ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে ১-১। তাই আফগানিস্তানের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠেছিল বাঁচামরার। জিতলে এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্ব, হারলে বিদায়-এমন সমীকরণ নিয়ে মাঠে নেমে দুর্দান্ত ৩-২ গোলের এক জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। এর পর গত ৪৪ বছরে আর আফগানিস্তানকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ।
আগামীকাল (রোববার) বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় আফগানদের বিপক্ষে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ। এটি হবে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের নবম লড়াই।
এর আগের ৮ সাক্ষাতে একটি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ, দুটি জিতেছে আফগানিস্তান। ড্র হয়েছে পাঁচ ম্যাচ। ৮ ম্যাচের তিনটি হয়েছে ঢাকায়। ঘরের মাঠে বাংলাদেশ কোনো ম্যাচ হারেনি আফগানিস্তানের কাছে। একটি জিতেছে, দুটি ড্র করেছে।
আফগানিস্তানের কাছে বাংলাদেশ প্রথম হারে ২০১৫ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে হারিয়ে প্রথম জয় উৎসব করেছিল আফগানরা। দ্বিতীয় হারটি ছিল ২০১৯ সালে দুশানবেতে বিশ্বকাপের বাছাইয়ে। আফগানিস্তান জিতেছিল ১-০ গোলে। দুই দলের শেষ ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে ২০২১ সালে কাতারে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে। ৪৪ বছর আগে আফগানিস্তানকে হারানো দুর্দান্ত জয়ের সেই ম্যাচের স্মৃতিচারণ করে কাজী মো. সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘অনেক দিন আগের কথা। ম্যাচটির বর্ণনা পুরোপুরি দিতে পারবো না। কারণ, বেশি কিছু মনে নেই। তবে গোল করেছিলাম সেটা মনে আছে। ওই ম্যাচটি জেতাতেই আমরা এশিয়ান কাপের চূড়ান।আফগানিস্তানকে হারানো দুর্দান্ত জয়ের সেই ম্যাচের স্মৃতিচারণে ঈশ্বরগঞ্জের কৃতী সন্তান মো: আবদুল হালিম বলেছেন আমি আন্তর্জাতিক প্রথম ফুটবল ম্যাচে বাংলাদেশকে বাংলার মানুষকে জয় উপহার দিয়েছিলাম সেই জয় সারাজীবন স্মৃতি হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের ফুটবল এগিয়ে যাক এটাই আমার কামনা।