• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য: কৃষিমন্ত্রী রাজশাহীতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সেবার মান বাড়াতে কমিশনারের নির্দেশনা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় নওগাঁর মান্দায় কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত নওগাঁ জেলা জামায়াতের নেতৃত্বে পরিবর্তন, নতুন আমির মাহফুজুর রহমান নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য হলেন প্রভাষক আবু সাঈদ কুষ্টিয়ায় মৃত চেয়ারম্যানের নামে ১০৭ বস্তা চাল বরাদ্দ ফুলবাড়ী উপজেলার মাদিলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাণীনগরে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু কৃষকের ঘরে আসছে নতুন সোনালী ফসল রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।।

বাগেরহাটে চিয়াংমাই, চাকাপাতে স্বপ্ন বুনছেন বক্কর

Reporter Name / ১১১ Time View
প্রকাশঃ বুধবার, ১৯ জুলাই, ২০২৩

বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
বাজারে যখন আম শেষের পথে ঠিক সেই সময় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে গাছে গাছে ঝুলে আছে রসালো মিষ্টি চিয়াংমাই, চাকাপাত, ব্লাক স্টোন, রেড পালমার, মিয়াজাকি, ব্রুনাই কিংসহ বাহারি জাতের সব আম। আমের ভারে নুয়ে পড়া গাছ গুলোর কাছে গেলেই মৌ মৌ গন্ধে মন ভালো হয়ে যাবে যে কারো। রসালো মিষ্টি দেশি-বিদেশী জাতের এ আম বাগান গড়ে তুলেছেন মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়নের আলতি ব্রুজবারিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আবু বক্কর শেখ। প্রায় ৩০ বছর ধরে নার্সারী ব্যবসার সাথে জড়িত তিনি। সেখান থেকেই অনুপ্রেরিত হয়ে নিজের চার বিঘা জমির উপর গড়ে তুলেছেন প্রায় ৫০ প্রজাতির দেশি-বিদেশী আমের বাগান। মাত্র দুই বছর আগে লাগানো গাছ গুলো থেকে ফলনও পেয়েছেন ভালো। তার প্রায় প্রতিটি গাছে আম ধরেছে ২০ কেজি থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত।
বাগান মালিক মোঃ আবু বক্কর শেখ বলেন, দুই বছর আগে নিজের চার বিঘা জমিতে দেশি-বিদেশী ৬শ আম গাছ লাগিয়েছিলাম। এক একটা গাছ কিনতে আমার ব্যয় হয়েছে ৫শ থেকে ৬শ টাকা। আমার বাগানে সব থেকে বেশি থাইজাতের বিভিন্ন ভ্যারাইটির আম গাছ। এবছর আমার প্রতিটি গাছে ২০ কেজি থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত আম হয়েছে। এসব আম ৫শ, ৬শ থেকে ৮শ টাকা পর্যন্ত কেজি ধরে বিক্রি করেছি। কারণ দেশি আমের চেয়ে এই বিদেশী আমে লাভ বেশি। কারন বাজারে আম এখন শেষের পথে, ঠিক সেই মুহুর্তে আমার বাগানের চিংয়াংমাই ও চাকাপাতসহ বিদেশী সব আম পাকতে শুরু করেছে। দেশী আম সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যায়। কিন্তু বিদেশি আম একটু দেরিতে পাকার কারনে এর বাজার মূল্য ভালো পাওয়া যায়। এছাড়া ব্যাপক চাহিদার কারণে আমার বাগানে এই গাছগুলো থেকেই গ্রাফটিং কলমের মাধ্যমে অনেক চারা তৈরি করছি। ইতিমধ্যে অনেকেই আমার কাছে অর্ডার দিচ্ছেন, তাদের কাছেও চারা সরবরাহ করেছি। এছাড়া আমার নার্সারিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রয়েছে। আমার এই আম বাগান করতে ব্যায় হয়েছিলো ৩ লক্ষ টাকা। এ বছর যে ফল হয়েছে তা বিক্রি করে আমার মূল টাকা উঠে এসেছে। আগামী বছর আরও বড় পরিসরে আরও আম বাগান গড়ে তোলার ইচ্ছা রয়েছে। এছাড়া অনেকেই আমার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করে বাগান করার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। তাদেরকেও সহযোগীতা করছি।
বাগান পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত শহিদুল শেখ বলেন, এ বছর আমাদের বাগানে বিদেশী গাছ গুলোতে বাম্পার ফলন হয়েছে। অনেকেই বাগান থেকে আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া চাহিদা থাকায় আমরা ইতি মধ্যে প্রায় ৮ হাজার গ্রাফটিং এর চারা তৈরী করেছি। আরও ৪ থেকে ৫ হাজার চারা তৈরী করা হবে।
বক্কর শেখ এর (আলিফ নার্সারিতে) গাছ কিনতে আসা মোরেলগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা শাকিল মাহমুদ বলেন, আমি নিজেও একজন সখের বাগানি। আমরা সাধারনত বাড়ীর আঙ্গিনায় বা আশপাশে সখের বসে বিদেশী আম বা অন্যান্য গাছ রোপন করি। অধিকাংশ সময় দেখা যায় এসব বিদেশী গাছে ফল হয় না। তাই বানিজ্যিক ভাবে এ গাছ গুলো দিয়ে বাগান তৈরী ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় ইচ্ছা থাকলেও কখনও করা হয়নি। তবে বক্কর ভাইয়ের বাগান দেখে আমারও ইচ্ছ বিদেশী আম গাছ দিয়ে বানিজ্যিক ভাবে বাগান তৈরী করার। তাই তার বাগানে এসেছি গাছ সংগ্রহ করতে।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, চিয়াংমাই ও চাকাপাত হচ্ছে থাইল্যান্ডের বিখ্যাত জাত। ইতিমধ্যে এই জাত গুলো দেশের কৃষি উদ্যোক্তা ও গাছপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আম বাগান করতে আগ্রহী নতুন উদ্যোক্তাদের আমরা এই জাতগুলো নিয়ে বড় পরিসরে বাগান তৈরির জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। কারণ এই জাতগুলোতে লাভ বেশি। এ ধরনের আম নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা দেরিতে হওয়ার কারনে বাজারে ভালো মূল্য পাওয়া যায়। যারা চিয়াংমাই ও চাকাপাত দিয়ে আম বাগান করেছেন তারা এখনো ভালো মূল্য পাচ্ছেন। কারণ বাজারে এখন আম নাই আর এই সময় এই আমগুলো পাকতে শুরু করেছে। যে কারণে ৫০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা কেজি ধরে এই আম গুলো বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে চাষিরা ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন। এছাড়া আমবাগানে বিভিন্ন পোকামাকড়ের আক্রমণ হয়। যে কারণে আমরা কৃষি বিভাগ নতুন উদ্যোক্তা ও চাষীদের পোকামাকর দমনে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সার্বিক সহায়তা করে যাচ্ছি।#


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category