বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি ঃ
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইডিপি) অন্তর্ভুক্ত স্ট্রেংদেনিং রিডিং হ্যাবিট অ্যান্ড রিডিং স্কিলস অ্যামাং সেকেন্ডারি স্টুডেন্টস স্কিম-এর আওতায় পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা গত মঙ্গলবার( ২৪ জানুয়ারি) বাঘা উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলায় ৫৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আখতার। এসময় তিনি, তার উপজেলাকে কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে এধরনের প্রোগাম করা জন্য বাংলাদেশ সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারায় দেশকে এগিয়ে নিতে ছাত্র-ছাত্রীদের আরো বেশি মননশীল , দক্ষ মানুষ হিসেবে তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে বই পড়ার প্রতি আরো বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছেন, তা বাস্তবায়নের জন্য বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। উপস্থিত প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ ও সংগঠকদের কর্মসূচি সুন্দর ভাবে বাস্তবায়নের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে প্রযোজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। শিক্ষার মান উন্নত করতে পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে এবং পাঠাভ্যাসের প্রসার ও সুযোগ বৃদ্ধি হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আ, ফ, ম হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহদৌলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ(ভারপ্রাপ্ত) আবু বক্কর সিদ্দীক। রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির টিম ম্যানেজার ইজাজুল ইসলাম। উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালার মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপনের মাধ্যমে ‘পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি’র কর্মপরিকল্পনা, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন ইজাজুল ইসলাম।
এতে, পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরী ঘন্টা চালু করার ব্যপারে গুরুত্বারোপ, শিক্ষকদেরকেও পড়ানোর পাশাপাশি বই পড়তেও উৎসাহিত করা হয়। এছাড়াও পরিপূর্ণ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠার জন্য বই পড়ার উপর গুরুত্বারোপ করে জানান,কর্মসূচি পরিচালনার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন, বইপড়া শেষে মূল্যায়নের ভিত্তিতে পুরস্কার প্রদান করা হবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি টেকসই ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একযোগে কাজ করবে। ভবিষ্যতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সকল কাজে সার্বিক সহযোগিতা করবেন মর্মে প্রতিশ্রুতি দেন আয়োজকরা।
শিক্ষা অফিসার বলেন, এন্ড্রয়েড ফোন আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের যেভাবে আসক্ত করেছে সেই জায়গা থেকে বের করে আনার জন্য একাডেমিকের বাইরে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলে মেধা ও মননের বিকাশ সাধন করতে আহ্বান জানান তিনি।
অন্যান্য বক্তরা বলেছেন, বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা যেমন, ভর্তি পরীক্ষা বা চাকুরির পরীক্ষায় টিকে থাকার জন্য পাঠের অভ্যাস করতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীরা সৃজনশীলতা ভুলে গিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ছাড়া আমরা ভাবতে পারিনা। তাই পাঠের অভ্যাস গড়ে তুলে, মেধা ও মননের বিকাশ এবং সৃজনশীল মেধা বিকাশে একাডেমিক বইয়ের বাইরে আরো বেশি সহায়ক বই পড়তে ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য সকল শিক্ষকদের আহ্বান জানান তারা।
পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির কিভাবে সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করতে হবে তা মুক্ত আলোচনায় তুলে ধরা হয়। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মাহমুদুর রহমান। কর্মশালায় অংশগ্রহন করেন অত্র উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের ৫৭ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং সংগঠকবৃন্দ।##