• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।। সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৫ প্রবাসীর মরদেহ দাফন নওগাঁর মান্দায় ভালাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের ব্যাপক গণসংযোগ রাজশাহীতে ডিবির অভিযানে পালিয়েছে কুখ্যাত মাদক কারবারী মাসুম ভারতীয় সিরাপসহ প্রাইভেট কার জব্দ, গ্রেপ্তার ১২ রাজশাহীতে পথকুকুরের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন কাজল রেখা রাজশাহীতে ৫২ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারী গ্রেপ্তার বাঘায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২২ বছরের নারীকে কিশোরী দেখিয়ে থানা থেকে ছাড়ার দাবি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে মেয়েরা, ৩৯ কলেজে কেউ পাস করেনি নওগাঁর মান্দায় এমপির সঙ্গে প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়

বাসাবাড়ি, মার্কেট, মসজিদ,মাজার সব খানেই জটলা কাজে আসছেনা ভিক্ষুক পুর্নবাসন কার্যক্রম

দিনকাল বিডি ২৪ / ১২৪ Time View
প্রকাশঃ সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬

আব্দুল হামিদ মিঞা,বাঘা(রাজশাহী)

যেখানে মানুষের ভিড়, সেখানেই ভিক্ষুকদের জটলা। বাসাবাড়ি ছাড়াও মার্কেট, মসজিদ,মাজারের সামনে জড়ো হচ্ছেন তারা। সরকারি সুবিধা পান,এমন কেউ কেউ ভিক্ষায় নেমেছেন, ফিতরাসহ যাকাতের টাকা-পয়সা, শাড়ি কাপড় পাওয়ার আশায়। ছোট-বড় বিভিন্ন মার্কেট, অভিজাত এলাকা, বাস টার্মিনাল, বাসাবাড়ি ও রাস্তাঘাটেও দিন দিন এসব ভিক্ষুকের সংখ্যা বেড়ে গেছে। কাজে আসেনি ভিক্ষুক পুর্নবাসন কার্যক্রম। এমন চিত্র দেখা গেছে রাজশাহীর বাঘায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,ঈদে বিত্তবানদের দান খয়রাত টার্গেট করে তারা নেমেছেন ভিক্ষা বৃত্তিতে। তাদের কেউ পেশাদার কেউ অপেশাদার। এদের কারো স্বামী মারা গেছে,কারো স্বামী বেঁচে থাকলেও কর্মহীন হয়ে পড়ে রয়েছেন। তাদের কেউ থাকেন নিজের বাড়িতে,গুচ্ছগ্রামে। বহিরাগতরা রাত কাটান মাজারে কিংবা স্কুল কলেজের বারান্দায়।
সোমবার (১৬-০৩-২০২৬) সরেজমিন দেখা যায়, বাঘার ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ,মাজারের প্রবেশ পথের দুইধারে ভিক্ষৃুকদের সারি। এসব ভিক্ষৃুকদের অধিকাংশ নারি।
অন্তত অর্ধশতাধিক ভিক্ষুকের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের একেকজনের দৈনিক আয় ৩০০ টাকার কম বা বেশি। রমজান মাসে মানুষ দান খয়রাত বেশি করে বলে তাদের আয়ও বেশি হয়। তবে বেশিরভাগ ভিক্ষুক বলেছেন তারা সরকারি সুবিধা পান না। ঈদ সামনে রেখে সরকারের দেওয়া ভিজিএফ চাল না পাওয়ার কথাও বলেছেন কেউ কেউ।
বাঘা উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের স্বামী পরিত্যাক্তা সুফিয়া খাতুন জানান,নিজে সরকারি কোন সুবিধা পাননি। ৫বছর আগে গ্রামের এক মহিলাকে ৩হাজার ২০০শ’ টাকা দিয়ে তার মায়ের বয়স্ক ভাতা করিয়েছেন। তার এক ছেলে থাকলেও দেখভাল করেনা। হিজলপল্লী গ্রামের কাদের নামে এক ভিক্ষুক জানান,ভিজিএফ এর চাল দেওয়ার জন্য অনেকের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র নিলেও তারটা নেয় নি।
বহিরাগত ভিক্ষুক চারঘাট উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের র্ফিরোজা, হালেমা,রিজিয়া, লালপুর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের নজির মোল্লাসহ বাঘা উপজেলার জোতনশি গ্রামের রহিলা,হেলালপুর গ্রচ্ছ গ্রামের জায়েদা রসেনা,বানিয়া পাড়ার মালেকা, আলাইপুর গ্রামের মোকারুল,মীরগঞ্জের রিজিয়া, চন্ডিপুরের জাকাত, পাকুড়িয়ার রসুনা, চকছাতারির সপুরা ,হরিরামপুরের নুরমা, রুস্তমপুরের সকেনা, মাজেদা,খায়েরহাটের কহিনুর, চন্ডিপুরের মাজেদা,বারশত দিয়ারের নিলুফা, আলাইপুরের মালেকা, মহদিপুরের রোকেয়া, জোতনশির রহিলা ছাড়াও অনেক ভিক্ষুক বাঘায় আসেন ভিক্ষা করতে। মাজারে রাত কাটান রংপুরের সাবিনা,রেহেনা।
এদিকে,৫বছর আগে ভিক্ষাবৃত্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বাঘা উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করে ভিক্ষুক পুর্নবাসনের কাজ শুরু করা হয়। প্রথমতঃ ৫০জন ভিক্ষুককে নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় অনেকেই ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়তে রাজি হননি। যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চেয়েছেন,তাদের তালিকা করে ২০২০ সালে ১৭ জুন ভিক্ষুক পুর্নূবাসন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৮ জন ভিক্ষুককে তৎকালিন সময়ের প্রধান মন্ত্রীর ভিক্ষুক পুর্নবাসন কার্যক্রমের আওতায় ছাগল, মুদি দোকান ,ভ্যানগাড়ি ও শেলাই মেশিন প্রদান করা হয়। কিন্ত এতেও ভিক্ষাবৃত্তি থেকে ফেরানো যায়নি।

স্বামীর সংসার থেকে বিছিন্ন হয়ে ভিক্ষায় নেমেছেন ৪৪ বছর বয়সের শেফালি খাতুন। ভিক্ষার টাকা জমিয়ে কয়েক বছর আগে মসজিদে ৪০ হাজার টাকা দানও করেছেন। কথা বললে তিনি জানান, নিজের খরচ করে যা বাঁচে,সেই টাকা জমিয়ে মসজিদে দান করেছেন। এবারও তার ইচ্ছা ভিক্ষার টাকা জমিয়ে,মাদরাসা ও এতিমখানায় দান করবেন । ১ কাঠা জমির উপর টিন সেটের আধা পাঁকা ঘর রয়েছে তার। সরকারি সুবিধ পান প্রতিবন্ধী ভাতা ।

স্থানীয় আব্দুল হালিম জানান, ঈদকে সামনে রেখে পেশাদার-অপেশাদার বহু মানুষ ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নিয়েছে। যার কারণে অন্য সময়ের তুলনায় ভিক্ষুকের সংখ্যা দ্বিগুন বেড়েছে ।
বাজু বাঘা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বেঁচে থাকার তাগিদে দারিদ্র, পারিবারিক অবহেলা, মনস্থাত্বিক কারণেই মানুষ ভিক্ষাবৃত্তি গ্রহণ করে থাকে। তবে ভিক্ষার নামে অত্যাচার অনেকাংশে বিরক্তিকর।’
উপজেলা নির্বাহি অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন,উপজেলায় ভিক্ষুক পূর্নবাসনের বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। তবে সরকারের ভিক্ষুক পুর্নবাসনের চেষ্টা যাতে অব্যাহত থাকে,সেটি বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category