স্টাফ রিপোর্টার:
নওগাঁর মহাদেবপুরে ৫০ শয্যার সরকারি হাসপাতালে বিনা খরচে সিজারিয়ান ও নরমাল ডেলিভারি শুরু হওয়ায় খুশি প্রসূতি মাসহ এলাকাবাসী। গত ৩০ জুন পর্যন্ত উপজেলা সদরের এ হাসপাতালে ৩৯৪ জন সিজারিয়ান ও নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। তবে রোগীর সাথে কতিপয় নার্স ও আয়া এবং নৈশ্য প্রহরীর বিরুদ্ধে ডেলিভারি রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করার প্রলোভন দেয়াসহ খারাপ আচরণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এলাকার অধিকাংশ গর্ভবতী মা নরমাল ও সিজারিয়ান ডেলিভারি করাতে এ হাসপাতালে আসে। কিন্তু কতিপয় নার্স, আয়া ও নাইটগার্ড, এ হাসপাতালে ডেলিভারি এবং চিকিৎসা সেবা নিয়ে নীতিবাচক কথা বলে গর্ভবতী মায়েদের ভালো সেবার প্রলোভন দিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তিতে তাদের উদ্ধুদ্ধ করে থাকেন। তাদের প্রলোভনে অনেক গর্ভবতী মা বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে সিজারিয়ান ও নরমাল ডেলিভারি করাতে উদ্ধুদ্ধ হচ্ছে।
আর এসব বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিভিন্ন পরীক্ষা এবং গর্ভবতীদের ভর্তিতে উদ্ধুদ্ধ করে থাকেন সিনিয়র স্টাফ নার্স সীমা, নার্স শিল্পী, নারী ওয়ার্ড বয় নাসিমা বেগম এবং আয়া নাজমা বেগম, ও তার স্বামী নাইটগার্ড আব্দুল হান্নান। হাসপাতালের একটি সুত্র জানান, এজন্য তারা কমিশন পায় সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক থেকে। এছাড়াও হাসপাতালে চিকিৎসাধিন একাধিক রোগীর অভিযোগ, ওইসব নার্স, আয়া ও নারী ওয়ার্ডবয় তাদের মতো অনেক রোগীর সঙ্গেই দুব্যার্বহার করাসহ নাইটগার্ড আব্দুল হান্নান রোগীদের শরীরে স্যালাইন পুস করার পাশাপাশি নার্সের দ্বায়িত্ব পালন করে থাকেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ খুরশিদুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এই ৬ মাসে ৩৯৪টি ডেলিভারি করা হয়েছে। এর মধ্যে নরমাল ৩২৪ টি ও সিজারিয়ান ৭০টি। ২০২২ সালের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে এ হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে গর্ভবতী মায়েদের সিজারিয়ান অপারেশন শুরু হয়। শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১০৬৯ জন নরমাল এবং ১৪০ জন সিজারিয়ান করা হয়। প্রতি মাসের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহের সোমবার সিজারিয়ান অপারেশন এবং নরমাল ডেলিভারি করানো হয় প্রতিদিন। এ হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি করাতে কোন খরচ নেয়া হয়না,তবে সিজারিয়ানের ক্ষেত্রে স্বল্পমূল্যের কিছু ডেলিভারি সামগ্রী বাজার থেকে কিনতে হয় বলে তিনি জানান।
সুত্রমতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডবিøউএইচও এর স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন প্রোসিডিউর এসওপি অনুযায়ী যথাযথ সেবা প্রদানে এ হাসপাতালের এনাস্থেশিয়া বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাঃ মেফতাহুল জান্নাত ও গাইনি বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাঃ রুবী আকতার সিজারিয়ান অপারেশন করেন এবং ৭ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মিডওয়াইফ নরমাল ডেলিভারি কাজে সহায়তা করে থাকেন। এদিকে ওইসব নার্স, আয়া এবং নাইটগার্ডের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান