এম, এ কাশেম, জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :: বেগম খালেদা জিয়া’কে এক কাপড়ে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেয়া হয়: আর তার ফল- ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারের ঘটনা বলে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ।
সাবেক সেনা বাহিনীর প্রধান ও প্রেসিডেন্ট শহীদ ‘জিয়াউর রহমান’ ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে একদল উচ্চাভিলাষী সেনা সৈনিকদের ব্রাশফায়ারে নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার সেনানিবাসের মইনুল রোডের ওই বাড়িটি একজন সেনা অফিসার এর স্ত্রী ও সন্তানদের থাকার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে লিজ দেন। সেনা সদরের ৬ নম্বর শহীদ মইনুল রোডে ২ দশমিক ৭২ একর জমির ওপর স্থাপিত বাড়িটি বছরে এক টাকা খাজনা দেয়ার শর্তে লিজ দেয়া হয়। প্রতি বছর খাজনা ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, ফলের গাছ সহ অন্য কোনো গাছ না কাটা, খনিজ সম্পদ পাওয়া গেলে তা উত্তোলন না করা, বাড়ির পরিবর্তন বা পরিবর্ধন না করা, অন্য কারো কাছে বিক্রি বা লিজ বা বন্ধক না দেয়া ও সম্পত্তি বিভক্ত না করার শর্তে এই লিজ দেয়া হয়।
তবে, তার আগে থেকেই খালেদা জিয়া তার পরিবারের সদস্যদের কে নিয়ে একজন সেনা কর্মকর্তার পরিবার হিসেবে সরকারি ভাবে ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।
এর পর বর্তমানে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত বছরের ৮ এপ্রিল মাসে মন্ত্রিসভা ডেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের ওই বাড়িটির ইজারা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডকে জানিয়ে দেয়া হয়। সরকারের সিদ্ধান্ত জানার পর আইনগত প্রক্রিয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়ি ছাড়তে সামরিক ভূসম্পত্তি প্রশাসক গত বছরের ২০ এপ্রিল নোটিশ দেন বলে সূত্র জানায়। ওই নোটিশে বাড়ি বরাদ্দের শর্ত ভঙ্গের পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে ১৫ দিনের মধ্যে জমি ও বাড়ির দখল সরকারের পক্ষে মিলিটারি এস্টেট অফিসারের কাছে প্রত্যর্পণ করতে বেগম খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করা হয়। ওই নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে রিট করেন। কিন্তু, সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতার অপ প্রয়োগ এর মাধ্যমে হাইকোর্ট’র সংশ্লিষ্ট রায় প্রদানকারী বিচারকে নির্দেশ দিয়ে গত ১৩ অক্টোবর ওই রিট খারিজ করে রায় দেয়া হয়। এবং বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়ি ছাড়ার জন্য ৩০ দিনের সময় দিতে সরকারের প্রতি নির্দেশ দেন।
কথিত আছে-উল্লেখিত সব কিছু-ই সাজানো এবং মিথ্যে। বেগম খালেদা জিয়াকে ওই রকম কোনো সুযোগ-সুবিদাধীর সময় না দিয়ে এক কাপড়ে বাড়ি/বাসা থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেয়া হয়।
বিএনপি’র একাধিক নের্তৃবৃন্দের দাবি: বেগম খালেদা জিয়া সময় চাইলে ও তাকে সেই সুযোগ দেয়া হয়নি।
এর পর বেগম খালেদা জিয়া এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে বিস্তারিত তুলে ধরেন। কোনো কোনো সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কার কাছে বিচার দেবো এবং কে করবেন বিচার? আমি সেনাবাহিনীর দায়িত্ব রত: অফিসারদের কাছে অনুরোধের স্বরে তাদের কাছে বিবেচনা করার কথা জানালে ও তারা কোনো কর্ণপাত করেননি।
তাতে আমি উপায় হীন হয়ে একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে উনার কাছে-ই সেই বিচার এর ভার ছেড়ে দিয়েছিলাম।
আর আল্লাহ সেই আমার সেইর ফরিয়াদ কবুল করে সঠিক বিচার টি করে দেখিয়ে দিলেন তিনি সৎ ও ন্যায় বিচারক। এবং তিনি ছাড় দেন কিন্তু ছেড়ে দেন না।
পুরো বিষয়টি যখন ‘টক্ অব দ্য কান্ট্রি’তে পরিনত হয়েছে তখন দেশের চালিকাশক্তি খ্যাত দেশের প্রধান বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সর্বোত্র চলছে উত্তাপ- উত্তেজনা এবং ব্যাপক আলোচনার স্থান দখল করে নিয়েছে বেগম খালেদা জিয়া’ কে শেখ হাসিনা ক্যান্টনমেন্ট এর বাড়ি থেকে এক কাপড়ে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেয়া এবং শেষোতক জনরোষের পড়ে শেখ হাসিনার পলায়ন এবং গতকাল ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারের ঘটনাবলী।