স্টাফ রিপোর্টার ঃ উত্তরাঞ্চলের অন্যতম খাদ্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁর মহাদেবপুরে ব্যাবসায়ীরা চালের দাম বাড়িয়েছে কেজি প্রতি ৮ টাকা। চালকল মালিক গ্রæপ এবং মজুদদারী আড়ৎদার সমিতির সিন্ডিকেটের দখলে চলছে চালের বাজার। অভিযোগ রয়েছে ওইসব সিন্ডিকেট ইচ্ছা মতো চালের দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করে আসছে বছরের পর বছর ধরে।
উপজেলায় ৪৫ টি অটোমেটিক চালকল এবং ১শ”২৩ টি বৈধ লাইসেন্সকৃত হ্যাসকিন চালকল রয়েছে। এছাড়াও ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ লাইসেন্স নবায়ন বঞ্চিত হয়ে ৭০টি হাসকিন চালকল উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এসব অটোমেটিক চালকল ও হাসকিন চালকলে উৎপাদনকৃত চাল উত্তরাঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা এবং চট্রগ্রামের মোকামে যায়।
উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে সহ¯্রাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরনের খুচরা চাল ব্যবসায়ী রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব ক্ষুদ্র ও মাঝারি খুচরা চাল ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেকেই অভিযোগ করেন, উপজেলা চালকল মালিক গ্রুপ এবং আড়ৎদার সমিতি বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ধানের দাম বেশী, হাটে বাজারে ধানের আমদানি কমসহ নানান অজুহাতে চলতি জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে দফায় দফায় চিকন ও মোটা চালের দাম কেজি প্রতি ৬ টাকা থেকে ৮ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে।
সম্প্রতি চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হলে নওগাঁ জেলা ও মহাদেবপুর উপজেলা বাজার নিয়ন্ত্রণ কমিটি উপজেলার বিভিন্ন চালকল এবং মজুদদারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের। এ পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত জেলার ১৫ টি প্রতিষ্ঠানের ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান।
তবে বাজারে এ অভিযানের তেমন কোন প্রভাব পড়েনি বলে ভোক্তাদের দাবী। উপজেলার বিভিন্ন বাজার সরেজমিনে দেখা গেছে কেজি প্রতি মোটা ও চিকন চালের দাম কমেছে ১ টাকা থেকে ৩ টাকা। অভিযোগ রয়েছে সরকারের জেলা এবং উপজেলা বাজার নিয়ন্ত্রণ কমিটির নিয়মিত তদারকি না থাকায় সুযোগ বুঝে ওইসব সংগঠন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়ে প্রতি বছর ভোক্তাদের পকেট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
অবৈধভাবে মজুদদারী এবং দাম বৃদ্ধিকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দফায় দফায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না জেলার চালের বাজার। নানান অজুহাতে দফায় দফায় চালের দাম বাড়িয়ে দিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করা এবং ভোক্তাদের পকেট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অজ্ঞাত কারণে কঠোর কোন আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছেনা।
কেজি প্রতি ২/৩ টাকা চালের দাম কমেছে দাবী করে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ মোহাজের আলী জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ কামরুল হাসান সোহাগ এর নেতৃত্বে চাল মজুদদারীদের বিরুদ্ধে চলমান ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চালের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি অস্বীকার করে উপজেলা চালকল মালিক গ্রুপ এর সভাপতি ও খাজুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বেলাল উদ্দিন মন্ডল বলেন,
জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হাট-বাজারে ধানের আমদানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি ধানের দাম বেশী হওয়া এবং চালের মিলে উৎপাদন কম হওয়ায় সময়িক ভাবে চালের একটু বেড়েছে। তবে চালের দাম কমতে শুরু করেছে বলে মালিক গ্রুপের এই শীর্ষ নেতা দাবি করেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন নিয়ন্ত্রণহীন মজুদদারী ও চাল সিন্ডিকেট ভাংতে হলে শুধু জরিমানা নয়, আরো কঠোর হতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।