শ্রীপুর, গাজীপুর:
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বহেরার চালা এলাকায় অপহরণ মামলা প্রত্যাহার না করায় মামলার আসামী পৌর ৯নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ নোমান ওরফে আক্তার ভূঁইয়া ও তার দল-বল সহ ভাড়াটিয়া গুন্ডাবাহিনী দিয়ে মামলার বাদী মজিবুর রহমানের একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে মজিবুরের পরিবারটি।
গতকাল শুক্রবার শ্রীপুর পৌর ৯নং ওয়ার্ড বহরের চালায় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মজিবুর বাদী হয়ে দশজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত নামা আরও ১০-১৫ জনের নামে শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী মজিবুর জানান, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে শ্রীপুর পৌর ৯নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ নোমান ওরফে আক্তার ভূইয়ার সহযোগিতায় আমার মেয়েকে দুই দুইবার অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে আমি আক্তার ভূইয়াসহ আরো কয়েকজনের নামে গাজীপুর বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতে চলমান রয়েছে। মামলা প্রত্যাহারের জন্য আক্তার ভূইয়া আমাকে বারবার বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। আমি মামলা প্রত্যাহার না করাই আজ আমার ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। আমি এখন আমার এই ছোট ছোট চারটি শিশু সন্তান নিয়ে কোথায় দাঁড়াবো।
ভুক্তভোগী আরোও জানান, এ জায়গাটুকু আমি আক্তার ভূইয়ার নিকট থেকে ২০ বছরের জন্য লিজ নিয়ে প্রতিবছর ধার্যকৃত ভাড়া আদায় করে গরুর ফার্ম এবং কৃষিকাজ করে জীবন যাপন করে আসছিলাম। কয়েকদিন যাবত অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে এবং বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি হুমকি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সশস্ত্র গুন্ডাবাহিনী দিয়ে আমার ঘরবাড়ি এবং গরুর ফার্ম ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়।
অভিযুক্ত আক্তার ভূইয়া জানান, বিগত ছয়-সাত বছর যাবত মজিবুর রহমান তার পরিবার নিয়ে আমার জায়গা ভাড়া নিয়ে কৃষিকাজ এবং ঘরবাড়ি করে বসবাস করে আসছিল। গত তিন বছর যাবত কোন ভাড়া না দিয়ে বিভিন্নভাবে টালবাহানা করে। এ নিয়ে আমি কয়েকবার তাকে আমার জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলেছি কিন্তু জায়গা ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করে সে। এ বিষয়ে আমি শ্রীপুর থানায়ও অভিযোগ করেছি। পরে থানা পুলিশের অনুমতি নিয়েই আমার জায়গায় নির্মিত ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছি।
এ বিশেষ শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক জানান, এ বিষয়টি জেনেছি এবং তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে দ্রুত আইনুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।