• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।। সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৫ প্রবাসীর মরদেহ দাফন নওগাঁর মান্দায় ভালাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের ব্যাপক গণসংযোগ রাজশাহীতে ডিবির অভিযানে পালিয়েছে কুখ্যাত মাদক কারবারী মাসুম ভারতীয় সিরাপসহ প্রাইভেট কার জব্দ, গ্রেপ্তার ১২ রাজশাহীতে পথকুকুরের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন কাজল রেখা রাজশাহীতে ৫২ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারী গ্রেপ্তার বাঘায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২২ বছরের নারীকে কিশোরী দেখিয়ে থানা থেকে ছাড়ার দাবি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে মেয়েরা, ৩৯ কলেজে কেউ পাস করেনি নওগাঁর মান্দায় এমপির সঙ্গে প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়

মীরসরাইয়ের আওয়ামী ক্ষমতার দাপটে কাজ ভাগিয়ে নেয়া ঠিকাদারদের কারসাজি ১২ বিদ্যালয় কাজ শেষ হয়নি ৮ বছরেও! খোলা মাঠে পড়তে হচ্ছে শিশুদের

দিনকাল বিডি ২৪ / ৭০ Time View
প্রকাশঃ বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০২৫

এম, এ কাশেম ॥ বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :

উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় ৮ বছরে ও শেষ হয়নি ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন
নির্মাণের কাজ। অথচ, এই কাজ সম্পন্ন করার কথা ছিলো মাত্র ১৭ মাসের মধ্যে।
বারবার সময় বাড়িয়ে বিল নিলে ও কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ঠিকাদারদের
মাঝে নেই দ্রুত কাজ শেষ করার তাড়া। এতে শ্রেণীকক্ষ সংকটে চরম দুর্ভোগ
পোহাতে হচ্ছে বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। অনেক স্কুলে ঝড়বৃষ্টি ও রোদের
মাঝে খোলা মাঠে চলছে শ্রেনী কার্যক্রম। সূত্র জানায়, এসব বিদ্যালয়ের
নির্মাণের কাজ পায় ফরিদপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করিম গ্রুপের ওয়াহেদ
কনস্ট্রাকশন ও সরকার স্টিল ইঞ্জিনিয়ারিং। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার
দাপটে বড় বড় কাজ বাগিয়ে নিতো ফরিদপুরের করিম গ্রুপের এই ঠিকাদারি
প্রতিষ্ঠান। তাদের ইচ্ছেমতো কাজ না করেও বিল উত্তোলন করতো। আওয়ামী লীগ
সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মীরসরাইয়ে সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
কাজ না করে পালিয়ে গেছে এ প্রতিষ্ঠান। সরকার স্টিল লিমিটেড একইভাবে তাদের
পাঁচটি স্কুলের কাজ করেই চলে যায়। উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠান
দু’টির বিরুদ্ধে লিখিত প্রতিবেদন দিলেও উপর মহলে গেলে সব ম্যানেজ করতো
ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন। খবর নিয়ে জানা গেছে, গত ৮ বছর ধরে এসব বিদ্যালয়ে ভবনের
অভাবে ক্লাস নিতে হচ্ছে খোলা জায়গায়। কোথাও টিনসেড বেড়ার ঘরে।
শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট কক্ষে অস্থায়ী টিনের ঘরে প্রচন্ড গরমের মধ্যে গাদাগাদি
করে বসে অসুস্থ হয়ে যায়। পাঠদানের পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি
শিক্ষকেরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা
গেছে, মীরসরাই উপজেলায় ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জন্য সরকার বরাদ্দ দেয় ৫১
কোটি ৩২ লাখ ৩১ হাজার ৩৮৪ টাকা। প্রতিটি বিদ্যালয়ের ভবনে নির্মাণের জন্য
৪ কোটি ২৭ লাখ ৬৯ হাজার ২৮২ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ভবন নির্মাণ কাজের জন্য
সময় দেয়া হয় ১৭ মাস। ৮ বছর শেষ হয়ে গেলেও বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজের
এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এই সময়ে মাত্র ৩০ শতাংশের মতো কাজ
হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহেদ কনস্ট্রাকশন ও সরকার স্টিল
আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বোচ্চ মহলের সাথে সরাসরি সম্পর্ক রাখতো বলে
গাফলতি করে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ শেষ করেনি। জানা গেছে, ২০১৮ সালের

ডিসেম্বর মাসে মীরসরাই উপজেলায় সাতটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের
কার্যাদেশ পায় ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন। বিদ্যালয় গুলো হচ্ছে, বদিউল্লাহ পাড়া সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়, পদুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শফিউল আলম আদর্শ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্যম মিঠানালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফয়েজ
উল্যাহ মাস্টার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইতকান্দি চৌধুরী পারা সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডোমখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোলকেরহাট
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়া পাঁচটি স্টিল স্ট্রাকচারের তিন তলা সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরকার স্টিল
ইঞ্জিনিয়ারিং। সরকার স্টিলের বিদ্যালয়গুলো হলো- কমরআলী সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়, মধ্যম ডোমখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,সফি উল্যাহ পাড়া সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী কামাল পাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বিশ্ব দরবার
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিশ্ব দরবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান
শিক্ষক আলা উদ্দিন আনোয়ার বলেন, আমাদের স্কুলটি স্টিল স্ট্রাকচারের ওপর তিনতলা
ভবন হওয়ার কথা। কাজ করছে সরকার স্টিল ইঞ্জিনিয়ারিং। ঠিকাদার সামান্য কাজ করে
পালিয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের শ্রেনীকক্ষ না থাকায় পাশে বাঁশের বেড়া ওপরে টিনের
ঘরে গাদাগাদি করে বসে ক্লাস নিতে হচ্ছে। গরমে শিশুরা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।
সামনে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি পড়বে। উপজেলার যেসব অফিসার আসে
তাদের বারবার বলেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। ৮ বছর ধরে এই অবস্থায় স্কুলটি
ধ্বংস হওয়ার অবস্থা। অথচ ১৭ মাসে আমাদের ভবন নির্মাণ শেষ করে বুঝিয়ে দেয়ার
কথা ছিলো। ১৩ নং মায়ানী ইউনিয়নের শফিউল আলম সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ চন্দ্র দাস বলেন, আমরা ক্লাস রুমের সংকটে
ক্লাস নিতে পারছি না। ৮ বছরেও ভবন পাইনি। আর কবে পাবো জানি না। ৮ বছর
ধরে ঝড়বৃষ্টি রোদে নির্মাণ সামগ্রী নষ্ট হয়েছে। সে গুলোর মধ্যে জীবনের
ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস নিতে হবে। আমরা অনেক বার অভিযোগ দিয়েছি। ঠিকাদার
মাঝে মধ্যে এসে কিছু কাজ করে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এভাবে নির্মাণ সামগ্রী
জং ধরে প্লাস্টার উঠে নষ্ট হয়ে যায়। এত নিম্নমানের কাজ হয়েছে যে বলার অপেক্ষা
রাখে না। ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আইয়ুুব আলী জানান,
তিনি এক বছর আগে মীরসরাইয়ে বদলি হয়ে আসেন। সে জন্য কতো সালে কাজ
শুরু হয়েছে সঠিক বলতে পারছেন না। তাদের কোম্পানির সাতটি স্কুলের জন্য ৩
কোটি ৮০ হাজার বা প্রায় ৪ কোটি বাজেট ছিলো। কাজ পাওয়ার পর শুরুতে দুই
বছর কোভিডের কারণে কাজ বন্ধ ছিলো। তার পর ে নো বন্ধ ছিলো তিনি বলতে তা
পারেন না। তবে, এখন কাজ শুরু হয়েছে। কাজ শেষ হতে ৬ মাস বা আরো কিছু
বেশি সময় লাগতে পারে বলে ও জানান তিনি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম
ফজলুল হক বলেন, ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিগত ৮
বছর ধরে ঝড়বৃষ্টি, বর্ষা ও গরমে কষ্ট করছেন। উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় এসব

প্রকল্প দেখভালো করে। আমি ২০২২ সালে বদলি হয়ে মীরসরাইয়ে আসার পর বারবার
যোগাযোগ করেছি। দু’টি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কিছুদিন যৎসামান্য কাজ
করে আবার চলে যায়। দীর্ঘদিন আর খবর থাকে না। এভাবে কবে শেষ হবে স্কুল
নির্মাণের কাজ বলতে পারছি না। সরকার স্টিল লিমিটেডের পরিচালক জামিল
হোসেন সরকার সাংবাদিকদের জানান, আমরা পাঁচটি স্কুল নির্মাণের কাজ
পেয়েছিলাম। দুটি বাতিল হয়েছে। বাকি তিনটি স্কুলের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে
শুরু করবো। স্টিলের কাজে ভালো অগ্রগতি হয়েছে। তবে, সিভিল কনস্ট্রাকশনের কাজ
বাকি আছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আশা করি শেষ করতে পারবেন বলে ও তিনি
মনে করেন। তিনি আরও বলেন, ২০১৯ সালে কাজ শুরুর পর মহামারি করোনার কারণে
স্টিলের দাম বেড়েছে। আমরা বারবার বরাদ্দ বাড়ানোর আবেদন করেছি। না বাড়ানোর
কারণে এখন আমাদের সর্বস্ব বিক্রি করে হলেও কাজ বুঝিয়ে দিতে হবে। মীরসরাই
উপজেলা প্রকৌশলী রনী সাহা বলেন, ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন ও সরকার স্টিল
ইঞ্জিনিয়ারিং দুটি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। তারা
কিছুদিন কাজ করে তারপর ফেলে চলে যায়। এভাবে ৮ বছর কাজ ফেলে রাখলে গুণগত
মান ঠিক থাকবে না। এলাকাবাসীর অভিযোগ আমরা তদন্ত করে রিপোর্ট করবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category