জেলা প্রতিনিধি, জামালপুর :
জামালপুরের মেলান্দহে হেফাজতে ইসলাম জামালপুর জেলার নির্বাহী সভাপতি ও মেলান্দহ জামিয়া হুসাইনিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি শামসুদ্দিনের উপর হামলার প্রতিবাদে মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সর্বস্তরের তাওহিদী জনতার আয়োজনে মেলান্দহ বড় মসজিদ গেট থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং শহরের চৌরাস্তা মোড়ে এসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
হেফাজতে ইসলাম জামালপুর জেলার সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মো. সোলাইমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন, হেফাজতে ইসলাম জামালপুর জেলার নির্বাহী সভাপতি ও হামলার শিকার মুফতি শামছুদ্দিন, সভাপতি মাওলানা আবুল কাশেম, সহসভাপতি মুফতি মো. মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী খান, যুগ্ম সম্পাদক মুফতি ফরিদ উদ্দিন, ইত্তেফাকুল ওলামা জামালপুর জেলার সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মোঃ রুহুল আমিন প্রমুখ।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা, ২৪ ঘন্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। অন্যথায়, তাঁরা আরো বৃহত কর্মসূচির মাধ্যমে থানা ঘেরাও করবেন বলেও হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।
এর আগে মেলান্দহ জামিয়া হুসাইনিয়া মাদ্রাসা সুত্র জানায়, স্থানীয় পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন বুধবার রাত বারোটার পর মেলান্দহ বাজারে গরু হাটিতে অশ্লীল নৃত্য ও উচ্চশব্দে মাইকে গান পরিবেশন করতে থাকলে পার্শ্ববর্তী জামিয়া হুসাইনিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা ও ঘুমাতে পারছিলনা। এমতাবস্থায়, মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি শামছুদ্দিন মেলান্দহ থানায় ফোন করেও কোন প্রতিকার না পেয়ে একই মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি আমিনুল ইসলাম, বড় মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি ইকরামুল্লাহ ও বিশিষ্ট হোটেল ব্যবসায়ী মাওলানা ইসমাইলকে সংগে নিয়ে গরু হাটিতে গিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ও ঘুমের সমস্যার কথা জানিয়ে শব্দকে সহনীয় মাত্রায় রাখার কথা জানালে, ঘটনাস্থলে থাকা মেলান্দহ জাতীয়তাবাদী পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন সহ আরো কয়েকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের উপর হামলা চালায় এবং অনুষ্ঠানস্থলে থাকা চেয়ার দিয়ে তাদের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে। এতে মুফতি শামছুদ্দিনসহ তার সাথে থাকা আলেমগণ আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁরা মাদ্রাসায় ফিরে আসেন।
আহত মুফতি শামছুদ্দিন বলেন, এই ঘটনায় মেলান্দহ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল আমার সাথে সাক্ষাত করে এমন নেক্কার জনক ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং দোষীদের দল থেকে বহিষ্কার করে তাদের বিচারের আওতায় আনবেন বলে জানান। #