মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী:
রাজশাহী নগরীর নারীকেল বাড়িয়া
এলাকায় শনিবার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে মোঃ সুমন আলী (৪০)
নামে নেশাগ্রস্ত ছেলে নিজের মা সোহাগি বেগমকে (৬০) হাসুয়া দিয়ে
কুপিয়ে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে রাখে। নিহত সোহাগি বেগম বিধবা
ছিলেন এবং তিনি ওই এলাকার মৃত আজিজুলের স্ত্রী ছিলেন। পুলিশ
ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল মর্গে
পাঠিয়েছে।
ঘটনার সময় স্থানীয়রা দেখে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ সুমন ঘরের ভেতরে
ঢুকে গেট লাগিয়ে আত্মগোপন করে। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে
থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় ও পরিজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, মোঃ সুমন দীর্ঘদিন ধরে
হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকের নেশায় আসক্ত ছিলেন। নেশার টাকার জন্য
তিনি নিয়মিত মা ও বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের উপর অত্যাচার চালাতেন এবং
ছোটখাট চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সুমনের ধারালো অস্ত্রÑহাসুয়া বা
রামদা তার কাছে থাকত বলে জানান স্থানীয়রা।
পরিবারের ছোট ছেলে রবিউল ইসলাম মানিক (৩৫) এর স্ত্রী মোসাঃ শান্তি
জানান, আমার ভাসুর সুমন নেশায় আসক্ত। তার চারজন স্ত্রী ছিল, কিন্তু নেশার
কারণে সবাই তাকে ছেড়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে নেশার টাকার জন্য আমার
শাশুড়ীকে অত্যাচার করে আসছিল। এর আগে আমরা তাকে ভাল করার জন্য জেলে
দিয়েছিলাম। কিন্তু জেল থেকে বের হয়ে আরও নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
শান্তি আরও বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নেশার টাকার জন্য শাশুড়ীকে অত্যাচার
করছিল। আমরা তাকে পুলিশে দেওয়ার জণ্য পরিবারের লোকজন আলোচনাও
করেছি। কিন্তু শনিবার রাতেই আমার শাশুড়ীকে কুপিয়ে হত্যা করার পর শয়ন
কক্ষে টেনে রাস্তায় ফেলে দেয়।
চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, এটি
একটি মর্মান্তিক ঘটনা। হত্যাকারী ছেলেকে গ্রেফতার করে থানায় রাখা
হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রামেকে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত
শেষে দুপুরে নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে নিহত নারীর
ছেলে বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
রবিবার দুপুরে হত্যাকারীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান
ওসি।#