• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।। সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৫ প্রবাসীর মরদেহ দাফন নওগাঁর মান্দায় ভালাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের ব্যাপক গণসংযোগ রাজশাহীতে ডিবির অভিযানে পালিয়েছে কুখ্যাত মাদক কারবারী মাসুম ভারতীয় সিরাপসহ প্রাইভেট কার জব্দ, গ্রেপ্তার ১২ রাজশাহীতে পথকুকুরের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন কাজল রেখা রাজশাহীতে ৫২ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারী গ্রেপ্তার বাঘায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২২ বছরের নারীকে কিশোরী দেখিয়ে থানা থেকে ছাড়ার দাবি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে মেয়েরা, ৩৯ কলেজে কেউ পাস করেনি নওগাঁর মান্দায় এমপির সঙ্গে প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়

রাজশাহীতে মাদক কারবারিদের বেপরোয়া তৎপরতা বৃদ্ধি: সীমান্তে নজরদারির অভাব ও গডফাদারদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা

দিনকাল বিডি / ২৯০ Time View
প্রকাশঃ মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী:
সীমান্তে নজরদারির অভাবের সুযোগ নিয়ে রাজশাহীতে মাদক চোরাচালান ও কারবার ব্যাপক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে পদ্মা নদীকে কেন্দ্র করে মাদক কারবারিরা সম্প্রতি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা শ্রমিক ভাড়া করে মাদক কেনা-বেচায় জোর দিচ্ছে, ফলে মাদক বহনকারী শ্রমিকরা মাঝে মাঝে গ্রেপ্তার হলেও আড়ালেই থেকে যাচ্ছে মূল গডফাদাররা। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, জেলে বসেও এখনো কেউ কেউ মাদকের নিয়ন্ত্রণ করছে।
রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও গডফাদারদের দাপট
একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাজশাহীতে তালিকাভুক্ত ৪৬ জন পাইকারি মাদক কারবারি রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জনপ্রতিনিধিও হয়েছেন। এই জনপ্রতিনিধি ও গডফাদারদের অনেকেরই একসময় কিছুই ছিল না, এখন তারা শত কোটি টাকার মালিক।
অভিযোগ রয়েছে, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী মাদক কারবারিদের সরাসরি আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতেন। এমনকি তিনি মাদকের গডফাদার এমন অন্তত ১০ জনকে তাঁর মালিকানাধীন রাজশাহী নগরীর থিম ওমর প্লাজায় ফ্ল্যাট ও দোকান কিনতেও বাধ্য করেছিলেন। এদের মধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ও ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল রানা উল্লেখযোগ্য।
গোদাগাড়ীর সাবেক দুই উপজেলা চেয়ারম্যান, তিন থেকে চারজন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, ৬-৭ জন কাউন্সিলর এবং ২৫-৩০ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তালিকাভুক্ত শীর্ষ গডফাদারদের মধ্যে শীষ মোহাম্মদ, ইটভাটা মালিক তোফাজ্জল হোসেন, বাসের ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম, মাছের ব্যবসায়ী সোহেল রানা এবং সাবেক ইউপি সদস্য সেতাবুর রহমান বাবুসহ আরও অনেকে আছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে থাকা গোদাগাড়ীর ২০-২৫ জন মাদকের গডফাদার আবার এলাকায় ফিরে এসেছে এবং নতুন করে মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েছে। যারা এলাকায় ফিরেছে তাদের মধ্যে মাহবুবুর রহমান, উজ্জল হোসেন, ইব্রাহিম হোসেন, তারেক বাবু, টিপু, আব্দুল মালেক, সোহেল রানা, আসারুল ইসলাম ওরফে রনি প্রমুখের নাম জানা গেছে।
সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার
গত ২৫ অক্টোবর র‌্যাব গোদাগাড়ীর দুর্গম দিয়াড়মানিকচক এলাকার আসারুল ইসলাম ওরফে রনিকে ৬৪০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করেছে। তার সঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলার জাহানারা বেগম (৫০) নামের এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি ট্রেন ও বাসে করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হেরোইন সরবরাহ করতেন। এর আগে ২৩ অক্টোবর গোদাগাড়ী থানা পুলিশ পদ্মা নদীর ধার থেকে ৫০০ গ্রাম হেরোইনসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দুই মাদক কারবারি গোলাম মোস্তফা ও আব্দুর রশিদকে গ্রেপ্তার করেছিল।
নজরদারি কমার অভিযোগ
গোদাগাড়ীর চর আষাড়িয়াদহ এলাকার বাসিন্দা সুজন আলী বলেন, আগে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনের আনাগোনা দেখা গেলেও এখন বিজিবি ছাড়া তেমন কাউকে দেখা যায় না। এর ফলে মাদক কারবারিদের ওপর নজরদারি কমেছে এবং তারা আবারও মাদক ব্যবসা চাঙ্গা করছে।
সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে গতকাল রবিবার একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল আলম বলেন, পুলিশ তার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে। টহলও জোরদার আছে। আমরা এরই মধ্যে বেশকিছু বড় অভিযানও করে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করেছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category