রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক
কমিটির সদস্য ও কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)
রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুনের বিরুদ্ধে
চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। তার একটি কথোপকথনের অডিও
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা
হচ্ছে। প্রায় তিন মিনিটের ওই অডিওতে একজন ব্যবসায়ীর কাছে
দুই লাখ টাকা দাবি করতে শোনা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করা
হয়েছে।
অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তার ব্যবসা সংক্রান্ত
বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলার পর টাকা দাবি করা হয়। তিনি
বলেন, আমার ব্যবসার বিএসটিআই অনুমোদন আছে কি না-
এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। পরে বলা হয়, ব্যবসা চালাতে হলে
টাকা দিতে হবে। এক লাখ দশ হাজার টাকা দেওয়ার পরও ঈদ শুভেচ্ছার
কথা বলে আরও দুই লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোলাম মোস্তফা মামুন। তিনি
দাবি করেন, এটি একটি পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা
কথোপকথন। সেটি এডিট করে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ
হিসেবে ছড়ানো হয়েছে।
গোলাম মোস্তফা মামুন গত জাতীয় নির্বাচনে রাজশাহী থেকে
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তিনি এর আগে রাজশাহী
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন
করেছেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক
পদপ্রত্যাশী বলেও জানা গেছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, মামুন রাজশাহী প্রেসক্লাবের
সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েও বিতর্কে রয়েছেন। কিছু
সাংবাদিকের অভিযোগ, তিনি মূলধারার সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত
না হয়েও প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে এসেছেন এবং এ পরিচয়
ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তবে
এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কয়েকজন সাংবাদিকের অভিযোগ, বিভিন্ন
প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার থেকে নিয়মিত
অর্থ দাবি করা হয়। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব
হয়নি।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার
বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়টি যদি সঠিক প্রমাণিত হয়, তাহলে
দলীয়ভাবে তাকে শোকজ করা হবে।
অভিযোগ ও অডিও প্রসঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়
ব্যবসায়ী মহল। তারা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ
যেন ব্যবসায়ীদের হয়রানি করতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া
প্রয়োজন।#