রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি :
নওগাঁর রাণীনগরে বিভিন্ন হাটবাজারে ধানের
দাম দিন দিন বেড়েই চলছে। গত ২০ দিন ধরে পর্যায়ক্রমে ধানের বাজার
উর্দ্ধোমুখী থাকায় ধানের আমদানিও কমতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার এমন চিত্র দেখা
গেছে উপজেলার বড় ধানের হাট ত্রিমোহনীতে। ধান বিক্রি করতে আসা চাষিরা
বলছে আমরা মৌসুমের শুরুতে ধান বিক্রি করতে গিয়ে আশানূরুপ দাম না পেলেও
এই মৌসুমের শেষের দিকে আমরা ভালো দাম পাচ্ছি। তবে এই সময় আমাদের ঘরে
তেমন ধান নেই। চাতাল ব্যবসায়ীরা বলছে, আজকেও যে দরে ধান কেনা-বেচা হচ্ছে
এই দামে ধান কিনে চাল বের করার পর বিক্রি করতে গিয়ে প্রায় ৫০ থেকে
১০০টাকা প্রতি মনে লোকসান গুনতে হবে। রাণীনগরে ১২৭টি হাসকিং মিলের
মধ্যে প্রায় ৮০টির মতো মিল ইতি মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। মিলাররা বলছে, বাজারে
ধানের আমদানি কম এবং দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চালের যে পরতা পড়ছে বর্তমান বাজার
মূল্যে বিক্রি করতে গিয়ে লোকসানের কবলে পড়ছে।
জানা গেছে, ইরি-বোরো মৌসুমে প্রায় সাড়ে ১৯হাজার হেক্টর জমিতে ধান
চাষ হয়েছিলো। কাটা মাড়াইয়ের সময়ে সরকার ঘোষিত নির্ধারিত দামের চেয়ে
বাজার মূল্য সব সময় বেশি ছিলো। মৌসুমের শুরুতেই ইরি-বোরো ধান জাত
ভেদে বিভিন্ন দরে বিক্রি হয়েছে। মঙ্গলবার ত্রিমোহনী হাটে প্রতিমন কাটারি
জাতের ধান ১৮শ’, স্বর্ণালতা জাতের ধান ১৩শ’৭০, জিরা-১৩শ’ ৮০ টাকা থেকে
১৪শ’, টাকা দরে বেচা-কেনা হচ্ছে। গত ২০ দিনের ব্যবধানে কাটারি জাতের ধান
১০০ টাকা থেকে ১৫০টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
হাটে ধান বিক্রি করতে আসা গাংজোয়ার গ্রামের তাছের আলী জানান, আজ
হাটে স্বর্ণালতা জাতের ধান ১৪শ’ ৮০ টাকা দরে বিক্রি করলাম। মৌসুমের শুরুতে
ধানের তেমন দাম পাইনি। তবে আজকে ধানের বাজার দরে আমি খুশি।
উপজেলার ত্রিমোহনী হাটে ধান কিনতে আসা ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান জানান,
ধানের দাম গত সপ্তাহ ধরে বেড়েই চলছে। আজকেও ধানের দাম উর্দ্ধোমূখী। বিশেষ
করে কাটারিজাতের ধানের দাম বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি
বলছেন, ইরি-বোরো ধানের মৌসুম শেষ দিকে আসার কারণে কৃষকদের ঘরে তেমন
ধান মজুত নেই। তাই বাজারে আমদানি কম হওয়ায় ধানের দাম বেশি।
উপজেলার কুজাইল বাজারের চাতাল মালিক শীতানাথ ঘোষ জানান, বর্তমান ধানের
বাজার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই গতিতে চালের দাম বাড়ছে না। বর্তমান বাজার
দরে ধান কিনে চাল বিক্রি করতে গিয়ে আমাদের লোকাসান হচ্ছে। তার পরেও নানা
কারণে ব্যবসা ধরে রেখেছি।
উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক আনিছুর রহমান জানান, ইরি-বোরো ধানের মৌসুম শেষ
হয়েছে। ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে রোপা-আমন ধান লাগানো শুরু হয়েছে। সরকার
ক্রয় কেন্দ্রে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। চাষিরা মৌসুমের
শুরুতেই পারিবারিক নানা কাজে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়। তাই শেষ দিকে
চাষিদের ঘরে তেমন ধান মজুদ নেই। তাই বাজারে আমদানি কম হওয়ায় ধানের দাম
কিছুটা উর্দ্ধোমূখী। এর মধ্যে মিলারদের কোন কারসাজি আছে কি না তাদের
মজুদ দেখতে আগামী সপ্তাহে আমরা মিলগুলো পরিদর্শন করবো। কোন ধরণের
অসংগতি পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গস্খহণ করা হবে।