গোলাম মোরশেদ,রাণীনগর (নওগাঁ) : নওগাঁর রাণীনগর এবং আত্রাই উপজেলায় গরু চুরির হিড়িক পরেছে। গত ১৮ দিনে ১৯টি গরু এবং দুটি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার মিলছেনা। ফলে চুরি আতংকে পরেছে খামারি ও গরুর মালিকরা। গত ৫আগষ্টের পর থেকে থানাপুলিশ কাজে সক্রিয় নাথাকায় এমন চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রাণীনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়নের কাশিনগর গ্রামের ফজের আলীর ছেলে আইয়ুব আলী জানান,তার ছোট ভাই মুঞ্জু আলী গোয়াল ঘরে গরু রেখে বৃহস্পতিবার রাতে ঘুমিয়ে পরে। সকালে ঘুম থেকে ওঠে দেখতে পান গোয়াল গরের জানালার নিচে সিধ কেটে বাড়ীর মধ্যে ঢুকে দরজা খুলে তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। বর্তমান বাজার অনুযায়ী তিনটি গরুর প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা মূল্য হবে বলে জানান মুঞ্জুর বড় ভাই আইয়ুব আলী।
এর আগে গত ১৬সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার একডালা গ্রামের সখিন উদ্দীনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের প্রায় দেড় লক্ষ টাকা মূল্যের একটি গরু গোয়াল ঘরের তালা কেটে চুরি করে নিয়ে যায়। এঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেও থানাপুলিশ এখনো কোন সন্ধান করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম।
তবে এব্যাপারে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)তারিকুল ইসলাম বলেন,কাশিনগরে গরু চুরির ঘটনা শুনেছি। তবে এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। এছাড়া চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার ও চোরকে ধরতে চেষ্টা চলছে।
অপর দিকে গত ৯সেপ্টেম্বর আত্রাই উপজেলার থাঐপাড়া গ্রামে এক রাতে তিনজন কৃষকের ৭টি গরু এবং দুটি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে জাকির হোসেনের প্রায় দেড় লক্ষ টাকা মূল্যের দুটি গরু এবং প্রায় ২০হাজার টাকা মূল্যের দুটি ছাগল,রাজা আহম্মেদের প্রায় দুই লক্ষ টাকা মূল্যের দুটি গরু,এবং সাইদুর রহমানের দুই লক্ষ টাকা মূল্যের তিনটি গরু চুরি হয়ে যায়। এঘটনায় ওই দিনই আত্রাই থানায় পৃথক পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা। গরুর মালিক জাকির হোসেন বলেন,চুরির ঘটনায় প্রায় ১৮দিন অতিবাহিত হয়ে গেল। এখনো চোরাই গরু উদ্ধার কিম্বা কাউকে গ্রেফতার করতে করতে পারেনি পুলিশ।
এছাড়া গত ২৩সেপ্টেম্বর রাতে আত্রাই উপজেলার দিঘীর পার গ্রামের নিজাম উদ্দীন হাজীর গোয়াল ঘরের তালা কেটে আটটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। আটটি গরুর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১১লক্ষ টাকা হবে বলে জানিয়েছেন গরুর মালিক আলহাজ্ব নিজামউদ্দীন। তিনি আরো বলেন,এঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার ৪/৫দিন অতিবাহিত হলেও গরু উদ্ধার বা চোর সনাক্ত করে আটকের কোন ভুমিকা নেই থানাপুলিশের।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাবদ্দীন বলেন,চুরির বিষয়গুলো ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া চোরাই গরু উদ্ধার এবং চোরকে ধরতে চেষ্টা চলছে।