আনিসুর রহমান বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি :
নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলার (আংশিক) এলাকায় আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ সংকট। গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যাওয়া লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
বুধবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সময়জুড়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ছিল চরম নাজুক। লালপুর জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, এ সময় পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ২৫ মেগাওয়াট, অথচ সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ১০.৫৮ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ১৪.৪২ মেগাওয়াট ঘাটতি পূরণে এলাকাজুড়ে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
দয়ারামপুর জোনাল অফিসের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, “শেষ কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ঈশ্বরদী গ্রিডের ওপর নির্ভরতার কারণেই এ সংকট তৈরি হয়েছে।” তবে এ বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দয়ারামপুর জোনাল অফিসের অধীন ৪ নম্বর ফিডারের আব্দুলপুর জংশন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে চরম অনিয়ম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়সূচি ছাড়াই যখন-তখন বিদ্যুৎ বন্ধ ও চালু করা হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে ফোন করা হলেও অধিকাংশ সময় লাইন ব্যস্ত পাওয়া যায়। কখনো সংযোগ পেলেও গ্রাহকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান, প্রচণ্ড গরমে এমনিতেই জনজীবন বিপর্যস্ত, তার ওপর ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অন্ধকারে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থী, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ। পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে, পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিও থমকে যাচ্ছে।
একাধিক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে, বেচাকেনা কমে গেছে, প্রতিদিন লোকসান বাড়ছে।”
এ বিষয়ে লালপুর জোনাল অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—এই ভোগান্তির শেষ কোথায়?
দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা। অনেকেই বলছেন, “কর্তৃপক্ষও যেন অসহায়—সমাধানের আশ্বাস আছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন নেই।”
অবিলম্বে নিরবচ্ছিন্ন ও সুষ্ঠু বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।