স্টাফ রিপোটার গাজীপুরঃ
মহাসড়কে কোন অবস্থাতেই থ্রি হুইলার,ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উঠতে দেয়া যাবে না। মহাসড়কে অটোরিকশা উঠলেই ডাম্পিং করে থানায় রাখা হবে গাজীপুরের শ্রীপুরে মাওনা হাইওয়ে থানা আয়োজিত ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর রিজিওনের সহকারি পুলিশ সুপার আহমেদ রাজিউর রহমান।
কিন্তু তার দেয়া এমন বক্তব্যের পরদিন থেকেই তিনগুণ বেড়েছে মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশার পরিমাণ। সরেজমিনে গত শনিবার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের শ্রীপুর অংশের ১৩ কিলোমিটার মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হাজারের অধিক ব্যাটারী চালিত অবৈধ অটোরিকশা।
আর এসব অটো রিক্সা জন্য মহাসড়কে দুরপাল্লার পরিবহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে এসব অবৈধ অটোরিকশা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের সামনে দিয়ে হাজারো অটোরিকশা চলাচল করলেও নেই পুলিশী তৎপরতা।
পুলিশ সদস্যরা দাঁড়িয়ে থেকে এসব অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলে সহায়তা করে। শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট পুলিশ ও কিছু সাংবাদিকদের নাম ব্যবহার করে প্রতিটি অবৈধ অটোরিক্সা মাসিক১০/১২ হাজার টাকার চুক্তিতে মহাসড়কে চলাচল করে ।
মাওনা হাইওয়ে থানার ওসির সহযোগিতায় কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য, স্থানীয় নেতা সাংবাদিকরাও এই চলাচলের সাথে জড়িত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের নাম ব্যবহার করে ওসি আইয়ুব আলী নিজেই মহাসড়কে অটো রিক্সার চলাচলে সহযোগিতা করছেন ।
মাওনা হাইওয়ের থানা মহাসড়কে আওতাধীন প্রতিদিন চলাচল করে হাজারের অধিক অটোরিকশা,ব্যাটারি চালিত ভ্যানগাড়ি, সিএনজি ও ফিটনেস বিহীন গাড়ি। আর এইসব গাড়ি মহাসড়কে চলাচল করে সুবিধা নিচ্ছেন ওসি নিজেই। মাওনা হাইওয়ে থানায় যোগদানের পর থেকেই দালালদের মাধ্যমে মহাসড়কে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। যেসব অটো রিক্সা দালালদের মাধ্যমে চুক্তি না হয় সেগুলো বিভিন্ন অভিযানের সময় চিহ্নিত করে সাজানো মামলা দিয়ে থাকেন।
মাওনা হাইওয়ে থানার আওতাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাধখোলা,গড়গুড়িয়া মাস্টারবাড়ি থেকে জয়নাবাজার সীমান্তবর্তী এলাকা পর্যন্ত চলাচল করে এসব অবৈধ অটোরিক্সা।
এছাড়াও মহাসড়কের এমসি বাজার, নয়নপুর বাজার ও জয়নাবাজারে মহাসড়কের উপর কাঁচা বাজার বসিয়ে মাসিক চুক্তিতে ইজারাদারদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মহাসড়কের উপর বাজার বসানোর কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনা। মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট, দুর্ভোগ পোহাতে হয় দূরপাল্লা যাত্রীদের।
মাওনা চৌরাস্তা মহাসড়কের পাশে কাপড়ের ফুটপাতের দোকান,ভাসমান ফলের ভ্যান গাড়ি বসিয়ে প্রতি মাসে লাখ টাকার অধিক চাঁদা নিচ্ছেন। আর এসব ফুটপাত ভাসমান দোকানের জন্য সব সময় লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট। দুর্ভোগে পড়তে হয় শ্রীপুরবাসীর। আর যানজট নিরসনের এখন শ্রীপুরবাসীর মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে,এক মিনিটের রাস্তা পার হতে সময় লাগে আধা ঘন্টার উপরে।
প্রতিনিয়ত মাওনা চৌরাস্তা উড়াল সেতুর নিচে ভাসমান ফলের দোকান বসিয়ে যান চলাচলের বাধা সৃষ্টি করছে। যানজট লেগেই থাকে অথচ এখানে জেলা পুলিশ বক্স শ্রীপুর থানা পুলিশ বক্স ও মাওনা হাইওয়ে থানার একটি বক্স থাকার পরও যানজট নিরসনে পুলিশের নেই কোন ভূমিকা। বিকাল হলে মাওনা হাইওয়ে থানা পুলিশের সহযোগিতা পুলিশ পাহারায় অটোরিকশা যাত্রী ওঠা নামা করছে অথচ পুলিশ কিছুই করে না।
মাওনা চৌরাস্তা উড়াল সেতুর নিচে কথা হয় অটোরিকশা চালক কাউছারের সঙ্গে তিনি বলেন, মহাসড়কে কি এমনি এমনি চলা যায়? আমার এক পরিচিত জনের মাধ্যমে লাইনঘাট করে চালাচ্ছি। পুলিশকে নাম বলেলই ছেড়ে দেয়। মাসে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়।
অটোরিকশা চালক কামাল বলেন, পুলিশের সঙ্গে মান্থলি করে অটোরিকশা চালাতে হয়। মাসে মাসে টাকা দেয়ার পরও মাঝে মধ্যে সমস্যা হয়। একমাস টাকা না দিলে অটোরিকশা জব্দ করে। তাই বাধ্য হয়ে প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা দেই। আমি গরীব মানুষ এতকিছু জানার চেষ্টা করিনা। গাড়ি চালাতে পারলেই হলো।
বেলাল নামে এক অটোরিকশা চালক বলেন, আপনার মতো অনেক সাংবাদিক পুলিশের সঙ্গে আলাপ করে অটোরিকশা চলাচল করার ব্যবস্থা করে দেয়। একমাস টাকা না দিলে পুলিশ অটোরিকশা আটক করে। আমরা নিয়মিত পুলিশকে টাকা দিয়ে অটোরিকশা চালাই। মহাসড়কের যাত্রী বেশি,গাড়ি ও ভালো থাকে। ইনকাম ও আমাদের অনেক বেশি।
মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আয়ুব আলী কাছে জানতে চাইলে কিভাবে মাসোহারা দিয়ে দালাল সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে মহাসড়কে অটো রিক্সা চলাচল করে পরে তিনি উপস্থিত স্থানীয় অন্য এক সাংবাদিকের সাথে কথা বলতে বলে ফোন ধরিয়ে দেন ।
গাজীপুর হাইওয়ে রিজিয়নের পুলিশ সুপার ড. আ ক ম আক্তারুজ্জামান বসু মিয়া বলেন, টাকা দিয়ে মহাসড়কের অটো চলে এটা আমার জানা নেই। তবে মহাসড়কে অটো সিএনজি চলতেছে এটা আপনারা ও জানেন আমরাও জানি। এটা সবাই জানে। এটা জাতীয় ইস্যু। এটা শুধু মাওনা তে না এটা সারা বাংলাদেশে ৪০ লক্ষের বেশি অটো রিক্সা চলে। তারা যখন উল্টা পথে চলতেছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
চলাচলের জন্য যদি কেউ সিন্ডিকেট করে থাকে সেটা লুকালি করে থাকুক আমাদের কাছে তথ্য আছে। সাংবাদিকরাও এটার সাথে জড়িত আছে।,পুলিশ তো আছেই। এ সমস্ত সিন্ডিকেটের ব্যাপারে আমার কাছে আসলে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। এ ধরনের ঘটনা যখন আমার কানে আসে তখন আমি ব্যবস্থা নেই আমি আমার ইন্সপেক্টরকে ক্লােজ করেছি। আপনারা রিপোর্ট করেন, রিপোর্ট করলে এগুলো আমাদের নলেজে আসে।