মোহাম্মদ ওসামা -স্টাফ রিপোর্টার
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে , সময় নষ্ট না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নির্বাচন দিন । নতুন ইস্যু টেনে এনে সংস্কার, নির্বাচন ,গণতন্ত্রের পথ প্রলম্বিত এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বিনস্ট না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যৌক্তিক সময় পর হয়ে গেলে দির্ঘদিনধরে নির্বাচন ও গণতন্ত্রহীন জনগণের ধৈর্যের বাধ ধরে রাখা যাবে না।
তিনি শুক্রবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৪, বিকেলে, গাজীপুর মহানগরীর সদর মেট্রো থানার সালনায় জানজালিয়া ঈদগাহ মাঠে গাজীপুরে কর্মরত ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার অধিবাসীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন । বিপুল সংখ্যক জনসাধারণের উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভাটি জনসমাবেশে পরিণত হয়।
সমাবেশে প্রেসিডেন্ট নিয়ে নতুন বিতর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবিধানিক সঙ্কট সৃস্টি হলে এর মধ্যে পরাজিত শক্তি সহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সুযোগ সন্ধানী স্বার্থান্বেষি মহল অপ উদ্দেশ্য হাসিল করে গণ আকাঙ্খা নস্যাত করতে পারে । ব্যক্তিগতভাবে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ থাকলেও যে ভাবেই হোক,সাংবিধানিক ভাবে তিনি প্রেসিডেন্ট । তাকে অপসারণ করার সাংবিধানিক পদ্ধতিও বিদ্যমান নাই। অন্য কোনো উপায়ে অপসারণ করতে গেলে সাংবিধানিক সঙ্কট বা শূন্যতার সৃস্টি হতে পারে, যা কাঙ্খিত নয়।
সমাবেশে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, গণহত্যাকারী,গণতন্ত্র হরণকারী , আধিপত্যবাদের শিখন্ডি শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ গণশত্রু ।তাদের কোনো ক্ষমা নাই। ভারতে রাষ্ট্রীয় আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে শেখ হাসিনা যতই আরাম আয়েশ করুন না কেনো, বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে তার বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। আওয়ামী লীগের শরীরে ছাত্র জনতার রক্তের দাগ। আওয়ামী লীগকে অবশ্যই জবাব দিতে হবে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের গণহত্যার জন্য কোনো অনুশোচনা নেই ।উল্টো তারা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায় চাপিয়ে হুঙ্কার দিচ্ছে । তিনি সরকারের প্রতি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান।
ছাত্র সমন্বয়ক সারজিস আলমের ‘ ৫ আগস্টের পর গিরগিটির মতো অনেক ভুয়া সমন্বয়ক তৈরি হয়েছে , তাদের মধ্যে সুবিধাবাদী চরিত্রটা পূর্বেও ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। এদের আলাদা করা না হলে সমন্বয়কের নাম ভাঙিয়ে আমাদের ইমেজ খেয়ে ফেলবে। দেশের অনেক জেলায় এমনটা হচ্ছে।’ বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার এই উপলব্ধির জন্য ধন্যবাদ। তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় হতাশ।
তিনি বলেন, বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে যারা অপকর্মে লিপ্ত ,তাদের বিরুদ্ধে তারেক রহমান সাংগঠনিক ও আইনগত নিতে দ্বিধা করছেন না। মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়ে ১৬ ডিসেম্বরের পর তারা যেমন মুক্তিযোদ্ধা দাবী করে ‘সিক্সটিন ডিভিশন’ সৃস্টি হয়েছিলো, ৫ আগস্টের পর ছাত্র গণ আন্দোলনে অংশ না নিয়েও ‘ফিফথ ডিভিশন’ সৃষ্টি হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি গাজীপুরে অবস্থানকারী হালুয়াঘাট,,ধোবাউড়ার জনগণের প্রতি এলাকার রাজনীতি ও উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়ে আলোকিত, শান্তি ও নিরাপদ হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া গড়তে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন ।
গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে ও বাসন থানার সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনিরের সঞ্চালনায়
অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শুক্কুর মাহমুদ ববি, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব সুরুজ আহমেদ,ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদার, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য আনিসুর রহমান মানিক, মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটন, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফারুক হোসাইন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মৎস্যজীবী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান , ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ সভাপতি আবদুল আজিজ খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন ।