• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।। সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৫ প্রবাসীর মরদেহ দাফন নওগাঁর মান্দায় ভালাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের ব্যাপক গণসংযোগ রাজশাহীতে ডিবির অভিযানে পালিয়েছে কুখ্যাত মাদক কারবারী মাসুম ভারতীয় সিরাপসহ প্রাইভেট কার জব্দ, গ্রেপ্তার ১২ রাজশাহীতে পথকুকুরের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন কাজল রেখা রাজশাহীতে ৫২ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারী গ্রেপ্তার বাঘায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২২ বছরের নারীকে কিশোরী দেখিয়ে থানা থেকে ছাড়ার দাবি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে মেয়েরা, ৩৯ কলেজে কেউ পাস করেনি নওগাঁর মান্দায় এমপির সঙ্গে প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়

সনাতনী ফতোয়া দিয়ে হরিভক্ত পরিবারকে সমাজচ্যুত করেছে সমাজপতি

দিনকাল বিডি ২৪ / ১৪৫ Time View
প্রকাশঃ শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৩

বাগেরহাট প্রতিনিধি ।।
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় সনাতনী প্রথার ফতোয়া দিয়ে এক পরিবারকে অমানবিকভাবে সমাজচ্যুত করা হয়েছে। বাবার মৃত্যুতে ‘চুল-দাড়ি ফেলে মাথা ন্যাড়া না করায়’ মতুয়া হরিভক্ত শংকর পাগল ওরফে দিপ¦ন বাড়ৈর বাবার শেষ শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেনি কোন গ্রামবাসী। সমাজপতিদের এই অমানবিক ভিত্তিহীন প্রথা বাতিল সহ তাদের উপর অন্যায়ের বিচার চেয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার। এই ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর, ২০২৩)। এই ঘটনা গোটা এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর, ২০২৩) চিতলমারীর সন্তোষপুর ইউনিয়নের ০৬ নং ওয়ার্ডের কালিগঞ্জে গিয়ে দেখা যায়, শংকরের বাড়ির উঠোনে হরি-গুরুচাঁদের জরাজীর্ণ মন্দিরে তার বাবার শেষ শ্রদ্ধাঅনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে কোন গ্রামবাসী উপস্থিত নেই। বাড়ির সামনের রাস্তা হতে গ্রামের কেউ কেউ উঁকি দিচ্ছে। দুরের গ্রাম হতে আগত মতুয়া হরিভক্ত ও আত্মীয়রা এসেছেন। শাস্ত্রীয় মতে মতুয়া আদর্শে কোন রকমে এই অনুষ্ঠান হচ্ছে।

ভুক্তভোগী শংকর পাগল ওরফে দিপ¦ন বাড়ৈ (৫৩) বলেন, ১১ দিন আগে ভারতে বসে তাঁর বাবার মুত্যু ও শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এরপর গত ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ সমাজের লোকদের তাঁর বাড়িতে ডেকে বাবার শ্রদ্ধাঅনুষ্ঠান কিভাবে করা যায় সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করেন। আলোচনায় সমাজপতি অনিল কৃষ্ণ বাড়ৈ বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে চলে আসা হিন্দু প্রথা তোমাকে মানতে হবে। তোমার লম্বা লম্বা চুল-দাড়ি ফেলে মাথা মুন্ডন করতে হবে। মাথা ন্যাড়া না করলে গ্রামের কোন লোক তোমার বাবার শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে আসবে না- অন্নও গ্রহন করবে না। তুমি হবে সমাজচ্যুত!’

শংকর আরো বলেন, ছয় বছর বয়স থেকে তিনি ওড়াকান্দির হরি-গুরুচাঁদ ভক্ত। প্রায় ৩০ বছর ধরে তার মাথায় লম্বা চুল-দাড়ি রয়েছে। যেখানেই মতুয়া মহোৎসব হয় সেখানেই তিনি ‘হরিবোল’ নামে মাতোয়ারা হন। তখন এই চুল-দাড়িসহ গোটা হরিনামে জিকির করে। পরসম্পদে লোভ নেই। সৎ জীবনযাপন করি। পিতৃবিয়োগে শান্তনার পরিবর্তে সমাজের কাছ থেকে এই অমানবিক আচরণ তিনি প্রত্যাশা করেন না।’ শংকরের কথা শুনে ক্ষেপে যায় সমাজপতি অনিল কৃষ্ণ বাড়ৈ (চিতলমারীর সন্তোষপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক)।

তিনি শংকরকে সমাজচ্যুতির ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে নিয়ে চলে যান। এতে শোকে ভেঙ্গে পড়ে শংকর ও তার পরিবার। শংকর ও তার পরিবার এই অন্যায়ের বিচার চান। প্রসঙ্গত, শংকর পাগল খাজা খানজাহান আলী, গাজী কালাচাঁদ, সাঁই লালন ফকির সহ বিভিন্ন মাজারের উৎসবেও যান ।

শেষ শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানের পুরোহিত মতুয়া বিধান রায় স্মৃতি-চিন্তামনি সহ হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন শাস্ত্রগ্রন্থের তথ্যসূত্র উল্লেখ করে বলেন, ‘মা-বাবার মৃত্যুর পর চুল-দাড়ি ফেলে মাথান্যাড়া করার কথা কোথাও বলা হয়নি। সমাজপতিরা অন্যায়ভাবে এসব করে। পিতৃহীন সন্তানকে যেখানে গ্রাম-প্রতিবেশিরা সান্তনা দেবে, সেটা না করে শংকর ও তার পরিবারের প্রতি অবিচার করা হয়েছে।’

এই অনুষ্ঠানে আগত চিতলমারী সদর ইউনিয়নের ৪,৫, ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য উমা মন্ডল বলেন, ‘সমাজপতিরা অতীতকালের ব্রাহ্মণদের তাদের স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করে। ছেলে সন্তানের মাথান্যাড়া করার কথা কোন শাস্ত্রগ্রন্থে আছে তা তারা দেখাতে পারেনা। দেশের আইরে যেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মানবাধিকারকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। সেখানে এমন অমানবিকতার প্রতিকার হওয়া দরকার।

শংকরের প্রতিবেশি সন্তোষপুর ইউনিয়নের ০৬নং ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্য রবীন্দ্রনাথ বিশ^াস বলেন, সমাজের লোকদের নিয়ে শংকরের বাড়িতে যেদিন সভা হয় সেদিন তিনি এলাকায় ছিলেন না। পরে বিষয়টি শুনেছেন। উন্নয়নের ধারায় দেশ যখন এগিয়ে চলেছে- তখনো ধর্মীয় প্রথার ফতোয়া দিয়ে এক পরিবারকে অমানবিকভাবে সমাজচ্যুত করাটা অন্যায়। আমার এখানে প্রত্যেকে মৌলিক অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকবে সেটাই প্রত্যাশা।’

অভিযুক্ত সমাজপতি অনিল কৃষ্ণ বাড়ৈ (৬৫) শংকরের পরিবারকে সমাজচ্যুতি করার কথা স্বীকার করে জানান, ‘কোন শাস্ত্রীয় ধর্মগ্রন্থে চুল-দাড়ি ফেলে মাথামুন্ডন বা ন্যাড়া করার কথা বলা আছে কি-না তিনি জানেন না। যুগ যুগ ধরে চলে আসা প্রথা তারা বিশ^াস করেন। তাই চুল-দাড়ি ফেলে মাথা ন্যাড়া না করায় শংকরের বাবার শ্রদ্ধাঅনুষ্ঠানে তারা যাননি। সে সমাজের নিয়ম মানেনা। তাই দশমহলের বড় সমাজের সমাজপতি কমল মজুমদারের পরামর্শে শংকরকে সমাজচ্যুত করা হয়।
এই ব্যাপারে জানতে সমাজপতি কমল মজুমদারের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ মতুয়া মহাসংঘ কেন্দীয় কমিটির সদস্য ও চিতলমারী উপজেলা শাখার সভাপতি অলোক বিশ^াস বলেন, ‘হরি-গুরুচাঁদের মতুয়াদর্শে প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মানবিক দিককে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category