বাগেরহাট প্রতিনিধি ।।
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে চাকরি দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এক বিজিবি সদস্য কে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
রবিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে বাগেরহাটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আছাদুল ইসলাম এর আদালতে জামিনের জন্য হাজির হলে আদালত তাকে জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
অভিযুক্ত বিজিবি সদস্য মামুন জমাদ্দার রাঙ্গামাটি জেলায় ২২ বিজিবি বরকল সৈনিক হিসেবে কর্মরত। সে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার উত্তর সুতা লড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী জমাদ্দারের ছেলে ।
মামলার এজাহার জানা যায়,অভিযুক্ত ও বিজিবি সদস্য মামুন জমাদ্দার বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে মোড়েলগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে সিটি ব্যাংক ও বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেবার কথা বলে মোটা অংকের
টাকা হাতিয়ে নেয়। এ সময় নিজেকে বিজিবির পদস্থ একজন কর্মকর্তা বলেও পরিচয় দিয়ে আস্থা অর্জন করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে। সর্বপ্রথম গেল বছরের এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখে সিটি ব্যাংকে চাকরির কথা বলে মোড়েলগঞ্জের হাসিবুর রহমানের কাছে ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করে।
এ সময় দশ দফায় তার কাছ থেকে ১১ লক্ষ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক মোড়েলগঞ্জ শাখার মাধ্যমে ২ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা নেয়।বাকি টাকা মামুন জমাদ্দার নগদ গ্রহণ করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়
।পরবর্তীতে মোরেলগঞ্জের ফুলহাতা গ্রামে নাজমা আক্তার এর কাছ থেকে ব্যবসা করার কথা বলে ১৫ লক্ষ টাকা ৬ মাস পর ফেরত দেওয়ার কথা বলে নেয়। বিজেবিতে পিওনের চাকরির কথা বলে হাসিবুর রহমানের নিকট থেকে আবারও ৮ লক্ষ টাকা নগদ গ্রহণ করে।
ইটালিতে পাঠাবে বলে মোড়েলগঞ্জ পৌর এলাকার নুরজাহান বেগমের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। ত্রানের ঘর ঘর দেয়ার কথা বলে দেলোয়ার মোল্লার কাছ থেকেও ১ লক্ষ টাকা গ্রহণ করে।
এছাড়াও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে (০১৮৬৯০০১০৪৪) এই নাম্বারে মামুন ১২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে নেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এভাবে মামুন জমাদ্দার প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ ও বাগেরহাট পৌরসভার হরিন খানা এলাকায় থেকে। শহরের হরিণ খানা এলাকায় জাহানারা বেগম বাদী হয়ে মামুন জমাদারের বিরুদ্ধে প্রতারণা করে আড়াই লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগে একটি মামলাও করেছে আদালতে।
এই মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে মামুন জমাদার হরিণখানা এলাকায় জনৈক মাসুদের বাড়িতে ভাড়া থাকার সময় ত্রানের ঘর দেওয়ার কথা বলে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।
মামুন জমাদ্দার এই এলাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করে আসমা নামের এক কলেজ ছাত্রীকে নিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকতো। মামুন জমাদ্দার এর আগেও আরো ১ টি বিয়ে রয়েছে এ কথা জানতে পেরে তার দ্বিতীয় স্ত্রী তার নামেও আদালতে একটি নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করেছে।
এই মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী৷ শেখ বাহাদুর ইসলাম জানান বিজিবি সদস্য থেকে এমন প্রতারণা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। সে যেমন সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে প্রায় কোটি টাকা হাতে নিয়েছে তেমনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গেও প্রতারণা করে বিয়ে করেছে। কেউ আইনের উর্ধ্বে নয় আমরা আদালতে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করি। #