এম, এ কাশেম জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :: উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই সদরে অবস্থিত উপজেলা বিএনপির কার্যালয়/ অফিস ভাঙার অপরাধে সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মীরসরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, মোশাররফ পুত্র সাবেক এমপি মাহবুবুর রহমান রুহেল ও মীরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলার ১নং করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন সহ ২৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, মীরসরাই উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের উপজেলার দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় ৮ বছর পর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক এস এম হারুন বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে প্রধান আসামি করে ৯০ জনের নামে মীরসরাই থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় শহীদ খান নামে এজাহারভুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলায় মোশাররফ পুত্র ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব রহমান রুহেল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন,সাবেক উপজেলার চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন, মীরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১ নং করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন, মীরসরাই পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, বারইয়ারহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম খোকন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এরাদুল হক নিজামী ভুট্টো, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিট সহ ১৬ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মীরসরাই পৌরসভার সব কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের ও আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর মীরসরাই পৌর ভবনের পাশে অবস্থিত বিএনপি’র দলীয় উপজেলা কার্যালয়টি সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব রহমান রুহেলের নের্তৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৮০ থেকে ১০০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভাঙচুর করে। বুলডোজার দিয়ে ভবন গুঁড়িয়ে কার্যালয়ে থাকা টিভি, আসবাব ভাঙচুর করে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি করে। এ সময় বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।
তখন এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে স্বৈরাচার সরকারের অনুসারীদের ভয়ে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। উল্টো উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভার বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করে।
মামলা প্রসঙ্গে মীরসরাই থানার ওসি আবদুল কাদের বলেন, বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগে ৯০ জনের নাম উল্লেখ করে হারুন নামে একজন বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। এজাহারভুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
One attachment
• Scanned by Gmail