• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
রাণীনগরে বাসার সামনে থেকে চোখের পলকের মধ্যে মোটরসাইকেল চুরি রাণীনগরে অসহায় নারীর ৬০ শতাংশ জমির ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে রাজশাহী ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়নের সৌজন্য সাক্ষাৎ মান্দায় ২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার নওগাঁয় স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর অভিযোগ ‘মিথ্যা ও সাজানো’: সন্তানদের মুখে মায়ের নির্যাতনের বর্ণনা নেত্রকোণায় বোরো সংগ্রহ শুরু, কৃষকের ধানে মিলবে ন্যায্য মূল্য: প্রতিমন্ত্রী নওগাঁর মান্দায় ধানী জমির মাটি কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দীর্ঘ আট বছর পর নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা শেরপুর সীমান্তে বিজিবির জালে মানব পাচার চক্রের ‘গডফাদার’ ফারুক আটক শেরপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

৫ ঘণ্টায় গুনে আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ মাজারে মিলল দেড় লাখ

দিনকাল বিডি ২৪ / ২১ Time View
প্রকাশঃ শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

৫ ঘণ্টায় গুনে হজরত আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ (রহ.) মাজারে প্রায় দেড় লাখ টাকা পাওয়া গেছে| মাজারের তালা খুলে টানা ৫ ঘণ্টা গণনা শেষে টাকাগুলো পাওয়া যায়|

মাজার কমিটি সূত্র জানায়, বৃহসপতিবার(৩০-০৪-২০২৬) দুপুরে মাজারের ভেতর থেকে টাকা সংগ্রহ করে দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত গণনা করা হয়| এতে সবচেয়ে ১০ টাকার নোট বেশি পাওয়া গেছে | নোট ও কয়েনের হিসাবে- ১০০০ টাকার নোট ৩টি, ৫০০ টাকার নোট ৩২টি, ২০০ টাকার নোট ৩৮টি, ১০০ টাকার নোট ৪৩১টি,৫০ টাকার নোট ৬২৪টি, ২০ টাকার নোট ৪৮০টি, ১০ টাকার নোট ৩৩০০টি, ৫ টাকার নোট ৩৪০টি, ২ টাকার নোট ১০০টি , ৫ টাকার কয়েন ৩০০টি | সর্বমোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯০০ টাকা|

ওয়াক&ফ এস্টেট উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম (রইশ) জানান, “বৃহসতিবার দুপুর আড়াইটায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওয়াক&ফ কমিটির সহ সভাপতির প্রতিনিধি ও আমার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে মাজারের তালা খুলে টাকাগুলো সংগ্রহ করা হয় এবং তাদের মাধ্যমে গণনা শেষে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়া গেছে| পুরো টাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আমার মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে|
তিনি আরো জানান, সংগৃহীত অর্থ মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ, এতিমদের সহায়তা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি হিসেবে ব্যয় করা হয়| নিয়মিত হিসাব নিরীক্ষার মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়|

তিনি আরও জানান, দেড় মাস আগে মাজারের ভেতর থেকে ৭১ হাজার ৫৩ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং দানবাক্স থেকে পাওয়া গেছে ৫৭ হাজার ৪১ টাকা| তবে বৃহসপতিবার দান বাক্স খোলা হয়নি|

গণনার সময় উপস্থিত ভক্ত রেজাউল করিম বলেন, টাকাটা ভালো কাজে লাগলেই হলো|
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মাজারের ভেতরে টাকার স্তূপ উপচে পড়ে আছে| বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছিলেন স্থানীয়রা| তার আগেই প্রশাসন ও কমিটি যৌথভাবে গণনার উদ্যোগ নেয় |
সুত্র জানায়,মাজারটি বাঘা হজরত শাহ দৌলা (রহ.) ওয়াক&ফ এস্টেটের অধীনে পরিচালিত| মাজার এলাকায় আরও পাঁচটি দানবাক্স রয়েছে| দানবাক্স ও মাজারের ভেতরের টাকা উত্তোলনের জন্য যৌথ হিসাবের ব্যবস্থা রয়েছে| এর চাবি থাকে কমিটির সহসভাপতি ও সদস্য সচিবের কাছে| ফলে এককভাবে কেউ ইচ্ছামতো তা খুলতে পারেন না|

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওয়াক&ফ কমিটির সহ সভাপতি শাম্মী আক্তার বলেন, “মাজারের আয়-ব্যয়ে ¯^চ্ছতা আনতে কমিটিকে নিয়মিত গণনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে| ওয়াকফ প্রশাসনের নিয়ম মেনে সব টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে| শিগগিরই আবার দানবাক্স খোলা হবে|’ ‘মাজারের আয়-ব্যয় ¯^চ্ছভাবে পরিচালিত হয়| এখন থেকে প্রতি মাসে একবার করে বাক্স খুলে হিসাব করা হবে| প্রতি মাসের হিসাব আমাদের দপ্তরে দিতে হবে|”

স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় ভক্তি ও আস্থার কেন্দ্র হিসেবে এই মাজার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এখানকার দানের অর্থ সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে|

উল্লেখ্য, হজরত আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ (রহ.) ও তাঁর পিতা হজরত শাহ মোয়াজ্জেম (রহ.) এই অঞ্চলের প্রখ্যাত সুফি সাধক ছিলেন| প্রায় পাঁচ শতাব্দী আগে তারা ইসলাম প্রচার ও মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করেন| বর্তমানে তাদের মাজার বাঘার অন্যতম ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত|


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category