এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম থেকে : তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, একদিকে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উন্নয়নের জন্য রাস্তা–ঘাট, ব্রিজ–কালভার্ট, রেললাইন বানায়, নদী ভাঙন রোধ করে, শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই দেয়।
আর বিএনপি নির্বাচন বর্জনের নামে দেশের সম্পদ নষ্ট করে দিচ্ছে। বাসে–ট্রেনে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করছে, আর মানুষ পোড়ায়। রাজনীতির নামে এভাবে মানুষ পোড়ানোর অপরাজনীতি দুনিয়ার কোথাও নাই। এগুলোকে আমি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে অবিহিত করি। এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে কঠোর হাতে তাদের দমন করতে হবে।
তিনি বলেন, জামায়াত ইসলামী স্লোগান দেয়–আল্লাহর আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই। ওরা বলে–ইসলাম প্রতিষ্ঠা করবে। আজকে ফিলিস্তিনে মুসলমানদেরকে পাখি শিকার করার মতো করে হত্যা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে, তৎমধ্যে বেশিরভাগ নারী এবং শিশু। বিএনপি–জামায়াত আজ পর্যন্ত একটি শব্দ ইসরাইলের বিরুদ্ধে উচ্চারণ করেনি। কারণ একটি বড় রাষ্ট্র নাখোশ হতে পারে। তারা আজকে ইসরাইলের দোসর ও মোনাফেক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছ। সুতরাং, এদেরকে চিনে রাখতে হবে। এরা নানা বিভ্রান্তি ছড়ায়।
গতকাল শনিবার দুপুর থেকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা ইউনিয়নের গোয়ালপুরা বাজার, কোদালা বাজার, চা বাগান এলাকাসহ কয়েকটি স্থানে চট্টগ্রাম–৭ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. হাছান মাহমুদ নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এ সময় কোদালা চা বাগানের শ্রমিক, গ্রামের নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কথা বলেন এবং নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন তিনি। এরপর রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ও বোয়ালখালীর শ্রীপুর–খরন্দ্বীপ ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কর্ণফুলী নদীসহ রাঙ্গুনিয়ার অন্যান্য নদীর ভাঙন রোধে ইতোমধ্যে ৫০০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে, আরো ১০০ কোটি টাকার কাজ হবে। অনেক জেলায়ও এত উন্নয়ন কাজ হয়নি। রাঙ্গুনিয়ার ৮ হাজার ছেলে মেয়ের চাকুরি হয়েছে আমার হাত দিয়ে। চাকুরির সুপারিশ করার সময় আমি কখনো ভাবিনি, কে কোন দল করে। আমি সব মানুষের এমপি হবার চেষ্টা করেছি।
আগামী ৭ জানুয়ারি আত্মীয়–স্বজন সবাইকে সাথে নিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে ড. হাছান বলেন, অনেকে বিএনপি ঘরনার মানুষ আছে, আমি জানি, তারাও অনেকে আমাকে ভোট দেয়। রাঙ্গুনিয়ায় আগেও এমপি, মন্ত্রী ছিল। কেউ একটি মসজিদ ভবন বানিয়েছে দেখিয়ে দিতে পারবেন না। মসজিদের মধ্যে কিছু টাকা দিয়েছে বা এক–দুই টন টিআর দিয়েছে বলতে পারবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমার পারিবারিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান এনএনকে ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়ায় ২৪টি নতুন মসজিদ বিল্ডিং করে দিয়েছি। রাঙ্গুনিয়ার প্রতিটি মসজিদ, মন্দির ও প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বরাদ্দ পেয়েছে। গত ১৫ বছর সবার জন্য আমার দরজা খোলা রেখেছি, পাঁচ বছর পর আমি আপনাদের দুয়ারে এসেছি, আপনারা দয়া করে আপনাদের দুয়ারটি আমার জন্য খুলে দিবেন। ৭ জানুয়ারি সবাইকে সাথে নিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দিবেন সেই প্রত্যাশা রইল।
নির্বাচনী এ প্রচারণা কার্যক্রমে আওয়ামী লীগের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।