নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
আজ বৃহস্পতিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র আঞ্চলে নাচোলের রানীমা খ্যাত তে-ভাগা আন্দলনের কিংবদন্তি নেত্রী বীরাঙ্গনা ইলামিত্রের ২০তম মৃত্যু বার্ষিকী নাচোলের ঐতিহাসিক কেন্দুয়ায় ইলামিত্র সংসদের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।
ইতিহাস থেকে জানা যায় যশোহর জেলার জমিদার কন্যা ইলামিত্রের সাথে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রামচন্দ্রপুর হাটের জমিদার রমেন মিত্রের বিয়ে হয়। ততকালিন পাকিস্তান সরকারের আমলে পূর্ববঙ্গে স্বরাজ আন্দলনের দানা বাঁধতে থাকে।
এদিকে জমিদারদের জমিতে উৎপাদিত ফসলের হিস্যা বা বর্গাদার কৃষকদের অংশ নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবী জমিদারবউ ইলামিত্র তাঁর স্বামীর জমিদারীতে ৩ ভাগের একভাগ জমির মালিকের, একভাগ বর্গা চাষির ও একভাগ জমির উৎপাদন খরচ। জমির মালিক অথবা বর্গদার যিনি উৎপাদন খরচ বহন করবেন, তিনিই ২ ভাগ পাবেন। এ অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
আর এটিই ঐতিহাসিক তে-ভাগা আন্দলন। পরবর্তিতে অন্যান্য জমিদারের সাথে বর্গাচাষীদের প্রাপ্য অংশ নিয়ে আন্দলন শুরু হয়। ততকালিন পাকিস্তান সরকার বর্গাচাষিদের ওই আন্দলনকে রাস্ট্র বিরোধী আন্দলন হিসেবে দমন করার জন্য নাচোলের কেন্দুয়া, ঘাষুড়া রাওতাড়া ও এর পার্শবর্তি এলাকায় চাষিদের উপর নির্যাতন চালায়।
পুলিশ কেন্দুয়া, ঘাষুড়া ও রাওতাড়ার ৫জন বর্গা চাষিকে আটক করে এবং নির্যাতন শেষে হত্যা করে। পুলিশের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এক পর্যায়ে হিন্দু, মুসলিম ও বিশেষ করে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের বর্গাচাষিরা রাওতাড়া এলাকায় ৫ জন পাকিস্তানী বাহিনীকে হত্যা করে। ফলে আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর শুরু হয় জুলুম নির্যাতন। আন্দলনের নেত্রী ইলামিত্র গোপনে নাচোল থেকে রহনপুর যাবার পথে পাকিস্তানী পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন।
রহনপুরের হাজতখানায় ইলামিত্রের প্রতি শারিরিক নির্যাতন চালায় পুলিশ। পরে পুলিশ ইলামিত্রকে রাজশাহী কারাগারে পাঠায়। একসময় ইলামিত্র মুক্তি পান। সেই থেকে রানী ইলামিত্র বরেন্দ্র অ ল নাচোলের বর্গাচাষিদের নিকট রানীমা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। বরেণ্য চলচিত্র নির্মাতা সৈয়দ ওয়াহিদুজ্জামান ডাইমন্ড ইলামিত্রের জীবনালেখ্যের উপর “নাচোল রাণী” চলচিত্র নির্মান করেন।
ইলামিত্র সংসদের সভাপতি বিধান সিং জানান, বিগত ১৩ বছর যাবত রানীমা ইলামিত্রের জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকি এবং কেন্দুয়ায় প্রতিষ্ঠিত ইলামিত্রের ঐতিহাসিক কালিমন্দিরে কালিপুজা উদযাপণ করে আসছি। রানীমা ভক্তবৃন্দের অনুপ্রেরনায়, উপদেষ্টাদের উৎসাহে রানীমা ইলামিত্রের প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধাসহকারে সমস্ত আয়োজন করে আসছি।