• বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ফুলবাড়ীতে মারপিট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ, আহত ২, থানায় এজাহার মোঃ আশরাফুল আলম রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে মাদক কারবারী গ্রেফতার -৬ রাজশাহী নগরীতে জুয়া খেলা অবস্থায় ১০ জুয়াড়ি গ্রেফতার নওগাঁর আত্রাইয়ে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত নওগাঁর আত্রাইয়ে পরিদর্শন কক্ষের শুভ উদ্বোধন করলেন এমপি রেজাউল ইসলাম রেজু ইসলামপুরে ইয়াবাসহ যুবক আটক, ৬ মাসের কারাদণ্ড রাণীনগরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৭০ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা নওগাঁর মান্দায় সিএনজির ধাক্কায় ভ্যানচালকের মৃত্যু মান্দায় ভীমরুলের চাক পোড়াতে গিয়ে বসতবাড়িতে অগ্নিকান্ড সাপাহারে কৃষিজমিতে অবৈধ ইটভাটা: লাখ টাকা জরিমানাসহ মুচলেকা আদায়

ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব: রাজশাহীতে ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বর, ডেঙ্গু আতঙ্ক

দিনকাল বিডি ২৪ / ২৮২ Time View
প্রকাশঃ শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

মাসুদ রানা রব্বানী , রাজশাহী: মুনাঈম ইসলাম অহি’র বয়স দুই বছর। ওর জ্বর ছিলো টানা পাঁচ দিন। সঙ্গে সর্দি-কাশিও ছিলো। হঠাৎ করেই জ্বর ১০২ থেকে ১০৩ ডিগ্রি হয়ে যেত। সাপোজিটরি দিয়েও কমানো সম্ভব হতো না। কিছু খেতে পারতো না। বমিও করতো। এই পাঁচ দিনে ওর ওজন কমেছে এক কেজিরও বেশি। বলছিলেন রাজশাহী নগরীর এয়ারপোর্ট থানা এলাকার বায়া বাজারের বাসিন্দা লুতফোর নেসা।
তিনি বলেন, প্রথমে ডেঙ্গুর আতঙ্ক হয়ে পড়েছিলাম। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু টেস্ট করানো হয়। টেস্টগুলো সবই স্বাভাবিক আসে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল, এজিথ্রোমাইসিন ও লেভোসালমিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি নাকে ড্রপ দিতে হয়েছে। নেবুলাইজেশনও করতে হয়েছে। এখন জ্বর না থাকলেও কাশি রয়ে গেছে এবং বেড়েছে জেদ।
লুতফোর নেসা জানান, তার ছেলের পর তার মেয়ে মেহ্রুজ নাফিসা ও হাজবেন্ডও সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। জ্বর ১০০ এর নিচে নামছে না কারো। কাশিও রয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন পাঁচ দিন পর কমবে।
লুতফোর নেসা মতো রাজশাহী নগরীসহ জেলার ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি-জ্বরের প্রকোপ চলছে। ঘরে-বাইরে অনেকেই খুকখুক করে কাশছে। কেউবা নাক টানছে। চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে জ্বর-সর্দি-কাশি, গায়ে-হাতে ব্যথা নিয়ে রোগীরা আসছেন। এতে অনেকেই ডেঙ্গু আতঙ্কে ভুগছেন।
এদিকে, রাজশাহীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তাওহীদ ইসলাম (১৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাওহীদের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাটে। এ নিয়ে চলতি ডেঙ্গু মৌসুমে রামেক হাসপাতালে ১১ জন রোগীর মৃত্যু হলো। বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ১৮২ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ৯৭ জন রোগী রামেক হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে রাজশাহীর স্থানীয় রোগী ছিল ১ হাজার ৩৬৯। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ হাজার ৯০৪ জন রোগী। মারা গেছেন ১১ জন রোগী। বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৮২ জন ডেঙ্গু রোগী। আর এখন স্থানীয় রোগীই বেশি।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ঋতু পরিবর্তনের কারণে রাত ও দিনের তাপামাত্রার তারতম্য হওয়ায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে কিছু ভাইরাস। বিশেষত, সিজনাল ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপই বেশি। জ্বর-সর্দি-কাশির তীব্রতা থাকছে তিন থেকে সাত দিন। জ্বর সেরে গেলেও শুকনো কাশি, দুর্বলতা ভোগাচ্ছে অনেককে। অন্যান্য ইনফ্লুয়েঞ্জার মতোই এ ক্ষেত্রেও একসঙ্গে পরিবারের একাধিক সদস্য জ্বর-সর্দি-কাশিতে ভুগছেন। অনেকের গলাব্যথাও হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিচলিত হওয়া যাবে না। জ্বর কিংবা ঠান্ডা, গলা খুসখুস মানেই করোনা নয়। জ্বর হলেই আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
দেশে দিন-রাতের তাপমাত্রা বাড়ছে-কমছে। এই রোদ এই বৃষ্টি। এই গরম, এই ঠান্ডা। খেয়ালি এই আবহাওয়ার সঙ্গে বাড়ছে সর্দি-কাশি-জ্বরের মতো মৌসুমি রোগ। নগরীসহ জেলার গ্রামের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোয়ও প্রতিদিন বাড়ছে জ্বর, সর্দি, কাশি, শরীর ব্যথা নিয়ে আসা রোগীর ভিড়। কেউ আবার বাসায় বসে ঘরোয়া চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে এ উপসর্গগুলো ব্যাপক হারে দেখা দিচ্ছে। শুধু শিশু নয়, গর্ভবতী মা’সহ সব বয়সিই এতে কাবু হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রামেক হাসপাতালের আউটডোরে বেশির ভাগ শিশুই জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে আসছে। হাঁচি-কাশির সঙ্গে শরীরে তীব্র ব্যথাও হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কিছু মানুষের ডেঙ্গু ধরা পড়লেও অধিকাংশই ভাইরাস ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত।
রাজশাহী নগরীর শিশু বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এখন শিশুদের মধ্যেও জ্বর, সর্দি-কাশির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সাধারণ জ্বর এবং ডেঙ্গুজ্বর দুটিই শিশুদের জন্য খারাপ। যেহেতু তিনদিনের মধ্যে ডেঙ্গু শনাক্ত করা যায়। তাই শিশুদের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাটা করালেই হয়। ডেঙ্গু না হলে দুশ্চিন্তার কারণ নেই। এখন মৌসুমি জ্বরের প্রকোপ লক্ষণীয়। এ ক্ষেত্রে বাসায় চিকিৎসা নিলে শিশুরা সুস্থ হয়ে উঠবে। তবে ডেঙ্গু হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
চিকিৎসকরা জানান, গলাব্যথা, খুসখুস ভাব, নাক বন্ধ বা অনবরত হাঁচি, মাথাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, শরীর ম্যাজম্যাজ, দুর্বল লাগা ও ক্ষুধামন্দা দেখা দিলে চিকিৎসা করাতে হবে। উপসর্গে সাইনাস, টনসিলে প্রদাহ হতে পারে। সতেজ ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পানি পানের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে আদা-লং-এলাচ-লেবু চা, তুলসী পাতা, মধু ও লেবুর রসসহ দেশীয় ফলের রস পান করার জন্যও বলা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category