এম, এ কাশেম জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :: জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে খুন হওয়া চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মোহাম্মদ সুমন (৩৭) হত্যা মামলার ৩ আসামিকে ফেনীর ছাগলনাইয়া থেকে আটক করেছে র্যাব-৭।
বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে দুর্গাপুর থেকে এজাহারভুক্ত মোঃ আবুল মুনছুর প্রকাশ মিলন (৩২) ও মোঃ মামুন (৬৪) এবং সন্দিগ্ধ আসামি নুরুন্নাহার বেগম প্রকাশ মিনা (৪৮) কে আটক করা হয়।
আটককৃতরা সীতাকুণ্ডের কমর আলীর ১ নং সৈয়দপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ বগাচতরের হাক্কানী বাড়ির বাসিন্দা বলে জানা র্যাব সূত্রে গেছে।
র্যাব ৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোঃ শরীফ উল আলমের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি এবং ছায়া তদন্ত অব্যাহত রেখেছিল র্যাব।
নজরদারির এক পর্যায়ে র্যাব-৭ গোপন সূত্রে জানতে পারে যে, বর্ণিত হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ১ ও ২ নং আসামি এবং সন্দেহভাজন অপর ১ জন আসামি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানাধীন দুর্গাপুর এলাকায় অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয় তারা।
পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তারা হত্যা মামলার পলাতক আসামি বলে স্বীকার করে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, তারা মামলা দায়েরের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার এড়াতে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে আসছিলো।
গত ৮ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে মোঃ আবুল মুনছুর প্রকাশ মিলন এবং মোঃ মামুন পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভিকটিম মোহাম্মদ সুমনকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড এবং ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি শরীরের বিভিন্ন স্থানে কয়েক দফায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এ সময় স্থানীয় মোঃ আমজাদ হোসেন ও মোঃ জহির উদ্দিন ভিকটিমকে দ্রুত সিএনজি অটোরিক্সায় সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে আইসিইউর সিট খালি না থাকায় ভিকটিমকে আইসিইউ সাপোর্টের জন্য চট্টগ্রামের বেসরকারি রয়েল হসপিটালে ভর্তি করা হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিম গত ১০ আগস্ট আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টায় মারা যান।
এর পর ভিকটিমের ভাই মোঃ সুজন বাদী হয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আটক ৩ আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।