এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম থেকে :চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মেহেরুন্নেছা নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় মডেল থানা পুলিশ।২৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) বিকেলে হাটহাজারী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড আলীপুর এলাকার হাজী কবির আহম্মদের বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, গৃহবধূ মেহেরুন্নেছা (২৩) কে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে শ্বশুর পক্ষের লোকজন।
এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের দেবর মোঃ সাইফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
নিহত মেহেরুন্নেছা ওই গ্রামের বশির আহাম্মদের পুত্র প্রবাসী ওয়াহিদুল আলম মঞ্জুর স্ত্রী এবং উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের লাল মিয়া মিস্ত্রীর বাড়ির আবদুল কাদেরের মেয়ে। গত বছরের অক্টোবরে পারিবারিক ভাবে মেহেরুন্নেছার সাথে মঞ্জুর বিয়ে হয়।
থানা পুলিশ সূত্র ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিয়ের পর ছুটি শেষে মঞ্জু দেড় মাস পূর্বে বিদেশে কর্মস্থলে ফিরে যায়। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিলো। ঘটনার দিন মঙ্গলবার রাতে প্রতিদিনের মতো খাবার শেষ করে নিজের রুমে ঘুমাতে যায় ওই গৃহবধূ। পরদিন বুধবার সকালে পরিবারের সবাই ঘুম থেকে উঠে যে যার কাজে চলে যায়।
এদিকে বেলা ১০টা পেরিয়ে গেলেও গৃহবধূ মেহেরুন্নেচ্ছা তার শয়ন কক্ষের রুম না খোলায় পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাকাডাকি করে। কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখতে পায় ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থা তার দেহ ঝুলছে।
খবর পেয়ে মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
নিহতের খালু মোঃ ফোরকান স্থানীয় সাংবাদিকদের কে বলেন, ‘যৌতুকের জন্য দেবর, ননদ ও শাশুড়ি গৃহবধূ মেরুন্নেচ্ছাকে বিভিন্ন সময় মানসিক নির্যাতন করত। শ্বশুরপক্ষের লোকজন তাদের মেয়েকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করছে। আমরা এ ঘটনায় মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধারকারী হাটহাজারী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলি আকবর বলেন, ‘লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দিয়েছি। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দেবরকে আটক করা হয়েছে।’
ব্যাপারে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি লাশ উদ্ধারের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সত্যতা সাপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’