এম, এ কাশেম জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম:
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় চট্টগ্রাম মহানগরীর মুরাদপুরে সংঘর্ষে ৬ তলা ভবনের ছাদ থেকে ছাত্রলীগ কর্মীদের ফেলে দেয় দৃর্বৃত্তরা।
ওই ঘটনায় দায়ের করা ৫ মামলায় এ পর্যন্ত ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।এ ছাড়া সহিংসতায় দায়ের করা অন্যান্য মামলায় ২৪ ঘণ্টায় আরো ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে নগর পুলিশ ৪০ জন এবং জেলা পুলিশ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে।
রবিবার (২৮ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (জনসংযোগ) কাজী মোঃ তারেক আজিজ ও জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু তৈয়ব মোঃ আরিফ হোসেন এসব তথ্য জানান।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (জনসংযোগ) কাজী মোঃ তারেক আজিজ জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীতে কোটাবিরোধী আন্দোলনে হত্যা, দাঙ্গা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও নাশকতার ২০ মামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ জন সহ মোট ৫১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া নগরীর পাঁচলাইশ থানায় ছাত্রলীগ কর্মীদের ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে গুরুতর আঘাতের মাধ্যমে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নতুন করে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আর সেই মামলায় এজাহার নামীয় আসামি করা হয়েছে ৫০ জনকে। এক-ই সাথে ৩০-৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু তৈয়ব মোঃ আরিফ হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম জেলায় কোটা সংস্কার আন্দোলনে হত্যা, দাঙ্গা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও নাশকতার ঘটনায় প্রায় ৪ হাজার জনকে আসামি করে ১১টি মামলা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১১ মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে ৩৮১ জন।’এদিকে ১৬ জুলাই মুরাদপুরের করিম আইকনিক টাওয়ার থেকে ছাত্রলীগ কর্মীদের ছয়তলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে ফেলা দেয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগীরা বাদী হয়ে মোট ৫টি মামলা দায়ের করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমপি পাঁচলাইশ জোনের সহকারী কমিশনার মোঃ আরিফ হোসেন সংবাদ মাধ্যম কে বলেন, নগরীর ‘মুরাদপুরের একটি ভবনের ছাদ থেকে ৫ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে আহতবস্থায় ফেলে হত্যাচেষ্টার ৫ মামলায় এ পর্যন্ত ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ১৬ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর মুরাদপুরে আন্দোলনকারীদের সাথে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দফায় দফায় সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হন। পরে ১৮ জুলাই চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাটে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষে আরও ২ জন নিহত হন। ২৩ জুলাই গুলিবিদ্ধ হয়ে হৃদয় চন্দ্র তরুয়া নামে এক শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে কোটা আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষে ৬জন মারা গেছেন।
এ ছাড়া ২৬ জুলাই ভোরে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল মজিদ (২০) নামে একজন পরিবহন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তিনি মুরাদপুরে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে দগ্ধ হন।