এম, এ কাশেম জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :: গত দুুই বছর পূর্বে উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেনের গাড়িবহরে হামলা-ভাঙচুর ও আহত করার অভিযোগে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও তার পুত্র গত নির্বাচনে জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম ১ মীরসরাই আসনে নির্বাচিত ঘোষিত হওয়া মাহবুবুর রহমান রুহেল সহ ৬২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এজহার নামীয় ১২৬ জন সহ অজ্ঞাত আরো ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
২৪ অক্টোবর (বৃহষ্পতিবার) রাতে উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই থানায় মামলাটি করেন ফেনী সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ শাহাদাত হোসেন চৌধুরী।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, আওয়ামী দলীয় সাবেক তিন উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন, মোঃ জসিম উদ্দিন ও মোঃ এনায়েত হোসেন নয়ন, মীরসরাই পৌরসভার সাবেক মেয়র মোঃ গিয়াস উদ্দিন, বারইয়ারহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র রেজাউল করিম খোকন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর ভূইয়াঁ, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিট, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন চৌধুরী তপু, মীরসরাই উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মাঈনুর ইসলাম রানা, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল ভূঁইয়া সহ মীরসরাই উপজেলার ১৬ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং মীরসরাই পৌরসভার সব কাউন্সিলরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০০জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী মোঃ শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, গত ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কর্মসূচি চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে যাওয়ার সময় মীরসরাই পৌরসভার মহাসড়কে ফুটওভারব্রীজ এর নিচে পৌঁছালে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নির্দেশে ইশরাক হোসেনের গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর চালায়। এবং হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে সহ তার সফরসঙ্গীদের রক্তাক্ত আহত করে। অনেকের পরনের কাপড় খুলে উলঙ্গ করে মারধর করে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সন্ত্রাসীরা। আহতদের হাসপাতালে নিতেও বাঁধা দেয় তারা। আবদুল আওয়াল মিন্টু সাহেবের ভাই আকবর সাহেবের গাড়ি ভেঙ্গেচুরে তছনছ করে সন্ত্রাসীরা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিবাদীগন সন্ত্রাসী বাহীনি দিয়ে রাজত্ব কায়েম করে। বাদী আরো উল্লেখ করেন, ১২ অক্টোবর ২০২২ সালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ সমাবেশ থাকায় বিএনপি’র ঢাকা মহানগর দক্ষিন ও আন্তর্যাতিক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন এর গাড়ী বহরের সাথে আমাদের গাড়ী সহ সর্বমোট প্রায় ৫০-৬০ টি গাড়ী ছিলো। ইশরাক হোসেন এর গাড়ী বহরের সাথে ফেনী জেলা যুবদল, ছাত্রদল সহ গাড়ীবহর যুক্ত হয়ে চট্টগ্রাম জেলা সদরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করি।
আমাদের গাড়ী বহর ১৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টায় মীরসরাই থানা পার হয়ে ২শ গজ সামনে পৌঁছালে উল্লেখিত ১-৫ নং বিবাদীদের নির্দেশে রাম দা, ছুরি সহ দেশী/বিদেশী অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ককটেল/বোমা বিস্পোরণ ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। গাড়ীবহরে অতর্কিত হামলা করে গাড়ী ভাংচুর সহ হত্যার উদ্দেশ্যে আমাদের মারধর করিয়া আমি সহ আমাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। প্রায় ৩০ টি গাড়ি ভাংচুর করে প্রায় এক কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকার ক্ষতি করে। এ ছাড়া ও আমাদের বিভিন্ন জনের মোবাইল এবং পকেটে থাকা নগদ প্রায় এক কোটি টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
এ প্রসঙ্গে মীরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, মীরসরাই থানায় মোঃ শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বাদি হয়ে ইশরাক হোসেনের গাড়ি বহরে হামলার অভিযোগে মামলা করেছেন। আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।