• বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
শ্রমিক সংকট প্রকট রাণীনগরে কালবৈশাখীর তান্ডবে ইরি ধান নূয়ে পড়ায় ফলন বিপর্যয়ের আশংকা রাজশাহীতে মোটর শ্রমিকদের মানববন্ধন, ইউনিয়ন কমিটি বাতিল ও নির্বাচনের দাবি বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নে রাসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের সুপারভাইজারদের সাথে মতবিনিময় কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে পার্বতীপুরে তৃতীয় পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত নওগাঁর আত্রাইয়ে ঝড়ে গাছ পড়ে অন্তঃসত্ত্বা বেদে পল্লীর গৃহবধূর মৃত্যুে: পরিদর্শনে এসপি তারিকুল ইসলাম লালপুর–ঈশ্বরদী মহাসড়কে থামছে না মৃত্যুর মিছিল ডিভাইডার নির্মাণ এখন সময়ের দাবি জাতীয় জুডো প্রতিযোগিতায় বাউয়েট শিক্ষার্থীর সাফল্য নাটোরে ৭ বছরের শিশুকে ২১ বছর দেখিয়ে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি করায় বাদিকে আদালতের নোটিশ।শিশুকে জামিন প্রদান মহাদেবপুরে টাপেন্টাডলসহ গ্রেপ্তার ১, সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ ৪ জন জেলহাজতে

শ্রমিক সংকট প্রকট রাণীনগরে কালবৈশাখীর তান্ডবে ইরি ধান নূয়ে পড়ায় ফলন বিপর্যয়ের আশংকা

দিনকাল বিডি ২৪ / ১৭ Time View
প্রকাশঃ বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি,

নওগাঁর রাণীনগরে সোমবার ভোর রাতে কাল বৈশাখীর তান্ডবে উঠতি ইরি-
বোরো ধান জমিতে নূয়ে পড়েছে। পাকা ধানগুলো কাটার আগে এমন প্রাকৃতিকব দূর্যোগে ফলন
বিপর্যয়ের আশংকা করছেন চাষিরা। বৈশাখ মাসের ঘনকালো মেঘ যেন চাষিদের মনে আতংকের ভাঁজ
পরছে। কৃষি বিভাগ চাষিদের বাড়ি বাড়ি কিম্বা মাঠে গিয়ে যত তড়াতাড়ি সম্ভব পাকা ধান কেটে
ঘরে তোলার পরামর্শ দিচ্ছে। কিন্ত শ্রমিক সংকট যেন চাষিদের আতংকের নতুন মাত্রা যোগ দিয়েছে।
প্রতি বছর এই সময় দেশের দক্ষিন জেলাগুলো থেকে শ্রমিক আসলেও এবছর তেমন শ্রমিক আসছে না। ফলে
মাঠে যে পরিমান ধান পেকেছে শ্রমিক সংকটের কারণে চাষিরা ইচ্ছেমত ধান কাটতে পারছে না। কম-
বেশি যে শ্রমিকগুলো পাওয়া যাচ্ছে তারা আবার ধান নূয়ে পরার কারণে বিঘা প্রতি অতিরিক্ত টাকা
চাচ্ছে। বাড়ির অদূরে জমি থেকে ধান কাটতে শ্রমিকরা ৭ থেকে ৮ হাজার টাকার নিচে প্রতি বিঘা
ধান কাটতে তারা নারাজ। এদিকে প্রাকৃতিক দূর্যোগ, বাজার দর কম, এবং শ্রমিক সংকট প্রকোট
হওয়ায় এলাকার চাষিদের সোনলাী হাঁসির বদলে এখন কপালে চিন্তার ভাঁজ।
উপজেলার হরিশপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আহাদ বলেন, আমি সোয়া তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি।
সোমবার ভোর রাতে কাল বৈশাখী ঝড়ে প্রায় সব ধান মাটিতে নূয়ে পড়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে
ধানগুলো কাটতে পারছি না। এলাকার শ্রমিকরা প্রতি বিঘা জমির ধান কাটতে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা
চাচ্ছে। আকাশ খারাপের কারণে ধানের দমও কমতির দিকে। সব মিলে এবার লোকসানের আভাস দেখতে পাচ্ছি।
আজও আকাশের অবস্থা ঘনকালো মেঘে আচ্ছান্ন। যে কোন সময় ঝড়-বৃষ্টি নামতে পারে।
জানা গেছে, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে ১৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-
বোরো ধান চাষ করা হয়। উপজেলার পশ্চিমাংশে বিল মুনসুর ও বিল চৌর ও নওগাঁর ছোট যমুনা নদী বেষ্টিত
নিম্নাঞ্চল হওয়ায় উর্বরা পলি মাটির জমিতে একমাত্র ইরি-বোরো ধান ব্যাপক আকারে চাষ হয়েছে। ধানের
বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও কাল বৈশাখীর তান্ডবে চাষিদের মুখে এখন ফলন বিপর্যয়ের বিষাদের সুর।
এদিকে ধান কাটার শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারন করেছে। শ্রমিকের মজুরি গুনতে হচ্ছে চড়া দামে।
তবুও কৃষক যে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগের আশংকায় শ্রমিকদের চড়া মজুরি দিয়ে আগে ভাগে
জমির পাকা ধান কেটে ঘরে আনার চেষ্টা করছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, সঠিক সময়ে ধানের বীজ বপন, চারা উৎপাদন
ও কৃষকরা সময় মতো সার সেচ ব্যবহারসহ আবহাওয়া অনুকুল থাকায় এ বছর ধানের বাম্পার ফলনের
সম্ভাবনা থাকলেও হঠাৎ করে কাল বৈশাখীর তান্ডবে ফলন কিছুটা কম হতে পারে। তবে আকাশ ভালো হওয়ার
সাথে সাথে ফলনে ক্ষতির পরিমান কিছুটা কমে আসবে। এই মৌসুমে ১৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-
বোরো ধান হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমির ধান নূয়ে পরেছে। উপজেলা
নির্বাহী অফিসারের নের্তৃত্বে আমরা কৃষি বিভাগ সব সময় মাঠে আছি। চাষিদেরকে যত তাড়াতাড়ি
ধান কেটে ঘরে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। গত তিন দিন ধরে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category