নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁয় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের একজনের সন্ধান না পাওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক ওয়ার্ডবয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে নওগাঁ সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নবজাতকের স্বজনরা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম জিহাদ হোসেন। তিনি আত্রাই উপজেলার মুসকিপুর গ্রামের আজাদুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শান্ত ইসলাম ও তার স্ত্রী শান্তনা আক্তারের (৩০) গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে বলে গত ১২ ও ২১ অক্টোবর পৃথক দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়। উভয় পরীক্ষার প্রতিবেদনেই গর্ভে দুটি জীবিত ভ্রূণ থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়। এমনকি ভ্রূণ দুটির হৃদস্পন্দন ও সম্ভাব্য ওজনও আলাদাভাবে উল্লেখ ছিল।
এরপর চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শান্তনা আক্তারকে নওগাঁর বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে ওই চিকিৎসকের অধীনেই তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের কাছে একটি কন্যাশিশু হস্তান্তর করা হলেও অপর নবজাতকের বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
নবজাতকের মা শান্তনা আক্তার জানান, অস্ত্রোপচারের আগে তাকে যমজ সন্তান হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সিজারের পর একটি শিশুকে দেখানো হলে অপর শিশুর বিষয়ে জানতে চান তিনি। এ সময় অস্ত্রোপচারের ক্ষত সেলাই না করে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ফেলে রাখা হয় এবং ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি মেনে না নিলে তাকে ওই অবস্থায় রেখে দেওয়ার কথাও বলা হয় বলে দাবি তার।
নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলাম বলেন, ‘বলাকা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর একটি সন্তান আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপর সন্তানটির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তা ধামাচাপা দিতে আর্থিক প্রস্তাব দিচ্ছেন।’
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার নওগাঁ সদর থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।
তবে বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক বলেন, রোগী চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনিই অস্ত্রোপচার করেছেন। সন্তান একটি হয়েছে নাকি দুটি, সে বিষয়ে চিকিৎসকই বলতে পারবেন। এ ব্যাপারে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কিছু জানে না।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য দেননি।
নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিন্টু রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।