• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য: কৃষিমন্ত্রী রাজশাহীতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সেবার মান বাড়াতে কমিশনারের নির্দেশনা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় নওগাঁর মান্দায় কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত নওগাঁ জেলা জামায়াতের নেতৃত্বে পরিবর্তন, নতুন আমির মাহফুজুর রহমান নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য হলেন প্রভাষক আবু সাঈদ কুষ্টিয়ায় মৃত চেয়ারম্যানের নামে ১০৭ বস্তা চাল বরাদ্দ ফুলবাড়ী উপজেলার মাদিলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাণীনগরে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু কৃষকের ঘরে আসছে নতুন সোনালী ফসল রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।।

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে আতঙ্কের পাশাপাশি বাড়ছে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা

দিনকাল বিডি / ২২০ Time View
প্রকাশঃ সোমবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২২

বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাট জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে মুষলধারায় বৃষ্টি। সোমবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০ টার পর থেকে ক্রমান্যয়ে বৃষ্টির পরিমান বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ছে হালকা এবং মাঝারি ধরনের দমকা হাওয়া। উপকুলীয় এলাকার জনসাধারন ছাড়াও বাগেরহাটবাসী চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তাদের ধারনা যদি ঘূর্নিঝড় সিত্রাং আঘাত হানে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে বাগেরহাটবাসী।
সোমবার বিকাল পর্যন্ত জেলার মোংলা, শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩২ হাজার মানুষ আশ্রয়ন কেন্দ্রে পৌঁছেছেন। এছাড়া অতি দূর্যোগ প্রবণ এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা মানুষকে আশ্রয়ন কেন্দ্রে যেতে সহযোগিতা করছে। এর আগে গতকাল রাত থেকে সতর্কতামূলক মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন ও কোস্টগার্ড।
এ দিকে সময় যত বাড়ছে বৃষ্টি ও বাতাসের গতি দ্রæত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ঝড়ের সময় যত এগিয়ে আসছে উপকূলবাসীর আতঙ্ক তত বাড়ছে। মোড়েলগঞ্জ উপজেলার মোঃ জাকির হোসেন বলেন, সোমবার সকাল থেকেই বৃষ্টি ও বাতাসের পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রæত পানির পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে । এভাবে যদি কয়েক ঘন্টা চলে তাহলে আমাদের সকল ঘেরই পানিয়ে ডুবে যাবে। আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। আল্লাহ জানে ঝড়ের সময় কি হবে।
বাগেরহাট শহরের জাহিদুল হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী জানান, বৃষ্টিতে বাগেরহাট শহরের সুপারি পট্টি, ফল পট্টি, কাপড় পট্টি,রাহাতের মোড়সহ শহরের অনেক জায়গায় ও দোকানে পানি উঠে গেছে। যে ভাবে বৃষ্টি হচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে বাগেরহাটে অনেক ব্যবসায়ী মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
মোরেলগঞ্জ উপজেলার বহর বুনিয়া এলাকার হাফিজুর রহমান বলেন, সিত্রাং যদি সিডরের মত রূপ নেয়, তাহলে আমরা খুব বিপদে পড়ে যাব। নদীবেষ্টিত আমাদের এই ইউনিয়নকে ঝড় জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার জন্য কোনো বাঁধও নেই। জলোচ্ছ্বাস হলে অনেক জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এ ধরনের হাজারো মানুষ জীবন ও জীবিকা নিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তাদের ধারনা এই সংকট কালে যদি আবারো সিত্রাং এর কারনে সিডরের মত কোন ঘটনা ঘটে তাহলে তার ক্ষতি কোন ভাবেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।
এদিকে সিত্রাং মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, আমাদের ৩৪৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের আশ্রয়ণকেন্দ্রে নেওয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া ২৯৮ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন দেখা দিলেই সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
এদিকে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে সাবধান থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলার স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লে. কমান্ডার মো. মহিউদ্দিন জামান।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর ও বিভিন্ন নদ-নদীতে থাকা নৌযানগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরের উপকূলে ঝুঁকির মধ্যে থাকা বাসিন্দাদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে। যদি ঘূর্ণিঝড় আমাদের এলাকায় আঘাত হানে তাহলে তাদের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র অথবা কোস্টগার্ডের বেজ ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং-এ রূপ নিয়েছে। ক্রমশ এটির শক্তি বাড়ছে। ফলে মোংলা সমুদ্রবন্দরকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। খুলনা অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category